মাউন্ট এভারেস্টের চূড়া ছোঁয়ার আনন্দ নিমেষেই বদলে গেল চরম বিষাদে। শৃঙ্গজয় করে নিচে নেমে আসার সময় মৃত্যু হল দুই ভারতীয় পর্বতারোহীর। ২২ মে, ২০২৬ তারিখে নেপাল প্রশাসনের তরফে এই মর্মান্তিক ঘটনার কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে চলতি মরশুমে এভারেস্টে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল পাঁচে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এভারেস্ট অভিযানের সবচেয়ে বিপজ্জনক পর্যায় হলো চূড়া থেকে নিচে নেমে আসা। কারণ এই সময়ে পর্বতারোহীদের শরীর চরম ক্লান্ত থাকে এবং অক্সিজেনের মজুতও তলানিতে এসে ঠেকে।
অভিযান সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত দুই ভারতীয় পর্বতারোহীর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে এভারেস্টের কুখ্যাত ‘ডেথ জোন’-এ অবস্থিত ‘হিলারি স্টেপ’-এর কাছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮,৭৯০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই হিলারি স্টেপকে এভারেস্টের অন্যতম কঠিন ও দুর্গম অংশ বলে গণ্য করা হয়। ১৯৫৩ সালে তেনজিং নোরগে ও এডমন্ড হিলারি প্রথমবার এভারেস্ট জয় করেন, এবং হিলারির নামানুসারেই এই অংশের নামকরণ হয়।
অবশ্য ২০১৫ সালের নেপাল ভূমিকম্পের পর এই হিলারি স্টেপের ভৌগোলিক গঠনে বেশ কিছু বদল এসেছে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় ভারতীয় পর্বতারোহীটির নিথর দেহ উদ্ধার হয়েছে ক্যাম্প-২ এর কাছ থেকে। নেপাল সরকারের দেওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই পর্বত থেকে দেহ দুটি নিচে নামিয়ে আনার উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, ‘ডেথ জোন’ এমন এক ভৌগোলিক উচ্চতা যেখানে অক্সিজেনের মাত্রা এতটাই কম থাকে যে মানুষের শরীর ধীরে ধীরে স্তব্ধ হতে শুরু করে। এবার মে মাসের এই মরশুমে নেপাল সরকারের তরফ থেকে প্রায় ৪৯৪টি ক্লাইম্বিং পারমিট জারি করা হয়েছিল।
ফলে পাহাড়ে পর্বতারোহীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। গত ২০ মে, ২০২৬ তারিখে এক অভূতপূর্ব রেকর্ড তৈরি হয়, যখন মাত্র একদিনেই রেকর্ড সংখ্যক ২৭৪ জন পর্বতারোহী এভারেস্টের চূড়ায় পা রাখেন। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই মাত্রাতিরিক্ত ভিড় এবং আচমকা খারাপ আবহাওয়াও চলতি মরশুমের এই মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ।
ইতিহাসের পাতায় নজর রাখলে দেখা যায়, ১৯৫৩ সালে প্রথম সফল অভিযানের পর থেকে আজ পর্যন্ত ৮,০০০-এরও বেশি মানুষ এভারেস্ট জয় করেছেন। কিন্তু এর পাশাপাশি শত শত পর্বতারোহী এই সাদা বরফের বুকেই চিরতরে হারিয়ে গিয়েছেন, যাঁদের অনেকের দেহ আজও এভারেস্টের আনাচে-কানাচে শায়িত রয়েছে। তবে এই বিষাদের আবহেই এক অনন্য নজির গড়েছেন ব্রিটিশ পর্বতারোহী ক্যান্টন কুল (Kenton Cool)।
তিনি এই মরশুমেই ২০তম বারের জন্য এভারেস্ট জয় করে বিশ্বরেকর্ড গড়লেন। এই সাফল্যের খতিয়ানের মাঝেই বিশেষজ্ঞরা কিন্তু সতর্কবার্তা দিচ্ছেন। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, এভারেস্টে পর্বতারোহীদের ক্রমবর্ধমান ভিড় নিয়ন্ত্রণ না করা এবং অনভিজ্ঞ অভিযাত্রীদের সংখ্যা বৃদ্ধি আগামী দিনে মাউন্ট এভারেস্টকে আরও বেশি বিপজ্জনক ও প্রাণঘাতী করে তুলতে পারে।