
ঐতিহাসিক শহর কাটোয়া। যার রন্ধ্রে রন্ধ্রে নদী, ধর্ম আর রাজনীতির দীর্ঘ ইতিহাস জড়িয়ে। ২০২৬ ভোটের আগে তৃণমূল–বিজেপি লড়াইয়ে ফের উত্তপ্ত হতে চলেছে এই বিধানসভা কেন্দ্র। পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া একটি জেনারেল ক্যাটাগরি বিধানসভা কেন্দ্র। এটি বর্ধমান পূর্ব লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভা অংশের একটি। এই কেন্দ্রের অন্তর্গত কাটোয়া পুরসভা, দাঁইহাট পুরসভা, কাটোয়া–২ কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক এবং কাটোয়া–১ ব্লকের চারটি গ্রাম পঞ্চায়েত; খাজুরডিহি, সুদপুর, করাজগ্রাম ও গোয়াই। মিশ্র কেন্দ্র। গ্রামীণ ভোটারের সংখ্যা বেশি। মোট ভোটারের প্রায় ৬৫.৪০ শতাংশ গ্রামাঞ্চলে বসবাস করেন, আর ৩৪.৬০ শতাংশ শহরাঞ্চলে।
১৯৫১ সালে গঠিত হওয়ার পর থেকে কাটোয়া পশ্চিমবঙ্গের সব ক'টি বিধানসভা নির্বাচনেই অংশ ...
ঐতিহাসিক শহর কাটোয়া। যার রন্ধ্রে রন্ধ্রে নদী, ধর্ম আর রাজনীতির দীর্ঘ ইতিহাস জড়িয়ে। ২০২৬ ভোটের আগে তৃণমূল–বিজেপি লড়াইয়ে ফের উত্তপ্ত হতে চলেছে এই বিধানসভা কেন্দ্র। পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া একটি জেনারেল ক্যাটাগরি বিধানসভা কেন্দ্র। এটি বর্ধমান পূর্ব লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভা অংশের একটি। এই কেন্দ্রের অন্তর্গত কাটোয়া পুরসভা, দাঁইহাট পুরসভা, কাটোয়া–২ কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক এবং কাটোয়া–১ ব্লকের চারটি গ্রাম পঞ্চায়েত; খাজুরডিহি, সুদপুর, করাজগ্রাম ও গোয়াই। মিশ্র কেন্দ্র। গ্রামীণ ভোটারের সংখ্যা বেশি। মোট ভোটারের প্রায় ৬৫.৪০ শতাংশ গ্রামাঞ্চলে বসবাস করেন, আর ৩৪.৬০ শতাংশ শহরাঞ্চলে।
১৯৫১ সালে গঠিত হওয়ার পর থেকে কাটোয়া পশ্চিমবঙ্গের সব ক'টি বিধানসভা নির্বাচনেই অংশ নিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে এই কেন্দ্র বামপন্থীদের শক্ত ঘাঁটি ছিল। ঐক্যবদ্ধ কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া দু’বার জয়ী হয় এবং ১৯৬৪ সালের বিভাজনের পরে সিপিআই(এম) ছয়বার এই আসন দখল করে। মাঝেমধ্যে কংগ্রেসও এই কেন্দ্রে সাফল্য পেয়েছে। ১৯৯৬ সালে রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় কংগ্রেসের হয়ে জয়ী হওয়ার পর কংগ্রেসের প্রভাব নতুন ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি পরপর চারবার কংগ্রেসের হয়ে জয় পান।
২০১৬ সালে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন এবং সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন। ২০১৬ এবং ২০২১; দুই নির্বাচনে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। ১৯৯৬ সাল থেকে তাঁর টানা ছয়বারের জয় এই কেন্দ্রের ইতিহাসে নজিরবিহীন। ২০১৬ সালের নির্বাচন ছিল অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি। সে বার রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় কংগ্রেসের শ্যামা মজুমদারকে মাত্র ৯১১ ভোটে হারান। পরবর্তী সময়ে শ্যামা মজুমদারও কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন এবং ২০২১ সালে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। দুই প্রাক্তন কংগ্রেস নেতার লড়াইয়ে রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় আবারও জয়ী হন। তিনি মজুমদারকে ৯,১৫৫ ভোটে পরাজিত করেন।
কাটোয়া বিধানসভা অংশে বিজেপির উত্থান ধীরে হলেও তা উল্লেখযোগ্য। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই বিধানসভা অংশে বিজেপি ১,৮৫৯ ভোটে এগিয়ে ছিল। সেই ফলাফলকে প্রতীকী সাফল্য হিসেবে দেখা হয়। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস আবার এগিয়ে যায়। সে বার তৃণমূল এই অংশে ১২,৪১৫ ভোটে লিড নেয়। ফলে এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কাটোয়ায় মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২,৬৭,৭৩৮। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২,৭৫,৬৯৮। ভোটারদের মধ্যে তফসিলি জাতি ২৭.৪১ শতাংশ এবং মুসলিম ভোটার ২১.৮০ শতাংশ। ভোটদানের হারও ধারাবাহিক ভাবে বেশি। ২০১৬ সালে ছিল ৮৪ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৮২.৫৫ শতাংশ, ২০২১ সালে ৮৪.১৩ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৮০.৪৫ শতাংশ।
কাটোয়া শহর, যার নামেই এই বিধানসভা কেন্দ্রের নাম, ঐতিহাসিক গুরুত্বে সমৃদ্ধ। এক সময় এর নাম ছিল ইন্দ্রাণী পরগনা, পরে কণ্টক নগরী। বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বীদের কাছে এই শহর বিশেষ ধর্মীয় গুরুত্ব বহন করে। অজয় ও হুগলি নদীর সঙ্গমস্থলের কাছে অবস্থিত হওয়ায় মুঘল ও নবাবি আমলে এই শহর কৌশলগত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মুর্শিদাবাদে পৌঁছনোর প্রবেশদ্বার হিসেবেও কাটোয়ার গুরুত্ব ছিল। মারাঠা আক্রমণ এবং ব্রিটিশদের দখলের সময় এখানে একাধিক যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ১৭৪০-এর দশকে প্রথম ও দ্বিতীয় কাটোয়ার যুদ্ধ এবং ১৭৬৩ সালে তৃতীয় কাটোয়ার যুদ্ধের সময় সংঘর্ষ হয়। ১৭৫৭ সালে প্লাসির যুদ্ধের আগে রবার্ট ক্লাইভ এখানেই যুদ্ধপরিষদ বৈঠক করেন।
ভূপ্রকৃতির দিক থেকে কাটোয়া মধ্য বাংলার পলিমাটির সমভূমির মতোই সমতল ও উর্বর। কাছ দিয়ে অজয় নদ প্রবাহিত এবং হুগলি নদীও কাছাকাছি। এই নদীগুলি কৃষি ও বাণিজ্যে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। ধান, পাট এবং মৌসুমি সবজি এখানে প্রধান উৎপাদন। অতীতে নদীপথে বাণিজ্য, বিশেষ করে লবণ ও অন্যান্য পণ্যের ব্যবসা স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বর্তমানে কৃষিই অর্থনীতির মূল ভিত্তি, যার সঙ্গে ছোট শিল্প ও ব্যবসা যুক্ত হয়েছে। কাটোয়া সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও সক্রিয়, বিশেষ করে কার্তিক পুজোর সময় ‘কার্তিক লড়াই’ নামে পরিচিত উৎসবে ২৫০-র বেশি সংগঠন প্রতিযোগিতামূলক ভাবে অংশ নেয়।
পরিকাঠামোর দিক থেকে কাটোয়া মাঝারি মানের হলেও কার্যকর। রেলপথে বর্ধমান, ব্যান্ডেল, আজিমগঞ্জ ও আহমেদপুরের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। এই রেললাইনগুলির সূচনা বিংশ শতকের গোড়ার দিকে। সড়ক যোগাযোগও যথেষ্ট ভালো। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্য পরিষেবা রয়েছে, যদিও উচ্চশিক্ষা বা বিশেষ চিকিৎসার জন্য অনেক সময় বর্ধমান বা কলকাতায় যেতে হয়। কাটোয়া জেলা সদর বর্ধমান থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দূরে এবং কলকাতা থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে। কাছাকাছি শহরের মধ্যে রয়েছে কালনা (৩০ কিমি), কাটোয়ার যমজ শহর দাঁইহাট (১০ কিমি) এবং পূর্বস্থলী (২৫ কিমি)। আসানসোল প্রায় ১৫২ কিলোমিটার দূরে এবং ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে কাটোয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক লড়াইয়ের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বিজেপি তাদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং অতীতের লিডের উপর ভর করে নতুন সাফল্যের আশা করছে। অন্যদিকে অভিজ্ঞ রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়কে সামনে রেখে তৃণমূল কংগ্রেস এই আসন ধরে রাখতে মরিয়া। যদি কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট জোট তাদের উপস্থিতি কিছুটা পুনরুদ্ধার করতে পারে, তবে তা তৃণমূল বিরোধী ভোটকে ভাগ করে বিজেপির পক্ষে পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
Shyama majumdar
BJP
Prabir ganguli
INC
Nota
NOTA
Paritosh chair
BSP
Apurba chakraborty
SUCI
Shyama majumdar
INC
Anil dutta
BJP
Nota
NOTA
Krishnadas saha
PDS
Apurba chakraborty
SUCI
Sridam goldar
BSP