Advertisement

Bengaluru FC: ময়দানের 'লজেন্স মাসি'-কে লাঞ্চে নেমন্তন্ন বেঙ্গালুরুর, আপ্লুত যমুনা

ময়দানের ফুটবলার থেকে কর্মকর্তা সকলেই জানেন, ঝড়বৃষ্টি মাথায় নিয়েও ময়দানেই দেখা মিলবে যমুনা মাসির (Jamuna Masi)। ওরফে 'লজেন্স মাসি'।

লজেন্স মাসির সঙ্গে সুনীল ( ছবি বেঙ্গালুরু এফসি-র সৌজন্যে) লজেন্স মাসির সঙ্গে সুনীল ( ছবি বেঙ্গালুরু এফসি-র সৌজন্যে)
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 19 Sep 2022,
  • अपडेटेड 12:09 PM IST
  • রবিবার সুনীলদের সঙ্গে লাঞ্চ করলেন যমুনা
  • ভাইরাল ভিডিও

পরনে সাধারণ একটা শাড়ি। কোমরের কাছে জড়িয়ে ধরা লজেন্সের প্যাকেট। সেখানে নানা রঙের জেলি লজেন্সের মধ্যে লাল-হলুদের আধিক্য একটু বেশি। মাঠে প্রবল উত্তেজনার মধ্যেও গ্যালারিতে একমুখ হাসি নিয়ে লজেন্স বিক্রি করে যাচ্ছেন 'লজেন্স মাসি'। এই দৃশ্য কলকাতা ময়দানে বেশ পরিচিত। ময়দানের ফুটবলার থেকে কর্মকর্তা সকলেই জানেন, ঝড়বৃষ্টি মাথায় নিয়েও ময়দানেই দেখা মিলবে যমুনা মাসির (Jamuna Masi)। ওরফে 'লজেন্স মাসি'। ভারতীয় ফুটবলাররা তো বটেই, ময়দানে খেলা সমস্ত বিদেশি ফুটবলাররাও যমুনা মাসিকে চেনেন।  দু'দশকের বেশী সময় ধরে সোদপুর নিবাসী মানুষটি বহু ফুটবলারের উত্থান পতনের সাক্ষী।  এমন এক বিরল চরিত্রের মহিলা সমর্থককে দলের মধ্যাহ্ন ভোজে আমন্ত্রন জানিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করল বেঙ্গালেরু এফসি। 

কয়েকবছর আগে স্বামী প্রয়াত হয়েছেন। ইস্টবেঙ্গলের (East Bengal Club) সমর্থক যমুনা মাসির কপালে আগে থাকত লাল-হলুদ টিপ। আর এখন শুধু বদলেছে টিপের রং। বদলায়নি তাঁর আবেগের রং সেটা আজও লাল-হলুদই। ডুরান্ড (Durand Cup) ফাইনালে খেলতে নামার কয়েক ঘন্টা আগে বেঙ্গালেরু এফসি (Bengaluru FC) দলের সঙ্গে মধ্যাহ্ন ভোজ করল সুনীল ছেত্রীর (Sunil Chhetri) দল।  যমুনা মাসিকে সোদপুরের বাড়ি থেকে গাড়ি করে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করে তারা। হোটেলে তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে অপেক্ষা করে ছিলেন অধিনায়ক সুনীল ছেত্রী স্বয়ং। কলকাতার জামাই। জানেন যমুনা মাসিকে নিয়ে ময়দানের আবেগ। 

সেই আবেগকেই সম্মান জানাল বেঙ্গালুরুর ক্লাব। সুনীল বলেন, ''ময়দানে দুই প্রধানকে নিয়ে অনেক আবেগের কথা আমরা জানি। তার মধ্যে অনেক চরিত্র রয়েছে। যা বিস্মিত করে। কলকাতা ময়দানে খেলার সময় থেকেই তাঁকে আমি চিনি। এই রকম একজন মানুষকে দলের মধ্যাহ্ন ভোজে আমন্ত্রিত করতে পেরে আমরা সকলেই আপ্লুত।” যমুনা মাসি ঢুকতেই গোটা দল হাততালি দেয়। কথা বললেন প্রবীর দাস, গুরপ্রীত, সুনীলদের সঙ্গে। গুরপ্রীতকে আবার 'ছোটু' বলে ডাকেন যমুনা। ভারতীয় দলের গোলরক্ষকের সঙ্গেও চলল আড্ডা।

Advertisement

প্রিয় মাসিকে কাছে পেয়ে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করলেন সন্দেশ ঝিঙ্গন। “ওরা সবাই আমার ছোট ভাই।  আমি ওদের অনেক দিন ধরে চিনি।  বহু জায়গায়  গিয়েছি। ওরা আমার পাশে থেকেছে। আজ যেভাবে  সম্মানিত করল তা আমার হৃদয় ছুয়ে গেল।“ আবেগ ঝড়ে পড়ছিল জমুনা মাসির গলায়।  তবে সুনীলদের আপ্যায়নে বিস্মিত তিনি। যমুনা আরও বলেন, ''যেভাবে পাশে বসিয়ে যত্ন করে খাইয়েছে তা স্বপ্ন বলে মনে হচ্ছে। সবাই মেসি বা অন্য বিখ্যাত বিদেশিদের কথা বলে। আমার কাছে কিন্তু সুনীলই সেরা।” ভারতীয় একজন মহিলার ফুটবল আবেগ এই পর্যায়ে যেতে পারে দেখে বিস্মিত বেঙ্গালেরু এফসির কোচ। লাল হলুদ সমর্থক যমুনা মাসির হাতে তুলে দেওয়া হল বেঙ্গালেরু এফসির নীল জার্সি। যমুনা মাসি ম্যাচের আগেই বলেছিলেন এবার ডুরান্ড চ্যাম্পিয়ন বেঙ্গালেরু এফসি। আর ঠিক সেটাই হল। ২-১ গোলে মুম্বই সিটি এফসিকে হারিয়ে প্রথমবার ডুরান্ড কাপ ঘরে তুলল বেঙ্গালুরু।        

Read more!
Advertisement
Advertisement