
কংগ্রেসের প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরী ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বোঝাপড়া আছে বিজেপি ও অমিত শাহর। মুর্শিদাবাদের নওদার সভা থেকে অভিযোগ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, অধীর ও হুমায়ুনকে ভোট দেওয়া মানে আসলে বিজেপির হাত শক্ত করা।
অধীর ও হুমায়ুনকে আক্রমণ করে অভিষেক বলেন, 'হুমায়ুন কবির ও অধীর চৌধুরীকে নিরাপত্তা দেয় অমিত শাহর দফতর। চ্যালেঞ্জ করছি দুজনকে। আপনাদের বিবেক বোধ থাকলে ফিরিয়ে দিন কেন্দ্রীয় বাহিনী। রাজ্য আপনাদের নিরাপত্তা দেবে। আপনাদের কী সেটিং আছে? সেটা সাধারণ মানুষের বোঝা দরকার। আপনারা আসলে বিজেপিকেই শক্তিশালী করছেন। এটা সবাই জানে।' বক্তব্যের শুরুতেই অভিষেক ওই দুই নেতাকে বিজেপির এজেন্ট বলেও তোপ দাগেন।
হুমায়ুন কবির ২০১৯ সালে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। সেই প্রসঙ্গ তুলে ভরতপুরের প্রাক্তন বিধায়ককেও আক্রমণ করেন তিনি। অভিযোগ করেন, বিজেপির কথাতে ধর্ম নিয়ে এখন রাজনীতি করছেন হুমায়ুন। অভিষেকের কথায়, 'ধর্ম, মন্দির নিয়ে রাজনীতি করে ভোট চাইছে বিজেপি। হুমায়ুন কবির ধর্মের নামে বিভাজন তৈরি করছে। হঠাৎ করে তার মনে হল বাবরি মসজিদ তৈরি করতে হবে মুর্শিদাবাদে। সে যখন ২০১৯ সালে বিজেপিতে গিয়ে প্রার্থী হল তখন তার বোধোদয় হল না যে বাবরি মসজিদ বানাতে হবে। যারা বাবরি মসজিদ ভেঙেছিল, হুমায়ুন তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল। এদের একটা ভোটও দেওয়া মানে মোদী ও বিজেপিকে ভোট দেওয়া।'
মুর্শিদাবাদে যে গোষ্ঠী কোন্দল আছে তা কার্যত স্বীকার করে নিয়ে দলীয় কর্মীদের কড়া বার্তা দেন তিনি। সাফ জানান, তিনি সবার উপর নজর রাখছেন। প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। বলেন, 'যে দলের জার্সি পরে আছেন, সেই দলের হয়ে খেলুন। অন্য দলের হয়ে খেলতে যাবেন না। অন্য দলের হয়ে খেলতে গেলে এক মাস পরে মাঠের বাইরে বের করে দেবে। আর মাঠে ঢুকতে পারবেন না। আমার সবার উপর নজর আছে। ওয়ার্নিং দিয়ে যাচ্ছি। যদি কেউ মনে করেন দলে থেকে বিশৃঙ্খলা করবেন, তাহলে ক্ষমা করা হবে না। আর যদি কারও কোথাও মনে হয়, আমার সঙ্গে প্রার্থীর মনোমালিন্য হয়েছে তাহলে ধরে নেবেন প্রার্থী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়। ব্যক্তিগত, পছন্দ অপছন্দকে গুরুত্ব দেওয়া হবে না।'
সম্প্রতি মুর্শিদাবাদে রামনবমীর শোভাযাত্রা ঘিরে যে হিংসার ঘটনা ঘটেছে তা নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে আক্রমণ করেন অভিষেক। বলেন, 'নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর দাঙ্গা হয়েছে। রাজ্য সরকারের সব অধিকারিককে বদলে দিয়েছে। যাতে দাঙ্গা করতে পারে। কোনও প্ররোচনায় পা দেবেন না। যারা তরোয়াল, বন্দুক, লাঠি নিয়ে, মদ খেয়ে দাঙ্গা করছে তারা ধর্মের ইতিহাস পড়েনি। রাম সংযমের প্রতীক। বাংলার এক ছটাক জমি আমরা ছাড়ব না।'