বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে ভেনেজুয়েলায় দু'টি শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়। যার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং রাজধানী কারাকাসে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
আমেরিকার জিওলজিক্যাল সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, ৭.১ মাত্রার প্রথম ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার পশ্চিমে উপকূলীয় শহর মোরনের কাছে এবং এর গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার নীচে। এর প্রায় ৪০ সেকেন্ড পর একই এলাকায় ১০ কিলোমিটার গভীরে ৭.৫ মাত্রার আরও শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প হয়। যা ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়।
ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন ভবনের কাঠামোগত ক্ষতি হয় ও দেয়াল ধসে পড়ে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো ধুলোর মেঘে ঢাকা পড়ে যায়।
উদ্ধারকারী দলগুলো উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যাচাইয়ের কাজ শুরু করে। কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানায় যে এতে মানুষের আহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং সম্ভাব্য 'আফটারশক' সম্পর্কে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়।
প্রশাসন এই জোড়া ভূমিকম্পকে গত প্রায় এক শতাব্দীর মধ্যে সে দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে উল্লেখ করেছে।
পুয়ের্তো রিকো ও ভার্জিন আইল্যান্ডসের জন্য জারি করা সুনামি সতর্কতা পরবর্তীতে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজের মতে, বুধবারের ভূমিকম্পে লা গুয়াইরা এলাকাটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জানা গিয়েছে, প্রায় ১৫টি ভবন ধসে পড়েছে এবং সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগের পর বিমানবন্দরটি বন্ধ করে দেওয়ার সময়ের ভিডিওতে ধোঁয়া, ধ্বংসস্তূপ এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে।
শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। কর্তৃপক্ষ, নিরাপত্তা বাহিনী, চিকিৎসা দল এবং অসামরিক সুরক্ষা ইউনিটগুলোকে সারা দেশে মোতায়েন করা হয়েছে।
শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে গুরুতর কাঠামোগত ক্ষতির খবর পাওয়ার পর ভেনেজুয়েলা তার প্রধান বিমানবন্দরটি বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জরুরি উদ্ধারকাজও জটিল হয়ে পড়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, 'ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের প্রাথমিক তথ্যে প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসের খবর পাওয়া যাচ্ছে। তিনি জানান, দ্রুত সাড়া দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে আমেরিকার সব সরকারি সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, এই জরুরি পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলাকে সহায়তা করতে আমেরিকা প্রস্তুত ও ইচ্ছুক এবং তা করার ক্ষমতাও তাদের রয়েছে।