
এল নিনো গ্লোবাল ফেনোমেনা। অর্থাৎ এর প্রভাব বিশ্বব্যাপী। এই এল নিনোর প্রভাবেই এ বছর বর্ষার ঘাটতি দেখা গিয়েছে গোটা ভারতে। তবে পশ্চিমবঙ্গে এর প্রভাব কেমন? এই নিয়ে বিস্তারিত জানালেন আলিপুর আবহাওয়া দফতরের আঞ্চলিক অধিকর্তা ড. হাবিবুর রহমান।
আবহাওয়া দফতরের আঞ্চলিক অধিকর্তা বলেন, 'কোনও নির্দিষ্ট এলাকার উপর এল নিনোর নির্দিষ্ট প্রভাব কেমন থাকবে তা বলা সম্ভব নয়। এ বছর দেশজুড়ে বৃষ্টি কম হওয়ার পূর্বাভাস ছিল। তেমনটাই হয়েছে এল নিনোর প্রভাবে। তার মধ্যেও বিভিন্ন রাজ্যের ক্ষেত্রে তারতম্য ছিল।'
এল নিনোর প্রভাব সাধারণত বড় এলাকা জুড়ে পড়ে। এমনটাই জানালেন ড. হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, 'ওড়িশাতে বেশি বৃষ্টি হয়েছে, আবার বিহারে কম হয়েছে।'
দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে বিদায় নিচ্ছে বর্ষা। বাংলায় অবশ্য এখনও বিদায়ের দিনক্ষণ জানা যায়নি। এ প্রসঙ্গে আলিপুর আবহাওয়া দফতরের আঞ্চলিক অধিকর্তা বলেন, 'অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে বর্ষা এ রাজ্য থেকে বিদায় নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ৮-১৪ অক্টোবরের মধ্যে বর্ষা বিদায়ের পূর্বাভাস রয়েছে।' কিন্তু শেষলগ্নে এসেও কলকাতা সহ জেলায় জেলায় বজ্রপাত সহ বৃষ্টির কারণ কী? ব্যাখ্যা দিয়ে ড. হাবিবুর রহমান বলেন, 'যখন মৌসুমী বায়ু ফিরে যাওয়ার সময় আসে তখন মাঝেমধ্যেই এমন বজ্রগর্ভ মেঘ সঞ্চার হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়। তার জন্য বাতাসের গতিপ্রকৃতি বিভিন্ন স্তরে প্রয়োজন হয়। ঝাড়খণ্ড থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত নিম্নচাপ রেখা রয়েছে। প্রতিদিনই পরিবর্তন এগুলি। একটু রৌদ্রজ্জ্বল আবহাওয়ার মধ্যে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টিপাত হওয়াই স্বাভাবিক এই বর্ষা বিদায়ের সময়ে। তবে বজ্রপাত হলেও বিদ্যুৎ চমকানো কম হয়। পূর্ব ভারতের ক্ষেত্রে মৌসুমী বায়ু ১০ অক্টোবরের আগে ফেরে না। এটাই স্বাভাবিক। ফলে এই সময় আকাশ এমনই থাকে।'