Advertisement

EXCLUSIVE: গণপরিবহণ ব্যবস্থায় ‘লেডিস সিট’ প্রথম চালু হয়েছিল ট্রামেই!

এই শহরের পরিবহণ ঐতিহ্যের অন্যতম অংশ হল এই ট্রাম। এ শহরের পরিবহণ ব্যবস্থার নানা পরিবর্তনের সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে এর নাম। যেমন, বাসে, ট্রামে যে ‘লেডিস সিট’ (Lady's Seat) দেখতে পাই, তা-ও নাকি প্রথম চালু হয় এই ট্রামেই!

গণপরিবহণ ব্যবস্থায় ‘লেডিস সিট’ প্রথম চালু হয়েছিল ট্রামেই!গণপরিবহণ ব্যবস্থায় ‘লেডিস সিট’ প্রথম চালু হয়েছিল ট্রামেই!
সুদীপ দে
  • কলকাতা,
  • 07 Feb 2021,
  • अपडेटेड 5:52 PM IST
  • কলকাতায় ট্রামের ইতিহাস প্রায় দেড়শো বছরের।
  • ১৯০২ সাল থেকে কলকাতায় বিদ্যুৎ চালিত ট্রাম চালু করা হয়।
  • বাসে, ট্রামে যে ‘লেডিস সিট’ (Lady's Seat) দেখতে পাই, তা-ও নাকি প্রথম চালু হয় এই ট্রামেই!

নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে কলকাতায় ট্রামের ইতিহাস প্রায় দেড়শো বছরের। ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৮৭৩ সালে প্রথম ঘোড়ায় টানা ট্রাম চালু হয় কলকাতায়। প্রথম ঘোড়ায় টানা ট্রাম ছুটেছিল শিয়ালদহ থেকে আর্মেনিয়ান ঘাট পর্যন্ত। শোনা যায়, কলকাতার ট্রাম হল তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড কার্জনের মস্তিষ্কপ্রসুত গণপরিবহণ ব্যবস্থা।

লর্ড কার্জন সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে, স্বল্প ব্যয়ের গণপরিবহণ হিসাবে ট্রাম চালু করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কলকাতায় ট্রাম চালু হওয়ার ৯ মাসের মধ্যেই ২০ নভেম্বর, ১৮৭৩ সালে ফের বন্ধ করে দেওয়া হয় এই পরিষেবা। এর পর ১ নভেম্বর, ১৮৮০ সালে কলকাতা ট্রামের যাত্রাপথের উদ্বোধন করেন তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের ভাইসরয় লর্ড রিপন, যাঁর নামে শহরের একটা রাস্তার নাম রিপন স্ট্রিট।

১৯০২ সাল থেকে কলকাতায় বিদ্যুৎ চালিত ট্রাম চালু করা হয়। সেই থেকে বিভিন্ন সময় এই শহরে যে সমস্ত ট্রাম চলেছে, ইংরেজি বর্ণমালার ‘A’ থেকে ‘L’ পর্যন্ত তার বিভিন্ন শ্রেণি রয়েছে। এখনও এই শহরের ডিপোগুলিতে ব্রিটিশ আমলের ‘K’ এবং স্বাধীনতার পর পর তৈরি হওয়া ‘L’ শ্রেণির ট্রাম রয়েছে, যেগুলির অধিকাংশই অব্যবহৃত।

ভারত স্বাধীন হওয়ার পরেও ব্রিটিশ কোম্পানির দায়িত্বেই ছিল দেশের ট্রাম পরিবহণ ব্যবস্থা। ১৯৫০ সাল পর্যন্ত লন্ডন থেকে ট্রামের কোচ তৈরি করে আনা হতো কলকাতার জন্য। ১৯৬৭ সালের পর ব্রিটিশ কোম্পানিকে সরিয়ে ট্রামের জাতীয়করণ করা হয়।

এই শহরের পরিবহণ ঐতিহ্যের অন্যতম অংশ হল এই ট্রাম। এ শহরের পরিবহণ ব্যবস্থার নানা পরিবর্তনের সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে এর নাম। যেমন, বাসে, ট্রামে যে ‘লেডিস সিট’ (Lady's Seat) দেখতে পাই, তা-ও নাকি প্রথম চালু হয় এই ট্রামেই!

Advertisement

কলকাতার পরিবহণ ইতিহাসের অন্যতম সংগ্রাহক সৌভিক মুখোপাধ্যায় জানান, গণপরিবহণ ব্যবস্থায় বাসে, ট্রামে যে ‘লেডিস সিট’ (Lady's Seat) বা মহিলাদের জন্য বিশেষ ভাবে আসন সংরক্ষণের বিষয়টি আমাদের প্রায় সকলেরই জানা, সেই ব্যবস্থা প্রথম চালু করা হয়েছিল ট্রামেই। 

১৯০৭ সালে বিখ্যাত ইংরাজি দৈনিক পত্রিকা ‘দি স্টেটসম্যান’ (The Statesman)-এর সম্পাদককে চিঠি লেখেন সে কালের ট্রামের এক নিত্যযাত্রী। ওই চিঠিতে তিনি অভিযোগ করে জানান, ট্রামে ইউরোপীয় নিত্যযাত্রীদের জন্য আর জায়গা অবশিষ্ট নেই। বিশেষ করে কালীঘাট ট্রামওয়েজে (Kalighat Tram Depot) আগে থেকেই ট্রামের আসন ভরে যায়। ভিড়ের চোটে মহিলা যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকা দুষ্কর! এই পরিস্থিতির সমাধানে কী ট্রামের ফার্স্ট কমপার্টমেন্টে একটি অথবা দুটি বেঞ্চ বা আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ করা যায় না? ট্রামের ওই নিত্যযাত্রী তাঁর চিঠিতে লেখেন, “বম্বেতে ইতিমধ্যেই প্রথম সারির দুটি আসন মহিলাদের জন্য সব সময়ের জন্য সংরক্ষিত করা হয়েছে। কলকাতাতেও এই ব্যবস্থা চালু করা হোক যাতে ভারতীয় এবং ইউরোপীয়— সমস্ত মহিলা যাত্রীরাই নিশ্চিন্তে ট্রামে যাতায়াত করতে পারেন।”

১৯০৭ সালে ‘দি স্টেটসম্যান’ (The Statesman) পত্রিকা ছাপার পরই কলকাতার ট্রামে মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণের বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ করা হয়েছিল। শোনা যায়, এর মাস খানেকের মধ্যেই কলকাতার ট্রামেও চালু হয় মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা বা ‘লেডিস সিট’ (Lady's Seat)। এর পর ধীরে ধীরে শহরের জনসংখ্যা বাড়তে থাকে। বাড়তে থাকা জনসংখ্যার চাপে ট্রামের পাশাপাশি কলকাতায় চালু হয় বাস পরিবহণ, দোতলা বাস। কলকাতা ও হাওড়ায় ১৯২০ সাল থেকে ১৯২৪ সালের মধ্যে বাস পরিষেবা চালু হয়। ট্রামের পাশাপাশি বাসেও মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ বা ‘লেডিস সিট’ (Lady's Seat)-এর ব্যবস্থা রাখা শুরু হয়।

তথ্যসূত্র ও বিশেষ সহযোগিতায়: কলকাতার পরিবহণ ইতিহাসের অন্যতম সংগ্রাহক সৌভিক মুখোপাধ্যায়।
 

Read more!
Advertisement
Advertisement