চাঁদ থেকে পৃথিবীকে বিশাল নীল-সাদা বলের মতো দেখায়। মহাকাশচারীরা বলেন, কালো মহাশূন্যের মাঝে পৃথিবী যেন এক উজ্জ্বল নীল মার্বেলের মতো।
আমরা যেমন পৃথিবী থেকে চাঁদের একটাই দিক দেখি, তেমনই চাঁদ থেকেও পৃথিবী প্রায় একই জায়গায় স্থির দেখা যায়। কারণ চাঁদ নিজের অক্ষে ঘোরে এবং পৃথিবীকেও একই সময়ে প্রদক্ষিণ করে।
চাঁদ থেকে দেখলে পৃথিবী আকাশে চাঁদের তুলনায় প্রায় ৪ গুণ বড় দেখায়। তাই পৃথিবীর দৃশ্য চাঁদের আকাশে অনেক বেশি বিশাল লাগে।
চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে পৃথিবী খুব উজ্জ্বল দেখায়। কারণ পৃথিবীতে জল, মেঘ এবং বরফ সূর্যের আলো বেশি প্রতিফলিত করে।
চাঁদে কোনও বায়ুমণ্ডল নেই। তাই সেখানে আকাশ সব সময় কালো দেখায়, এমনকি দিনের বেলাতেও।
চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণেই পৃথিবীর সমুদ্রে জোয়ার-ভাটা হয়। পূর্ণিমা ও অমাবস্যার সময় এই প্রভাব আরও বেশি দেখা যায়।
বিজ্ঞানীদের মতে, প্রতি বছর চাঁদ পৃথিবী থেকে প্রায় ৩.৮ সেন্টিমিটার দূরে সরে যাচ্ছে। কোটি কোটি বছর পরে পৃথিবীর আকাশে চাঁদকে আরও ছোট দেখাবে।
চাঁদে এক দিন প্রায় ১৪ পৃথিবী দিনের সমান। একই ভাবে সেখানে রাতও প্রায় ১৪ দিন স্থায়ী হয়।
এখনও পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথাও প্রাণের স্পষ্ট প্রমাণ পাননি। জল, অক্সিজেন এবং উপযুক্ত তাপমাত্রার জন্য পৃথিবীতে জীবন সম্ভব হয়েছে।
অনেক মহাকাশচারী জানিয়েছেন, মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে দেখার পর তাঁদের জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গিয়েছে। সীমান্তহীন ছোট্ট পৃথিবীকে দেখে তাঁরা মানবজাতির ঐক্যের কথা আরও বেশি অনুভব করেছিলেন।