
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে রাজ্যের ৭১ জন বিধায়কের ভোট গিয়েছে এনডিএ প্রার্থী দ্রৌপদী মুর্মুর ঝুলিতে। তৃণমূল-সহ বিরোধী জোটের প্রার্থী যশবন্ত সিনহা পেয়েছেন ২১৬ জন বিধায়কের ভোট। রাজ্যে বিজেপির ভোট ৭০। সেখানে বাড়তি ১টি ভোট কোথা থেকে এল? উঠতে শুরু করেছে সেই প্রশ্ন।
গত বিধানসভা ভোটে এ রাজ্যে ৭৭টি আসন পেয়েছিল বিজেপি। সাংসদ আসন রাখতে ইস্তফা দেন নিশীথ প্রামাণিক ও জগন্নাথ সরকার। তার পর মুকুল রায় যোগ দেন নাম লেখান শাসক শিবিরে। সেই পথে একে একে তৃণমূলে চলে যান বাগদার বিশ্বজিৎ দাস, বিষ্ণুপুরের তন্ময় ঘোষ, রায়গঞ্জের কৃষ্ণ কল্যাণী এবং কালিয়াগঞ্জের সৌমেন রায়। ফলে খাতায়কলমে ৭৫ হলেও আদতে বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ৭০। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রাক্কালে ৭০ বিধায়কের ভোট নিশ্চিত করতে চেয়েছিল বিজেপি। এনডিএ প্রার্থী দ্রৌপদী মুর্মু পেলেন ৭১টি ভোট। এই বাড়তি ভোট কে দিল? উঠছে প্রশ্ন। উল্লেখ্য, বিজেপি ও তৃণমূল ছাড়া সংযুক্ত মোর্চার আইএসএফ বিধায়ক ভোট দেননি।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ফলপ্রকাশের আগে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছিলেন,'৭০ জনের বেশি ভোট পড়বে। সেটাই হয়েছে। শুভেন্দু টুইট করেছেন,'আমার প্রতিশ্রুতি মিলিয়ে দ্রৌপদী মুর্মুর সমর্থনে ভোট দিয়েছেন রাজ্য বিজেপির ৭০ বিধায়ক। তৃণমূল এক বিধায়ক ক্রসভোটিং করেছেন। ৪ জন বিধায়ক নিজের ভোট যাতে বাতিল হয় তা সুনিশ্চিত করেছেন। রাজ্য বিধানসভা থেকে ৭১টি ভোট পেয়েছেন দ্রৌপদী মুর্মু।'
তৃণমূলের পাল্টা দাবি, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে গুরুত্ব পেতে অসত্য কথা বলছেন। এই তথ্য পেলেন কোথা থেকে?
বলে রাখি, দেশজুড়ে দ্রৌপদী মুর্মুর পক্ষে ক্রসভোটিং হয়েছে। বিরোধী দলের অনেকেই এনডিএ-র দ্রৌপদী মুর্মুকে ভোট দিয়েছেন। বিজেপির দাবি, ১২৫ জনের কাছাকাছি বিরোধী বিধায়কের ভোট পড়েছে। অসম, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায় বিরোধী বিধায়করা দ্রৌপদীকে চেয়েছেন। অসমের ২২, মধ্যপ্রদেশের ২০, বিহার ও ছত্তিসগঢ়ের ৬, গোয়ার ৪ ও গুজরাতের ১০ বিধায়ক ক্রস ভোট দিয়ে থাকতে পারেন বলে খবর।