
ভরতপুর মুর্শিদাবাদ জেলার অন্তর্গত একটি সাধারণ শ্রেণির বিধানসভা কেন্দ্র। এটি বহরমপুর লোকসভা আসনের অধীন সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি। এই কেন্দ্রটি সম্পূর্ণভাবে ভারতপুর–২ ব্লক এবং ভরতপুর–১ ব্লকের পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত।
ভরতপুর বিধানসভা কেন্দ্রটি গঠিত হয় ১৯৫১ সালে। তখন থেকেই রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা নির্বাচনই এখানে হয়েছে। আরএসপি এই আসনে মোট ন’বার জয়ী হয়েছে, যার মধ্যে ১৯৭৭ থেকে ২০১১ পর্যন্ত টানা আটটি নির্বাচনে তাদের আধিপত্য ছিল। অন্যদিকে কংগ্রেস ছয়বার এই আসন জিতেছে। সিপিআই(এম) এবং তৃণমূল কংগ্রেস একবার করে জয় পেয়েছে। অধিকাংশ বিধায়ক এক বা দুই মেয়াদই দায়িত্বে ছিলেন, তবে আরএসপির ইদ মহম্মদ ১৯৯১ থেকে ২০১১ পর্যন্ত টানা পাঁচ মেয়াদে এই আসনের প্রতিনিধি...
ভরতপুর মুর্শিদাবাদ জেলার অন্তর্গত একটি সাধারণ শ্রেণির বিধানসভা কেন্দ্র। এটি বহরমপুর লোকসভা আসনের অধীন সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি। এই কেন্দ্রটি সম্পূর্ণভাবে ভারতপুর–২ ব্লক এবং ভরতপুর–১ ব্লকের পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত।
ভরতপুর বিধানসভা কেন্দ্রটি গঠিত হয় ১৯৫১ সালে। তখন থেকেই রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা নির্বাচনই এখানে হয়েছে। আরএসপি এই আসনে মোট ন’বার জয়ী হয়েছে, যার মধ্যে ১৯৭৭ থেকে ২০১১ পর্যন্ত টানা আটটি নির্বাচনে তাদের আধিপত্য ছিল। অন্যদিকে কংগ্রেস ছয়বার এই আসন জিতেছে। সিপিআই(এম) এবং তৃণমূল কংগ্রেস একবার করে জয় পেয়েছে। অধিকাংশ বিধায়ক এক বা দুই মেয়াদই দায়িত্বে ছিলেন, তবে আরএসপির ইদ মহম্মদ ১৯৯১ থেকে ২০১১ পর্যন্ত টানা পাঁচ মেয়াদে এই আসনের প্রতিনিধি ছিলেন। অন্যদিকে সত্যপদ ভট্টাচার্য চারবার বিধায়ক হন—একবার ১৯৬৯ সালে কংগ্রেসের টিকিটে এবং ১৯৭৭ থেকে ১৯৮৭ পর্যন্ত তিনবার আরএসপির প্রার্থী হিসেবে। মোট ১০ জন বিধায়কের মধ্যে মাত্র তিনজন ছিলেন মুসলিম, যদিও এটি একটি মুসলিম-অধ্যুষিত কেন্দ্র।
এই কেন্দ্রটি বাংলাদেশের সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা ক্রমশ বেড়েছে। ভরতপুর বরাবরই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও, হিন্দু জনসংখ্যার অনুপাত কমেছে। বর্তমানে প্রায় ৫৭.৯০ শতাংশ ভোটার মুসলিম এবং তফসিলি জাতির ভোটার প্রায় ১৬.৪৪ শতাংশ। ২০২৫ সালের আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী, ভরতপুরের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬৯ শতাংশ মুসলিম, ফলে হিন্দু ও অন্যান্য সম্প্রদায় সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছে।
নথিভুক্ত ভোটারের সংখ্যা বৃদ্ধিও এই জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের প্রতিফলন। ১৯৭২ থেকে ১৯৮২ সালের মধ্যে ভোটার বেড়েছিল ২৩,১০১ জন। পরবর্তী দশকে বেড়েছে ৩৮,১৫৭ জন। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালে বেড়েছে ১৬,৭৭০ জন এবং ২০০১ থেকে ২০১১ সালে বেড়েছে ২৪,২২৭ জন। ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর বৃদ্ধির হার আরও বেড়েছে। ২০১১ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে যুক্ত হয়েছে ৬১,৯৮৯ জন ভোটার, পরবর্তী পাঁচ বছরে ৩৪,২৩৬ জন এবং তার পরের তিন বছরে আরও ৮,৭০৮ জন। ২০২৪ সালে ভরতপুরে মোট ভোটার ছিল ২,৫২,৩১১ জন, যা ২০২১ সালে ছিল ২,৪৩,৬০৩। ২০১৯ সালে ২,৩২,৮১৮ জন। ২০১৬ সালে ২,১৫,৮৫০ জন এবং ২০১১ সালে ১,৮১,৬১৪ জন।
২০১১ সালে আরএসপি শেষবারের মতো এই আসনে জেতে। তখন ইদ মহম্মদ কংগ্রেসের দলিয়া বেগমকে মাত্র ১,৯২৯ ভোটের ব্যবধানে হারান। যা আরএসপির দুর্বলতার ইঙ্গিত দিয়ে দিয়েছিল। এই পতন স্পষ্ট হয় ২০১৬ সালে, যখন ইদ মহম্মদ তৃতীয় স্থানে চলে যান এবং কংগ্রেসের কমলেশ চট্টোপাধ্যায় তৃণমূলের খাদেম এ দাস্তেগিরকে ১১,০১৭ ভোটে হারান। অবশেষে ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ভরতপুরে জয় পায়। আবার ২০১১ সালে হুমায়ুন কবির বিজেপির ইমন কল্যাণ মুখোপাধ্যায়কে ৪৩,০৮৩ ভোটে পরাজিত করেন।
লোকসভা নির্বাচনে ভরতপুর বিধানসভা অংশে তৃণমূল কংগ্রেসের ফল তুলনামূলকভাবে ভালো। ২০০৯ সালে কংগ্রেস আরএসপিকে ১৪,৪১৫ ভোটে এগিয়ে ছিল এবং ২০১৪ সালে তৃণমূলের থেকে ৪৭,৩৮২ ভোটে এগিয়ে ছিল। কিন্তু ২০১৯ সালে পরিস্থিতি বদলায়, যখন তৃণমূল কংগ্রেস কংগ্রেসকে ৭,৬৮৯ ভোটে। ২০২৪ সালে তৃণমূল এখানে ১৮,৫৫৮ ভোটে এগিয়ে যায়।
ভরতপুর মূলত গ্রামীণ এলাকা। ৯২.৪৯ শতাংশ ভোটার গ্রামীণ এবং মাত্র ৭.৫১ শতাংশ শহুরে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অন্যান্য কেন্দ্রের তুলনায় এখানে ভোটার উপস্থিতির হার কিছুটা কম। ২০১১ সালে ভোট পড়েছিল ৮১.৪২ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৭৬.৬৩ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৭৬.৪৭ শতাংশ, ২০২১ সালে ৭৭.৭৭ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৭৪.১৯ শতাংশ।
ঐতিহাসিকভাবে, ভরতপুর নামটির সঙ্গে হিন্দু সভ্যতার শিকড় জড়িত। “ভরত” শব্দটি ভারতীয় পরিচয় ও পুরাণের সঙ্গে যুক্ত। বিশেষ করে রামায়ণের চরিত্র ভরত, ভগবান রামের ভাই। “ভরতপুর” অর্থাৎ “ভরতের নগর”। এই নামটি এলাকার প্রাচীন হিন্দু ঐতিহ্যের প্রতিফলন, যদিও পরবর্তীকালে জনসংখ্যার গঠন বদলে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে ওঠে। অভিযোগ করা হয় বৈধ ও অবৈধ-উভয় ধরনের অভিবাসন এই অঞ্চলের জনসংখ্যার ভারসাম্য বদলে দিয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে সীমান্ত পেরিয়ে এদেশে আসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।
ভৌগোলিকভাবে, ভারতপুর মুর্শিদাবাদ জেলার মধ্যভাগে অবস্থিত এবং ভাগীরথী নদী ও তার শাখানদী দ্বারা পুষ্ট উর্বর পলিমাটির অঞ্চল। কৃষিই এখানকার অর্থনীতির মূল ভিত্তি। ধান, পাট ও বিভিন্ন শাকসবজি প্রধান ফসল। সড়কপথে ভারতপুর থেকে জেলা সদর বহরমপুর প্রায় ৩৫ কিমি, নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগর প্রায় ৬০ কিমি এবং রাজ্য রাজধানী কলকাতা প্রায় ১৮০ কিমি দূরে। কাছাকাছি শহরগুলির মধ্যে ডোমকল (২৫ কিমি), কান্দি (৩০ কিমি) ও জিয়াগঞ্জ (২৮ কিমি) উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর ভারতপুর থেকে প্রায় ৪০ কিমি দূরে। রেল যোগাযোগের জন্য বেলডাঙা ও বহরমপুর কোর্ট স্টেশন গুরুত্বপূর্ণ, যা শিয়ালদহ–লালগোলা লাইনের সঙ্গে যুক্ত।
ভরতপুরে বিজেপির দুর্বলতার প্রধান কারণ হল হিন্দু ভোটারের সংখ্যা ক্রমাগত কমে যাওয়া। বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রভাব এখানে পড়তে পারে। বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিচ্ছে। বিজেপির একমাত্র আশা হলো মুসলিম ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমা, তৃণমূল ও কংগ্রেসের মধ্যে মুসলিম ভোটে বড় ধরনের বিভাজন এবং হিন্দু ভোটের পূর্ণ সংহতি তাদের পক্ষে আসা।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসও বর্তমানে সমস্যার মুখে। কারণ সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করা বিতর্কে জড়ানোর পর দল বর্তমান বিধায়ক হুমায়ুন কবিরকে বরখাস্ত করেছে এবং নতুন প্রার্থী খুঁজতে বাধ্য হয়েছে। তবুও তৃণমূল কংগ্রেস এখনও কংগ্রেস ও বিজেপির তুলনায় এগিয়ে থাকতে পারে, কিন্তু ২০২৬ সালের নির্বাচনে ভরতপুরের লড়াই প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি হাড্ডাহাড্ডি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
Iman kalyan mukherjee
BJP
Kamalesh chatterjee (gopal)
INC
Badan ghosh
AMB
Nota
NOTA
Sajjad hossain
AIMIM
Shyamapada ghosh
BSP
Basudeb saha
IND
Khadem a dastegir (khadu)
AITC
Id mohammad
RSP
Iman kalyan mukherje
BJP
Nota
NOTA
Humayun kabir
SP
Badan ghosh
AMB