
পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা যুদ্ধের জেরে সমস্যায় অটোচালকরা। অটো, শহর ও শহরতলির যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটা বড় মাধ্যম। শুধু অটো নয়, সমস্যায় প্রতে হয়েছে সিএনজি ক্যাবগুলিকেও। দেদার কালোবাজারি, এলপিজি সিলিন্ডার থেকে গ্যাস নিয়ে অটো ও গাড়ি চালানোর অভিযোগ উঠছে অনেক চালকের বিরুদ্ধেই। রাস্তায় ইতিমধ্যেই অটোর সংখ্যা কমতে শুরু করে দিয়েছে। ফলে এভাবে বেশিদিন চলতে থাকলে অটো বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা।
কী বলছে অটো ইউনিয়ন?
আইএনটিটিইউসি উত্তর ২৪ পরগনার প্রেসিডেন্ট তাপস দাশগুপ্ত যদিও সমস্ত দায় কেন্দ্রীয় সরকারের ঘাড়েই চাপিয়েছন। তাঁর যুক্তি, অটো গুলোকে সিএনজি করার সময় পাম্পের সংখ্যা বাড়ানো হয়নি। হিসেব দিয়ে তিনি জানান, 'কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত এসআইআর (SIR) করে সাধারণ মানুষের নাম বাদ না দিয়ে, সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা বোঝা উচিত। উপরের দিকে তাকিয়ে সরকার চালানোর কোনও মানে হয় না। মাটির দিকে তাকিয়ে সাধারণ মানুষের কথা বিচার করে সরকারের কাজ করা উচিত।'
বন্ধ হয়ে যাবে একাধিক রুট?
পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে, যে বিভিন্ন রুটে অটো প্রায় নেই। সোমবার বারাসাত-মধ্যমগ্রাম রুটে সাধারণ মানুষের লম্বা লাইন। মধ্যমগ্রাম-সোদপুর রুটে অটো চলছে হাতে গোনা। ফলে সাধারণ মানুষকে বিরাট সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তাপস বলেন, 'পাম্পের সংখ্যা এমনিতেই খুব কম। এর জেরে শুধু অটো নয়, সমস্যায় পড়ছে সিএনজি গাড়িগুলিও। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে যুদ্ধ। যার জেরে গোটা দেশেই গ্যাস ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের আকাল দেখা যাচ্ছে। এই সমস্যা এভাবে চলতে থাকলে সব বন্ধ হয়ে যাবে। আমার সঙ্গে কয়েকজন চালক কথা বলেছেন। তাঁরা বলছেন, ঘন্টা দুয়েক দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। '
চলছে দেদার কালোবাজারি
শুধু সিএনজি না পাওয়া নয়, সমস্যা রয়েছে কালোবাজারি নিয়েও। বিভিন্ন জায়গায় রান্নার গ্যাস ভরা হচ্ছে। যা একেবারে অনৈতিক আবার আইন বিরুদ্ধও বটে। কিন্তু যা পরিস্থিতি তাতে রুজি রুটির জন্য এই পথ বেছে নিতে হচ্ছে চালকদের। তাপস বলেন, 'অনেক বেশি টাকা খরচ করে গ্যাস ভরতে হচ্ছে। আবার ভাড়াও বাড়ানো যাচ্ছে না। আপনারা জানেন, এই ক্যাব বা অটোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে লক্ষ লক্ষ মানুষের রুজি রুটির প্রশ্ন। ফলে যেদিকে যাচ্ছে তাতে সমস্যা আরও বাড়বে।'
কথা হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও
এই সমস্যার ব্যাপারে ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে জানানো হয়েছে বলে দাবি তাপসের। বলেন, 'আমরা কথা বলছি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে। তাঁকে এই সমস্যার কথা জানানো হয়েছে। রাজ্যের আইএনটিটিইউসি সভাপতি ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গেও কথা হয়েছে। এখন দেখার কীভাবে এই সমস্যা সমাধান করা যায়।'
সোমবার রুবি মোড়ে অবরোধ
সোমবার সকালে রুবির মোড়ে জড়ো হয় বিভিন্ন রুটের অটো। পাশাপাশি সিএনজি চালিত চার চাকা গাড়ি চালকেরাও সেখানে আসেন। অবিলম্বে সব পাম্পে সিএনজি গ্যাসের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়ে চালকেরা পথ অবরোধ করেন। বাইপাসের উপর এই রাস্তায় কমপক্ষে ২৫০টি অটো আড়াআড়ি ভাবে দাঁড়িয়ে পড়ায় অন্য সব বাস, ট্যাক্সিও আটকে যায়। চালকেরা রাস্তায় পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। মূলত বাইপাসের একটা অংশ অর্থাৎ রুবি থেকে চিংড়িঘাটামুখী লেনটিতেই অবরোধ করেছিলেন তাঁরা।