
(প্রতিবেদন মুস্তফা শেখ এবং অমরদীপ কুমার)
সারা ভারতজুড়েই বাঙালিদের বাস। সে দিল্লি, মুম্বই হোক বা দেশের অন্যান্য প্রান্ত। আর এই সব মানুষগুলির মধ্যে একটা বড় অংশ লেবার বা দৈনিক আয়ের ভিত্তিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। আর SIR-এর পর এই পরিযায়ী শ্রমিকদের অনেকেই ভোটের সময় বাংলায় আসতে চাইছেন। তাঁরা মনে করছেন, এইবার ভোট না দিলে হয়তো নাম কেটে যাবে।
এই যেমন মুম্বইতে জুয়েলারি ক্ষেত্রে কর্মরত হাজার হাজার ভোটার চাইছেন ভোট দিতে বাংলায় আসতে। কিন্তু তাঁদের মধ্যে অনেকেই ট্রেনের টিকিট পাচ্ছেন না।
এই প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ স্বর্ণ শিল্প কল্যাণ সংঘের সাধারণ সম্পাদক কালীদাস সিনহা রায় বলেন, 'এপ্রিলে ট্রেনের টিকিটের বিরাট ডিমান্ড রয়েছে। যেই কারণে আমরা রেলমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে অতিরিক্ত ট্রেন চেয়েছি। আমরা মাত্র ২৪টা স্পেশাল ট্রেন পেয়েছি সারা দেশে। এটা পর্যাপ্ত নয়। মুম্বই থেকে মাত্র ৭টি ট্রেন আসবে বাংলায়। এটা পর্যাপ্ত সংখ্যা নয়। যাঁরা ট্রেনে আসতে পারছেন না, তাঁরা বাসে আসবেন।'
এই প্রসঙ্গে জুয়েলারি ক্ষেত্রে কর্মরত নয়ন পাল বলেন, 'SIR-এর পর আমার নাম লিস্টে আসেনি। আমায় নিজের গ্রামে যেতে হবে এই প্রক্রিয়ার জন্য। আমি ভোট দিতে চাই। নিজের নাম থাকুক, এটা নিশ্চিত করতে চাই। আমরা প্রশাসনের কাছে আবেদন করব যেন ট্রেন বাড়ান হয়। কারণ, ডাবল টাকা দেওয়ার পরও টিকিট মিলছে না।'
দাসপুরের সুজয় ডালা বলেন, 'অনেক ফার্স্ট টাইম ভোটার ভোট দিতে চাইছে। জাভেরি বাজারের মোটামুটি সব কর্মীরাই ভোট দিতে যেতে চাইছে। ট্রেন টিকিট পাওয়া খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা বিশ্বাস করি ভোটার তালিকায় নাম থাকা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য খুবই জরুরি।'
দিল্লিতে একই অবস্থা
দক্ষিণ দিল্লির বস্তিতে প্রচুর মুসলিম বাঙালির বাস। তাঁরা দশকের পর দশক এখানে থাকছেন। তবে তাঁরা বাংলার ভোটার। তাঁদের মধ্যে অনেকেই বাংলায় ফিরে আসছেন।
তাঁরা ভয় পাচ্ছেন, যদি এইবার ভোট না দেওয়া হয়, তাহলে ভোটার লিস্ট থেকে নাম বাদ পড়ে যাবে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের এক প্রতিনিধি দল সেখানে গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের সামনেও ফুটে ওঠে একই ছবি।
নাম বাদ চলে যাওয়ার ভয়
তাঁদের দাবি, অনেকের নামই বাদ পড়েছে SIR-এর পর। পরিবারের অর্ধেকের নাম ভোটার লিস্টে রয়েছে, তো অর্ধেকের পড়েছে বাদ। এমন পরিস্থিতিতে ভোট দেওয়াটা খুবই জরুরি। তাঁরা যদি ভোট না দেন, তাহলে নাম কাটা পড়তে পারে। কিন্তু মুশকিল হল, তাঁরাও ট্রেনের টিকিট জোগার করতে পারছেন না।
এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই চাইছেন প্রাইভেট বাসে পশ্চিমবঙ্গে আসতে। যদিও পেট্রোল এবং ডিজেলের সঙ্কটের ভয়ে বাস মালিকরাও আসতে চাইছেন না বলে অভিযোগ।
এই প্রসঙ্গে ওই এলাকার বাসিন্দা মিন্টু বলেন, 'অনেকেই SIR নিয়ে ভয়ে রয়েছে। এখানে প্রায় ৫০০০ থেকে ৬০০০ বাঙালি বাস করেন। তাঁরা ভয়ে রয়েছেন। কারণ, অনেকের নামই বাদ গিয়েছে। বাংলায় আমাদের এলাকায় প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল ভোট রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সবাই চিন্তিত। কিন্তু প্রশ্ন হল, যদি ভোট দিতে যেতেও হয়, তাহলে কীভাবে যাওয়া সম্ভব?'
মাজিতুল্লার কথায়, 'আমার নাম এখনও ঝুলে রয়েছে। সবকিছু ঠিক না হওয়া পর্যন্ত কীভাবে যাব?' আসাবুদ্দিন শেখ বলেন, 'আমার নাম এসেছে। কিন্তু দুই বোনের নাম আসেনি।' আর তাঁদের সঙ্গে কথা বললেই বোঝা যাচ্ছে যে কতটা ভয়ে রয়েছেন গোটা দেশের ভোটাররা।