Mamata BAnerjee on Nusrat Jahan: সাংসদ নুসরত জাহানকে নিয়ে ওঠা আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমি এ ব্যাপারে এখানে আলোচনা করব না। কেউ গিয়ে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করতেই পারেন। কিন্তু অভিযোগ করার আগেই মিডিয়া ট্রায়াল করে দিচ্ছেন? আগে দেখুন অভিযোগ সত্যি কিনা। কিছু না জেনে মন্তব্য করা ঠিক নয়। নুসরতের কেস নুসরত বলবে। এটা আমার বিষয় নয়। আইনজীবীরা বলবে।" প্রসঙ্গত, তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ২৪ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ নিয়ে ইডির দ্বারস্থ হন বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পণ্ডা।
অভিযোগ ওঠার দেড় দিন পর সাংবাদিক বৈঠক করেন নুসরত। শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকায় আজ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার সময় বের করতে পারেন বলে জানান সাংসদ নিজেই। সেই বৈঠকে মিনিট দশেক নিজের কথা বলে খানিকক্ষণ পর প্রেস ক্লাব থেকে বেরিয়ে যান। তিনি বলেন, "যে সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম, তাদের থেকে ১ কোটি ১৬ লক্ষ ৩০ হাজার ২৮৫ টাকার ঋণ নিয়েছিলাম। সেই টাকায় বাড়ি কিনেছি। ২০১৭ সালের ৬ মে সুদ সহ ১ কোটি ৪০ লক্ষ ৭১ হাজার ৯৯৫ টাকা ফেরত দিয়েছি কোম্পানিকে। ব্যাঙ্কের স্টেটমেন্টও আমার কাছে আছে। ৩০০ শতাংশ চ্যালেঞ্জ করতে পারি যে, আমি দুর্নীতিতে যুক্ত নই। আমি এক পয়সা নিলেও এখানে আসতাম না।"
এদিন মমতা আরও বলেছেন, "ইডি যা বলল একতরফা, সিবিআই যা বলল একতরফা। অভিযোগ প্রমাণ হওয়ার আগেই অভিযুক্ত হয়ে গেল? অভিযোগ সত্য হলে আইন আইনের পথে চলবে। আমাকেও কেউ একজন বলেছিল ওদের একজন সাংসদ আছেন, তাঁর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ। কিন্তু ইডি কিছু করেনি। তার নাম বলব না। অভিযোগগুলো ওরা করছে সরাসরি চিটফান্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। চিটফান্ড সংস্থার মালিকের সঙ্গে বিদেশে ঘুরতেও গিয়েছিলেন। সব তথ্য থাকা সত্ত্বেও কেন ডাকা হয় না তাঁদের?"
প্রসঙ্গত, কলকাতা ওয়েস্ট সেভেন সেন্স ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানির বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিনেত্রী তথা তৃণমূল সাংসদ নুসরত জাহানের সোমবার সন্ধ্যায় তিনি কয়েকজন বয়স্ক নাগরিককে নিয়ে ইডির কাছে গিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, বেশ কয়েক জনের কাছ থেকে ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নিয়েছিল নুসরতের সংস্থা। কিন্তু ফ্ল্যাট মেলেনি। শঙ্কুদেব ইডির কাছে নথিপত্র জমাও দিয়ে এসেছেন বলে দাবি করেন। মঙ্গলবার আরও এক ধাপ এগিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করলেন, ওই টাকাতেই ফ্ল্যাট কিনছেন নুসরত। শুভেন্দুর এ-ও দাবি, সেই ফ্ল্যাটের দাম এক কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা।