পৃথিবীর শক্তির ভারসাম্যহীনতা: প্রথমবারের মতো বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) 'পৃথিবীর শক্তির ভারসাম্যহীনতা' (Earth's Energy Imbalance)-কে জলবায়ু পরিবর্তনের একটি প্রধান বিষয়। এর অর্থ, পৃথিবী মহাশূন্যে যে পরিমাণ তাপ ছাড়ছে, তার চেয়ে অনেক বেশি তাপ শোষণ করছে।
রেকর্ড উষ্ণ দশক: ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময়ে ইতিহাসের উষ্ণতম ১১টি বছর রেকর্ড হয়েছে, যা পৃথিবীর তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধির প্রবণতাকে স্পষ্ট করে তুলেছে।
২০২৫ সালের তাপমাত্রা: ২০২৫ সালটি ইতিহাসের শীর্ষ ৩টি উষ্ণতম বছরের একটি। এই বছরে বিশ্বব্যাপী গড় তাপমাত্রা শিল্পবিপ্লব পূর্বের সময়ের (১৮৫০-১৯০০) তুলনায় প্রায় ১.৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।
গ্রিনহাউস গ্যাসের আধিক্য: কার্বন ডাই অক্সাইড, মিথেন এবং নাইট্রাস অক্সাইডের মতো গ্রিনহাউস গ্যাসের ঘনত্ব বর্তমানে গত কয়েক লাখ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা বায়ুমণ্ডলে তাপ আটকে রাখছে।
মহাসাগরের উষ্ণায়ন: অতিরিক্ত তাপের ৯০ শতাংশেরও বেশি সমুদ্র শোষণ করে নিচ্ছে। গত এক দশক ধরে সমুদ্রের তাপের পরিমাণ রেকর্ড পর্যায়ে রয়েছে এবং ২০০৫ সাল থেকে এই উষ্ণায়নের গতি আরও বেড়েছে।
বরফ গলে যাওয়া: উত্তর মেরু (আর্কটিক) এবং দক্ষিণ মেরুর (অ্যান্টার্কটিক) বরফ রেকর্ড হারে কমছে। বিশ্বজুড়ে হিমবাহগুলো আশঙ্কাজনক গতিতে গলে যাচ্ছে।
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি: ১৯৯৩ সালের পর থেকে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় ১১ সেন্টিমিটার বেড়েছে এবং এই বৃদ্ধির হার ক্রমাগত ত্বরান্বিত হচ্ছে।
চরম আবহাওয়া: ২০২৫ সালে তীব্র তাপপ্রবাহ, দাবানল, খরা, ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় এবং বন্যার মতো চরম প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব: বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, মানুষের কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট এই জলবায়ু সংকটের প্রভাব আগামী কয়েকশ থেকে হাজার বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
রাষ্ট্রসঙ্ঘের সতর্কতা: রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরা, বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, জলবায়ুর প্রতিটি নির্দেশক এখন রেড অ্যালার্ট দিচ্ছে এবং পৃথিবী তার সহনশীলতার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।