কালো কিশমিশ আকারে ছোট হলেও পুষ্টিগুণে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। শুকনো আঙুর থেকে তৈরি এই খাবারে রয়েছে আয়রন, ফাইবার, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং প্রাকৃতিক শর্করা। তাই নিয়ম মেনে কালো কিশমিশ খেলে শরীরের নানা সমস্যা কমতে পারে বলে মনে করেন পুষ্টিবিদরা।
প্রথমত, কালো কিশমিশ রক্তাল্পতা দূর করতে বিশেষভাবে সাহায্য করে। এতে আয়রনের পরিমাণ বেশি থাকায় নিয়মিত খেলে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়তে পারে। যাঁরা দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ার সমস্যায় ভোগেন, তাঁদের জন্য এটি উপকারী।
দ্বিতীয়ত, হজমশক্তি ভালো রাখতে কালো কিশমিশ কার্যকর ভূমিকা নেয়। এতে থাকা ডায়েটারি ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়। বিশেষ করে সকালে খালি পেটে ভেজানো কালো কিশমিশ খেলে পেট পরিষ্কার থাকে এবং হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হয়।
তৃতীয়ত, হার্টের স্বাস্থ্যের দিক থেকেও কালো কিশমিশ উপকারী। এটি শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল কমাতে সাহায্য করে। ফলে হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমে এবং রক্ত সঞ্চালনও উন্নত হয় বলে মনে করা হয়।
চতুর্থত, ত্বক ও চুলের যত্নেও কালো কিশমিশের অবদান রয়েছে। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। এর ফলে ত্বক উজ্জ্বল হয় এবং চুল পড়ার সমস্যা ধীরে ধীরে কমতে পারে।
পঞ্চমত, কালো কিশমিশ দ্রুত শক্তি জোগাতে সক্ষম। এতে প্রাকৃতিক গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ থাকায় শরীর দ্রুত এনার্জি পায়। দীর্ঘ অসুস্থতা, শারীরিক দুর্বলতা বা শরীরচর্চার পর এটি খেলে উপকার মিলতে পারে।
ষষ্ঠত, হাড়ের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও কালো কিশমিশ উপকারী বলে মনে করা হয়। এতে থাকা ক্যালশিয়াম হাড় মজবুত রাখতে সাহায্য করে এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড়ের ক্ষয় কমাতে সহায়ক হতে পারে।
তবে কালো কিশমিশ খাওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্কতা প্রয়োজন। ডায়াবেটিস থাকলে এটি কম পরিমাণে খাওয়া উচিত। ওজন কমানোর ডায়েট চললে কিশমিশ এড়িয়ে চলাই ভালো। অতিরিক্ত খেলে গ্যাস, ডায়রিয়া বা পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা দিনে ১০–১৫টির বেশি কালো কিশমিশ না খাওয়ার পরামর্শ দেন।