২০২৪ সালের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। চীনা-কানাডিয়ান ইতিহাসবিদ জিয়াং জুয়েকিনের দেওয়া সেই বক্তৃতার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে আজকের পরিস্থিতি।
অনেক সোশ্যাল মিডিয়া ইউজার মজা করে জিয়াংকে 'চীনের নস্ট্রাডামাস' বলছেন। কারণ তাঁর বক্তৃতাগুলিতে তিনি যে সমস্ত রাজনৈতিক ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন তা মিলতে শুরউ করে দিয়েছে। বিশেষ করে, সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধ সম্পর্কে তাঁর করা ভবিষ্যদ্বাণী এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
জিয়াং বলেন ট্রাম্পের নেতৃত্বে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একটি বড় যুদ্ধ দেখা দিতে পারে। তিনি বিশ্বাস করতেন যে দুই দেশের মধ্যে ইতিমধ্যে চলা উত্তেজনা সামরিক সংঘাতে পরিণত হতে পারে। এই কারণেই তাঁর পুরনো বক্তৃতা এখন ভাইরাল।
জিয়াংয়ের ভবিষ্যদ্বাণী ভাইরাল হয়ে যায় কারণ তিনি বলেছিলেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জয়লাভ করা আমেরিকার পক্ষে কঠিন হবে। তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে ইরানের ভৌগোলিক অবস্থান এবং আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে সুবিধা দেবে।
জিয়াং জুয়েকিন একজন চীনা-কানাডিয়ান ইতিহাসবিদ, লেখক এবং শিক্ষাবিদ যিনি বিশ্ব রাজনীতি, ইতিহাস এবং কৌশলের মতো বিষয়গুলির বিশ্লেষণে করে থাকেন। তিনি বিশেষ করে ভূ-রাজনীতি এবং ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলির উপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতের ঘটনাবলীর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। তাই, তাঁর মতামত সবসময়ই গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়।
তাঁর বক্তৃতায়, জিয়াং বলেছিলেন যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকান রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন সম্ভব। শুধু তাই নয় তিনি বিশ্বাস করতেন যে ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরে আসলে আমেরিকার পররাষ্ট্র নীতি আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠবে। এই নীতির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত দেখা দিতে পারে। আর ঠিক সেটাই ঘটেছে।
জিয়াং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল এবং ইরানের মধ্যে সংঘর্ষের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছেন। ঘটছেও ঠিক তাই। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর, ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইরানের উপর আক্রমণ করেন। ইরান প্রতিশোধ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি অবস্থিত, সেখানে আক্রমণ করে।
এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি হোসেইনি খামেনি নিহত হন। এই ঘটনাটি এই অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে। এর ফলে জিয়াংয়ের পুরনো ভবিষ্যদ্বাণীগুলি আবার আলোচনায় এসেছে।
এক সাক্ষাৎকারে জিয়াং বলেন, ইরান বছরের পর বছর ধরে তার মিত্র গোষ্ঠীগুলির মাধ্যমে তার শক্তি তৈরি করে আসছে। হামাস এবং হিজবুল্লাহর মতো গোষ্ঠীগুলির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা তাদের কৌশলগ সুবিধা দিতে পারে।
২০২৪ সালের 'ইরান ট্র্যাপ' বক্তৃতায়, জিয়াং তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ভবিষ্যদ্বাণী তুলে ধরেন: প্রথমত, ট্রাম্পের ক্ষমতায় ফিরে আসা। দ্বিতীয়ত, অরি আমলে ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষ। তৃতীয়ত, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে জয় পাওয়া আমেরিকার পক্ষে কঠিন হবে। এই কারণেই তাঁর বক্তৃতা আবারও খবরে।