
ভিআইপি রোডের লেকটাউন মোড়ে বিপজ্জনক লিওনেল মেসির ৪৪ ফুট উঁচু মূর্তি সরানোর কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। সোমবার সেই কাজ শুরু হয়েছে। সম্প্রতি মূর্তিটি হাওয়ায় দুলছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়লে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সেটিকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল। সোমবার সকাল থেকে মূর্তি অপসারণের প্রস্তুতি শুরু হয়।
ঘটনাস্থলে আনা হয়েছে একাধিক ক্রেন ও সিঁড়ি। মূর্তির এক পাশে বাঁশের খাঁচাও তৈরি করা হচ্ছে, যাতে অপসারণের কাজ নিরাপদে সম্পন্ন করা যায়। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মূর্তিটি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। অপসারণের সময় যাতে মূর্তির কোনও ক্ষতি না হয়, সে বিষয়েও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
গোটা বিশ্বে ভাইরাল এই খবর
কয়েকদিন আগেই নড়তে থাকা মেসির মূর্তির ছবি ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। গোটা বিশ্বের সামনে ফের লজ্জার মুখে পড়তে হয়েছিল বাংলাকে। কিছুদিনের মধ্যেই বর্ষা আসতে চলেছে বাংলায়। ঝড় বৃষ্টির মধ্যে এই বিরাট মূর্তি রেখে দিলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে বলেই এই সিদ্ধান্ত নিল প্রশাসন।
কী জানিয়েছিলেন ইঞ্জিনিয়ররা?
পরিদর্শন শেষে ইঞ্জিনিয়াররা নিশ্চিত করেন যে, মূর্তিটি সত্যিই দুলছিল এবং তাঁরা পরিস্থিতিটিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে গণ্য করেন। এর পরপরই মূর্তিটি অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। কাঠামোটি পরীক্ষা করতে বিভিন্ন সংস্থার প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে, মূর্তিটি যাতে উল্টে না পড়ে—তা নিশ্চিত করতে দড়ি দিয়ে সেটিকে সুরক্ষিত করা হয়।
মূর্তি নিয়ে বিতর্ক ছিল আগেই
হাইড্রোলিক ক্রেন এসে পৌঁছানোর পর, বর্তমানে লেক টাউন মোড়ে মূর্তিটি অপসারণের কাজ চলছে। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে লিওনেল মেসি ভারত সফরে এসেছিলেন। সেই সময় কলকাতা সফরে এসে তিনি নিজেই এই মূর্তি উদ্বোধন করেন। এরপর সেই ইভেন্ট যেমন ভেস্তে যায়, তেমনই প্রশ্ন ওঠে, যে জমির উপর এই মূর্তি হয়েছে তা নিয়ে। নথিপত্র ছাড়াই রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু এই মূর্তি বানিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠতে শুরু করে। পাঁচ মাসের মধ্যেই সেই মূর্তি দুলতে থাকায়, তা সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।