১. ডেটিং অ্যাপে মিলবে সরকারি ‘ভর্তুকি’
জাপান সরকার তারুণ্যকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে একে অপরের কাছাকাছি আনতে চাইছে। লক্ষ্য একটাই, ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে সম্পর্ক তৈরি হোক, যা ভবিষ্যতে পরিণয় বা বিয়ের দিকে এগোবে। এর মাধ্যমে পড়তি জনসংখ্যার গ্রাফকে উর্ধমুখী করতে চাইছে সরকার।
২. কোচি প্রদেশের ‘ম্যাচ মেকিং’ প্রকল্প
জাপানের কোচি (Kochi) প্রদেশে চালু হয়েছে ‘মিটিং সাপোর্ট প্রজেক্ট গ্র্যান্ট’। মূলত অবিবাহিত তরুণ-তরুণীদের ডেটিং অ্যাপ ব্যবহারের খরচ মেটাতেই এই সরকারি অনুদান। সামাজিক বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে মানুষকে নতুন সম্পর্কে উৎসাহিত করাই এই প্রকল্পের আসল উদ্দেশ্য।
৩. সম্পর্কের প্রতি অনীহা ও ক্রমবর্ধমান নিঃসঙ্গতা
কেন এমন উদ্যোগ? জাপানি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিয়ের প্রতি অনীহা স্পষ্ট। লাগামছাড়া মুদ্রাস্ফীতি, ক্যারিয়ারের চাপ এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন তাঁদের সংসারধর্ম থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। আর্থিক অস্থিরতার ভয়ে অনেকেই আজ একা থাকতে পছন্দ করছেন।
৪. ২০ হাজার ইয়েন পর্যন্ত নগদ সাহায্য
এই প্রকল্পের আওতায় ২০ থেকে ৩৯ বছর বয়সি অবিবাহিতরা বছরে সর্বোচ্চ ২০,০০০ ইয়েন (প্রায় ১১,৭৫২ টাকা) পর্যন্ত ভর্তুকি পাবেন। ডেটিং বা ম্যাচ-মেকিং অ্যাপের রেজিস্ট্রেশন ফি ও সাবস্ক্রিপশন চার্জ মেটাতে এই টাকা খরচ করা যাবে।
৫. পয়লা এপ্রিল থেকেই শুরু ‘প্রেমের মরশুম’
২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকেই এই নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে। নির্দিষ্ট বয়সের তরুণ-তরুণীরা যাতে এই ডিজিটাল সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের জীবনসঙ্গী খুঁজে নেন, সেই দিকেই কড়া নজর প্রশাসনের। পরিবারের সংখ্যা বাড়ানোই এখন সরকারের মূল এজেন্ডা।
৬. জনসংখ্যা বৃদ্ধিই আসল লক্ষ্য
সরকার মনে করছে, ডেটিং অ্যাপের খরচ সহজলভ্য হলে যুবসমাজ উৎসাহিত হবে। ২০-৩৯ বছর বয়সিদের মধ্যে সক্রিয় যোগাযোগ বাড়লে তবেই ভবিষ্যতে নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব হবে এবং থমকে যাওয়া জনসংখ্যায় গতি আসবে।
৭. শুধু অনলাইন নয়, অফলাইনেও জমাটি আড্ডা
সরকার কিন্তু শুধু অ্যাপেই সীমাবদ্ধ নেই। যে সব সংস্থা যুবক-যুবতীদের সামনাসামনি আলাপ করানোর জন্য অফলাইন ইভেন্টের আয়োজন করে, তাদেরও আর্থিক সাহায্য দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে মুখোমুখি দেখা করার সুযোগ বাড়বে এবং সম্পর্কের বুনিয়াদ আরও শক্ত হবে।
৮. তলানিতে ঠেকেছে জন্মহার
জাপানের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা ছিল মাত্র ৭ লক্ষের আশেপাশে, যা গত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। এই ভয়াবহ পতন সরকারকে বাধ্য করেছে নতুন নতুন সামাজিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে।
৯. বয়স্কদের দেশ ও সামাজিক চাপ
জাপান এখন বিশ্বের দ্রুততম বৃদ্ধ দেশগুলির মধ্যে একটি। ২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী, ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বের মানুষের সংখ্যা ৩৬ মিলিয়ন ছাড়িয়েছে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৯ শতাংশ। এই ভারসাম্যহীনতা কাটাতে নবদম্পতিদের হাতেই এখন দেশের চাবিকাঠি।