Advertisement

কাটোয়ায় মিছিল-মিটিংয়ে ঐতিহ্যবাহী 'ঘোড়ানাচ', শিল্পীদের কদর বাড়ল ভোটে

ভোটের আবহে আবারও প্রাণ ফিরে পাচ্ছে বাংলার হারিয়ে যেতে বসা লোকসংস্কৃতি। কাটোয়া মহকুমায় লুপ্তপ্রায় ‘ঘোড়ানাচ’ এখন নতুন করে ফিরে এসেছে জনসমক্ষে, আর তার বড় মঞ্চ হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক প্রচার।

ফাইল ছবিফাইল ছবি
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 15 Apr 2026,
  • अपडेटेड 4:17 PM IST
  • ভোটের আবহে আবারও প্রাণ ফিরে পাচ্ছে বাংলার হারিয়ে যেতে বসা লোকসংস্কৃতি।
  • কাটোয়া মহকুমায় লুপ্তপ্রায় ‘ঘোড়ানাচ’ এখন নতুন করে ফিরে এসেছে জনসমক্ষে, আর তার বড় মঞ্চ হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক প্রচার।

ভোটের আবহে আবারও প্রাণ ফিরে পাচ্ছে বাংলার হারিয়ে যেতে বসা লোকসংস্কৃতি। কাটোয়া মহকুমায় লুপ্তপ্রায় ‘ঘোড়ানাচ’ এখন নতুন করে ফিরে এসেছে জনসমক্ষে, আর তার বড় মঞ্চ হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক প্রচার।

একসময় রাজাদের শক্তি ও বীরত্বের প্রতীক ছিল ঘোড়া। সেই ঐতিহ্য থেকেই বাংলায় জন্ম নেয় ‘ঘোড়ানাচ’। গ্রামবাংলার উৎসব, সামাজিক অনুষ্ঠান, সব জায়গাতেই এই নাচের বিশেষ গুরুত্ব ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিকতার ঢেউয়ে অনেকটাই হারিয়ে গিয়েছিল এই লোকশিল্প।

কিন্তু ভোট এলেই ছবিটা বদলে যায়। রাজনৈতিক সভা-মিছিলের রঙিন আবহে আবার ডাক পড়ছে ঘোড়ানাচ শিল্পীদের। মুখে রংচং, গায়ে রাজপোশাক, কোমরে বাঁধা নকল ঘোড়া, ঢাক, ঢোল আর ব্যান্ডের তালে নেচে দর্শকদের মাতিয়ে তুলছেন তাঁরা। কাটোয়ার শিল্পীরা এখন শিলিগুড়ি, দুর্গাপুর, আসানসোল, হাওড়া, রাজ্যের নানা প্রান্তে অনুষ্ঠানের বরাত পাচ্ছেন।

এই নাচেরও বদল ঘটেছে সময়ের সঙ্গে। আগে যেখানে মাটির বা কাঠের ঘোড়া ব্যবহার হত, এখন সেখানে ফাইবারের তৈরি ঘোড়া ব্যবহার করা হচ্ছে। সাজসজ্জাতেও এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। তবুও মূল ঐতিহ্য আজও অটুট রয়েছে।

কাটোয়া মহকুমার কোশিগ্রাম, সুদপুর, নোয়াপাড়া, আখড়া, এই সব গ্রামে এখনও টিকে আছে ঘোড়ানাচের দল। বংশ পরম্পরায় এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রেখেছেন শিল্পীরা। অনেকেই সরকারি শিল্পী ভাতাও পান।

শিল্পীদের কথায়, বছরের অন্য সময় জীবিকার জন্য কেউ মাছ ধরেন, কেউ চাষবাস করেন। কিন্তু ভোটের মরশুমে তাঁদের কদর অনেক বেড়ে যায়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শাসক-বিরোধী নির্বিশেষে, সবাই তাঁদের ডাকছেন। এতে একদিকে যেমন আয় বাড়ছে, তেমনই লোকশিল্পটিও নতুন করে বাঁচার সুযোগ পাচ্ছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ভোটের রাজনীতির মধ্যেই আবার নতুন করে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য ‘ঘোড়ানাচ’।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement