ওজন কমানোর কথা উঠলেই সবচেয়ে বেশি যে দু’টি এক্সারসাইজের নাম শোনা যায়, তা হল রানিং ও সাইক্লিং। দু’টিই ক্যালোরি পোড়াতে দারুণ কার্যকর হলেও কোনটা বেশি ফলদায়ক, তা নিয়ে অনেকেরই দ্বিধা থাকে।
সাম্প্রতিক এক হেলথ বিশ্লেষণ বলছে, দ্রুত ফ্যাট কমাতে রানিং কিছুটা এগিয়ে থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে সাইক্লিংও সমান উপকারী হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন ৭০ কেজি ওজনের ব্যক্তি মাঝারি থেকে দ্রুত গতিতে দৌড়ালে ঘণ্টায় প্রায় ৫৬৬ থেকে ৮৩৯ ক্যালোরি পর্যন্ত বার্ন করতে পারেন। অন্যদিকে, একই ওজনের মানুষ মাঝারি থেকে জোরালো গতিতে সাইক্লিং করলে ঘণ্টায় আনুমানিক ৪৯৮ থেকে ৭৩৮ ক্যালোরি পোড়ে। অর্থাৎ সময়ের হিসাবে রানিংয়ে ক্যালোরি পোড়ার হার বেশি।
রানিংয়ের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল প্রতি মিনিটে বেশি ক্যালোরি বার্ন। এটি একটি ওয়েট-বিয়ারিং এক্সারসাইজ হওয়ায় পা, কোর ও শরীরের উপরের অংশ একসঙ্গে কাজ করে। ফলে শরীরের মেটাবলিজম বাড়ে এবং এক্সারসাইজ শেষের পরেও ক্যালোরি পোড়ার প্রক্রিয়া চলতে থাকে। অল্প সময়ে ফল পেতে চাইলে বা HIIT করতে চাইলে রানিং বেশ কার্যকর।
তবে রানিংয়ের একটি বড় সমস্যা হল জয়েন্টের উপর চাপ। হাঁটু বা গোড়ালির সমস্যা থাকলে কিংবা যাঁরা একেবারে নতুন, তাঁদের ক্ষেত্রে চোট লাগার ঝুঁকি বেশি। এই জায়গাতেই সাইক্লিং এগিয়ে। সাইক্লিংয়ে জয়েন্টে চাপ কম পড়ে, ফলে দীর্ঘ সময় ধরে অনায়াসে এক্সারসাইজ করা যায়।
সাইক্লিংয়ের বড় সুবিধা হল সহনশীলতা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সাইক্লিং করা সম্ভব হওয়ায় মোট ক্যালোরি বার্ন অনেক সময় রানিংয়ের থেকেও বেশি হয়ে যায়। বিশেষ করে পাহাড়ি রাস্তা বা রেজিস্ট্যান্স বাড়িয়ে সাইক্লিং করলে কোয়াডস ও গ্লুটস ভালোভাবে কাজ করে। ইনডোর স্টেশনারি বাইকেও অল্প সময়ের হাই-ইনটেনসিটি সেশন ভালো ফল দেয়।
সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের মত, ওজন কমানোর ক্ষেত্রে কোনও এক্সারসাইজই সবার জন্য ‘বেস্ট’ নয়। দ্রুত ফল চাইলে রানিং, আর দীর্ঘদিন ব্যথাহীনভাবে চালিয়ে যেতে চাইলে সাইক্লিং ভালো বিকল্প।
সবচেয়ে ভালো ফল পেতে হলে দু’টিকে মিলিয়ে করা এবং সঠিক ডায়েট মেনে দৈনিক ৩০০-৫০০ ক্যালোরির ঘাটতি তৈরি করাই আদর্শ।