
ঘরের মাঠে খেলার সুবিধা থাকলেও এএফসি কাপের প্রতিপক্ষদের নিয়ে সতর্কতা এবং সমীহর সুর জুয়ান ফেরান্দোর গলায়। দলের গুরুত্বপূর্ন ফুটবলার শুভাশিষ বসুকে নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন এটিকে মোহনবাগানের (ATK Mohun Bagan) হেডকোচ। বুধবার থেকে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে এএফসি কাপের (AFC Cup) শেষ আটের লিগ পর্বের ম্যাচ। এটিকে মোহনবাগানের গ্রুপে তারা ছাড়াও বাকি তিনদল গোকুলাম এফসি (Gokulam Kerala FC), বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংস, মলদ্বীপের মাজিয়া স্পোর্টস। ফলে এএফসি কাপের শেষ চারের টিকিট পেতে তিন দলই মরিয়া হবে।
ঘরের মাঠে খেলা হলেও কাজটা যে একেবারে সহজ হবে না তা জানেন জুয়ান ফেরান্দো। তিনি বলেন,“আমরা এই পর্বে আসতে পেরে খুশি। তবে নিজেদের সেরাটা নিংড়ে দিতে হবে। আশা করব ফুটবলাররা এই লড়াই উপভোগ করবে। কারন এই প্রতিযোগিতাটি একটি গুরুত্বপূর্ন আর্ন্তজাতিক টুর্নামেন্ট। যদি তারা উপভোগ্য ফুটবল উপহার দিতে পারে তাহলে সমর্থকরাও খুশি হবেন। মনে রাখতে হবে, প্রতিপক্ষ হিসেবে গোকুলাম যথেষ্ট শক্তিশালী। ” কিছুদিন আগেই গোকুলামের আইলিগ জয় সামনে থেকে দেখেছেন ফেরান্দো ও তাঁর ফুটবলাররা।
তিন সপ্তাহ ধরে ক্লোজ ডোর প্র্যাকটিসের পরে মঙ্গলবার এটিকে মোহনবাগান মূল স্টেডিয়ামে অনুশীলন করল। সবুজ মেরুন হেডস্যার মনে করছেন প্রস্তুতি যথেষ্ট ভাল হয়েছে। ঘরের মাঠে খেলার সুবিধা থাকলেও লড়াইটা যে এগারো জনের বিরুদ্ধে তা মনে করিয়ে দিয়েছেন ফেরান্দো। কারন প্রতিপক্ষ তিন দলই তাদের দেশের লিগ সেরা হয়ে এই পর্বে খেলতে এসেছে। আইএসএলের ব্যর্থতা সরিয়ে এএফসি কাপে দাপুটে শুরু করেছেন হুগো বুমোস, জনি কাউকোরা।
তিন সপ্তাহ পরে প্রতিযোগিতা মূলক ম্যাচে নামছে এটিকে মোহনবাগান। ভারতীয় দলের বিরুদ্ধে ও বাংলা দলের বিরুদ্ধে প্র্যাকটিস ম্যাচ খেললেও তা কখনোই প্রতিযোগিতা মূলক ম্যাচের মত নয়। যদিও এই খামতি সমস্যা সৃষ্টি করবে বলে মনে করেন না ফেরান্দো। তার মতে,“অন্য দলগুলোর মত আমরা বেশি ম্যাচ খেলিনি এটা ঠিক। তবে গুরুত্বপূর্ন হল, কৌশল এবং পরিকল্পনা। আমি দলের ফুটবলারদের সঙ্গে কথা বলেছি। সবাই আমার কৌশলের ওপর আস্থা রেখেছে। নিজেদের ওপর ভরসা রাখছে। এই তিনটি ম্যাচ যতটা না শারীরিক তার চেয়েও বেশী মানসিক লড়াই। ” এএফসি কাপে এই পর্বে চোট সারিয়ে এবং পারিবারিক সমস্যা সামলে রয় কৃষ্ণ মাঠে ফিরেছেন। তাঁকে বুধবার গোকুলাম এফসির বিরুদ্ধে দেখা যাবে কি না এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে গিয়েছেন ফেরান্দো। সন্দেশ ঝিঙ্গানকে নিয়েও স্পষ্ট করে কিছু বলতে চাননি তিনি । তবে, দুই ফুটবলারই দলের সঙ্গে পুরো প্র্যাকটিস করেছেন।
প্রতিপক্ষ গোকুলাম এফসি সম্বন্ধে ফেরান্দো বলেন, “আক্রমন এবং রক্ষনের মধ্যে ভারসাম্য রয়েছে। তাই আমাদের পুরো নব্বই মিনিট সতর্ক থাকতে হবে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আমার দলের ছেলেরা নিজেদের প্রমাণ করে এসেছে। ওরা প্রত্যেকেই প্রতিভাবান। একটা দল হিসেবে খেলার চেষ্টা করছে,” নিজের দলের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন সবুজ মেরুন হেডস্যারের।