নেপালের সংসদীয় রাজনীতিতে ইতিহাস গড়লেন বালেন্দ্র শাহ। সব থেকে কম বয়সী প্রধানমন্ত্রী হলেন তিনি। আজ, শুক্রবার শপথ নেন ওই প্রাক্তন ব়্যাপার। জেন জি আন্দোলনের পর নেপালে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়। তা সামাল দিতেই ফের ভোট হয় সেদেশে। রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) সংখ্যা গরিষ্ঠতা পায়। সেই দলেরই সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হন বালেন্দ্র।
এদিকে শপথ নেওয়ার পরই তাঁকে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি জানান, ভারত ও নেপালের উন্নতির স্বার্থে বালেন্দ্রর সঙ্গে কাজ করতে চান।
প্রধানমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, 'নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের জন্য বালেন্দ্র শাহকে আন্তরিক অভিনন্দন। আপনার এই নিয়োগ নেপালের জনগণের আপনার নেতৃত্বের প্রতি আস্থার প্রতিফলন। আমাদের দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক কল্যাণে ভারত-নেপাল বন্ধুত্ব ও সহযোগিতাকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে আপনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য আমি আগ্রহী।'
বালেন্দ্রর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে চিনও। তাঁর শপথগ্রহণের পরপরই এক্স হ্যান্ডেলে বার্তা দেয় চিনের বিদেশমন্ত্রক। সেখানে লেখা হয়, 'নেপালের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় পাশে থাকবে চিন। নতুন সরকারের সঙ্গে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা আরও ভালো করতে তারা প্রস্তুত।'
আরএসপি-র কেন্দ্রীয় সংগঠন কমিটির সম্পাদক শঙ্কর শ্রেষ্ঠ জানান, 'সংসদীয় দলের বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে বালেনকে নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। আরএসপি-র কেন্দ্রীয় কমিটি শাহকে তাঁর নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের অনুমতিও দিয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম সন্ধ্যার মধ্যেই ঘোষণা করা হতে পারে।'
জেন জি আন্দোলনের পর নেপালে অন্তর্বতীকালীন সরকার ছিল। স্থায়ী সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চলতি মাসের শুরুতেই সেই দেশে ভোট হয়। সেই ভোটে জয় পান বালেন্দ্র।
তাঁর দল আরএসপি একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করে। ২৭৫টির মধ্যে ১৮২টি আসন জিতে নেয় সেই দল। তারপরই পরিষ্কার হয়ে যায় সরকার গঠন করতে চলেছেন বালেন্দ্রর দল।
বালেন ঝাপা-৫ কেন্দ্র থেকে চারবারের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলিকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেন। এই কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপাল (ইউএমএল)-এর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল।
আজই শীতল নিবাসে (রাষ্ট্রপতির বাসভবন) বালেন শাহ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তিনি ১৫ থেকে ১৮ সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা গঠন করতে পারেন।
নেপালের এই পরিবর্তন ঐতিহাসিক বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, সেই দেশের সংসদীয় রাজনীতির পুরোনো দলগুলো খুব অল্প আসন পেয়েছে। যথা নেপালি কংগ্রেস ৩৮টি আসন, সিপিএন-ইউএমএল ২৫টি এবং নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি ১৭টি।
সেখানে আগেরবারের ভোটে এই আরএসপি পেয়েছিল মাত্র ২০ টি আসন। অর্থাৎ তারা নতুন দল হয়েও সরকার গঠন করল। নতুন মুখের উপর আস্থা রাখল সেই দেশের আম জনতা।