
কোনও মিষ্টির দাম ১ লক্ষ টাকা কিলো! কোনও সন্দেশের একটির দামই ১০ হাজার টাকা। দীপাবলিতে ভারতের সবচেয়ে দামী মিষ্টি বানিয়ে তাক লাগাল জয়পুর। রাজস্থানের জয়পুরে এ বার দীপাবলির মিষ্টিকে স্বাদ, আভিজাত্য এবং অভিনব উপস্থাপনার মেলবন্ধনে এক অন্য মাত্রা দেওয়া হল। ‘ত্যোহার অশরফি’ নামে একটি বিশেষ মিষ্টির দাম কেজি প্রতি ১ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা। দেখতে অনেকটা সোনার মোহরের মতো। প্রতিটি টুকরোর ওজন প্রায় ৯ গ্রাম। দাম ১ হাজার ১১১ টাকা। আবার ৯টি মিষ্টির একটি বাক্সের দাম রাখা হয়েছে ৯,৯৯৯ টাকা।
শুধু অশরফিই নয়, দীপাবলি উপলক্ষে তৈরি হয়েছে ন'টি রত্নের রং ও স্বাদের অনুকরণে বিশেষ কাজু কাতলি, সোনার প্রলেপ দেওয়া মিষ্টি এবং বাজির আদলে তৈরি উপহারের বাক্স। সব মিলিয়ে মিষ্টির পাশাপাশি উপহার দেওয়ার আয়োজনেও অভিনবত্ব এনেছেন জয়পুরের মিষ্টি প্রস্তুতকারীরা।
জয়পুরের ‘ত্যোহার বাই অঞ্জলি জৈন’ সংস্থার তৈরি এই বিশেষ মিষ্টি অনুপ্রাণিত হয়েছে রাজা-মহারাজাদের সোনার অশরফি উপহার দেওয়ার ঐতিহ্য থেকে। বাদামের মিশ্রণ দিয়ে তৈরি এই মিষ্টিতে ব্যবহার করা হয়েছে ভোজ্য ২৪ ক্যারেট সোনার প্রলেপ, স্বর্ণভস্ম এবং উন্নত মানের জাফরান। দেখতে অনেকটা সোনার কয়েনের মতো। উপরে সাজানো হয়েছে জাফরানের সুতো দিয়ে।
এই মিষ্টির দাম কেজি প্রতি ১ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা। প্রতিটি টুকরোর ওজন প্রায় ৯ গ্রাম এবং দাম ১,১১১ টাকা। ন'টি মিষ্টির বাক্স কিনতে খরচ করতে হবে ৯,৯৯৯ টাকা। শুধু মিষ্টি নয়, এর প্যাকেজিংও বিশেষ আকর্ষণ। গয়নার বাক্সের আদলে তৈরি হয়েছে মিষ্টির বাক্স। ফলে বিশেষ অনুষ্ঠানে বিলাসবহুল উপহার হিসেবেও এটি দেওয়া যায়। প্রস্তুতকারীদের দাবি, এই মিষ্টি প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত ভাল থাকে।
কাজু কাতলিকেও এ বার দেওয়া হয়েছে নতুন রূপ। ‘ত্যোহার নবরত্ন’ নামে এই বিশেষ মিষ্টির বাক্সে রয়েছে ন'টি আলাদা টুকরো। প্রতিটি তৈরি হয়েছে একটি করে রত্নের নাম, রং এবং স্বাদের কথা মাথায় রেখে। তালিকায় রয়েছে ইয়েলো স্যাফায়ার, হেসোনাইট, এমেরাল্ড, কোরাল, রুবি, ব্লু স্যাফায়ার, ডায়মন্ড, ক্যাটস আই এবং পার্ল।
প্রতিটি মিষ্টির স্বাদও আলাদা। ইয়েলো স্যাফায়ারে জাফরান, হেসোনাইটে ক্র্যানবেরি, এমেরাল্ডে পেস্তা, কোরালে স্ট্রবেরি, রুবিতে গোলাপের পাপড়ি এবং ব্লু স্যাফায়ারে ব্লুবেরির স্বাদ রাখা হয়েছে। ক্যাটস আই তৈরি হয়েছে কফির স্বাদে। ডায়মন্ড সাজানো হয়েছে রুপোর প্রলেপে। আর পার্ল হল সাধারণ কাজু কাতলি। এই বিশেষ মিষ্টির দাম কেজি প্রতি ৩,৩৩৩ টাকা। বিভিন্ন রং ও স্বাদের মাধ্যমে চেনা কাজু কাতলিকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
ত্যোহার সুইটসের আরও একটি বিশেষ আকর্ষণ ‘স্বর্ণ প্রসাদম’। গত বছর দাম এবং উপকরণের কারণে এই মিষ্টি যথেষ্ট আলোচনায় এসেছিল। এর দাম কেজি প্রতি ১ লক্ষ ১১ হাজার টাকা। দামি শুকনো ফল এবং ভোজ্য ২৪ ক্যারেট সোনার প্রলেপ দিয়ে তৈরি হয় এই মিষ্টি। প্রতিটি টুকরোর দাম প্রায় ৩,৫০০ টাকা।
এ ছাড়াও রুপোর ভস্ম দিয়ে তৈরি একটি বিশেষ মিষ্টির দাম কেজি প্রতি প্রায় ৭৫ হাজার টাকা। প্রতিটি টুকরোর দাম প্রায় ১,৫৫০ টাকা। এই মিষ্টিগুলিও রাখা হয় গয়নার বাক্সের মতো বিশেষ প্যাকেজিংয়ে।
ত্যোহার সুইটসের প্রতিষ্ঠাতা চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট অঞ্জলি জৈনের কথায়, প্রায় দু'বছর আগে এই ব্যবসা শুরু করেছিলেন তিনি। মিষ্টির দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে চিনির তুলনায় শুকনো ফলের ক্রমবর্ধমান দাম অনেক বেশি প্রভাব ফেলেছে। তাঁদের সংগ্রহে রয়েছে কাজু তরমুজ, কাজু আম, বাদামের ঝুড়ি এবং বিভিন্ন স্বাদের কাজু কাতলিও।
দীপাবলির উৎসবের আবহকে মিষ্টির সাজসজ্জাতেও তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ একটি থালায় বুলেট বোমা, অনার, চাকরি এবং প্রদীপের আদলে মিষ্টি সাজানো হয়েছে। দীপাবলির বাজি ও ঐতিহ্যবাহী উৎসবের নানা প্রতীক থেকে অনুপ্রাণিত এই নকশা। ফলে সাধারণ মিষ্টির বাক্সের বদলে তৈরি হয়েছে আকর্ষণীয় উৎসবের উপহার।
মিষ্টির পাশাপাশি উপহারের প্যাকেজিংয়েও রয়েছে অভিনবত্ব। দীপাবলিতে সাধারণত মিষ্টি ও শুকনো ফলের বাক্স উপহার দেওয়ার চল রয়েছে। কিন্তু জয়পুরে এ বার তৈরি হয়েছে অনার, সুতলি বোমা, অ্যাটম বোমা এবং বুলেট বোমার আদলে বিশেষ গিফটিং হ্যাম্পার। কার্ডবোর্ড দিয়ে তৈরি এই বাক্সগুলির ভিতরে রাখা যায় মিষ্টি, শুকনো ফল কিংবা চকোলেট। একটি বিশেষ বোমার আদলে তৈরি হ্যাম্পার খুললে ভিতরে তিনটি আলাদা স্তর পাওয়া যায়। প্রতিটি স্তরে আলাদা আলাদা উপহার রাখার ব্যবস্থা রয়েছে।
এ ছাড়াও তৈরি হয়েছে সম্পূর্ণ একটি দীপাবলি গিফটিং থাল। তাতে রয়েছে তুলসীর স্তম্ভ, প্রদীপ, কলস, অনার এবং বোমার আদলে তৈরি নানা সামগ্রী। প্রতিটি নকশার ভিতরেই উপহার রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। লাল, সবুজ ও সোনালি রঙে সাজানো এই হ্যাম্পার এবং থালগুলি দীপাবলির চেনা প্রতীককে নতুনভাবে তুলে ধরেছে।