
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নদিয়ার রানাঘাটে ভোটকর্মী প্রশিক্ষণ শিবিরে উত্তেজনা ছড়াল। নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের অভিযোগ ঘিরে এক ভোটকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে, যা ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
ঘটনাটি ঘটেছে রানাঘাট দেবনাথ বয়েজ ইনস্টিটিউটে, যেখানে রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম বিধানসভার ভোটকর্মীদের প্রশিক্ষণ চলছিল। অভিযোগ, প্রশিক্ষণ শুরুর আগে প্রজেক্টর স্ক্রিনে বারবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিজ্ঞাপন দেখানো হচ্ছিল। এই নিয়ে আপত্তি তোলেন সৈকত চট্টোপাধ্যায় নামে এক শিক্ষক তথা ভোটকর্মী এবং আরও কয়েকজন। তাঁদের দাবি, নির্বাচনী বিধি চালু থাকা অবস্থায় এই ধরনের প্রচার সম্পূর্ণ বেআইনি।
সৈকতবাবুর অভিযোগ, প্রতিবাদ জানাতেই বিডিও অফিসের এক কর্মী তাঁকে হুমকি দেন। এরপর হঠাৎই কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর উপর চড়াও হয়ে বেধড়ক মারধর করে। এমনকি মিথ্যে মামলায় ফাঁসানোরও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তিনি দাবি করেছেন, এই ঘটনার নেপথ্যে বিডিও-র ভূমিকা রয়েছে।
যদিও মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন হাঁসখালির বিডিও সায়ন্তন বসু। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি শুধুমাত্র কথাকাটাকাটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল এবং পরিস্থিতি বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে পরে আবার বচসা বাঁধে বলে তিনি জানান।
বিষয়টিতে নন্দীগ্রাম থেকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁর কথায়, আমি টেকওভার করছি। সবকটাকে সাসপেন্ড করা উচিত।
ঘটনার প্রতিবাদে অন্যান্য ভোটকর্মীরা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাঁদের প্রশ্ন, কীভাবে বহিরাগতরা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ঢুকে একজন ভোটকর্মীর উপর হামলা চালাতে পারে? পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তীব্র হয়েছে। বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার তৃণমূলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকরা শাসকদলের হয়ে কাজ করছেন। অন্যদিকে, তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের পাল্টা জবাব দেওয়া হয়েছে।