
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল লোকসভা আসনের সাতটি বিধানসভার মধ্যে অন্যতম দাসপুর। দাসপুর দুই নম্বর ব্লক ও এক নম্বর ব্লকের ছয়টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে এই কেন্দ্র। ১৯৫১ সাল থেকে দাসপুর পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে জায়গা পায়। সেই থেকে ভোট হয়ে আসছে। এক সময় বামেদের শক্ত ঘাঁটি ছিল ঘাটাল বিধানসভা আসনটি। যদিও ২০১২ সালের উপনির্বাচনসহ মোট ১৮ বারের ভোটের ফলাফল মিশ্র এসেছে। বিভিন্ন দল জিতেছে। সিপিআই ও সিপিএম যথাক্রমে তিন ও আটবার জয়লাভ করে। ১৯৫৭ ও ১৯৬৭ সালে জিতেছিলেন কংগ্রেস প্রার্থী। ২০০১ সাল থেকে বেশিরভাগ সময়ই এই আসনটি দখল করে আসছে ঘাসফুল শিবির। দাসপুরে প্রথমবার মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে জেতান অজিত ভুনিয়া। সেটা ২০০১ সাল। তবে ২০০৬ সালে সেই আসনেই সিপিআইএম প্রার্থী সুনীল অ...
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল লোকসভা আসনের সাতটি বিধানসভার মধ্যে অন্যতম দাসপুর। দাসপুর দুই নম্বর ব্লক ও এক নম্বর ব্লকের ছয়টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে এই কেন্দ্র। ১৯৫১ সাল থেকে দাসপুর পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে জায়গা পায়। সেই থেকে ভোট হয়ে আসছে। এক সময় বামেদের শক্ত ঘাঁটি ছিল ঘাটাল বিধানসভা আসনটি। যদিও ২০১২ সালের উপনির্বাচনসহ মোট ১৮ বারের ভোটের ফলাফল মিশ্র এসেছে। বিভিন্ন দল জিতেছে। সিপিআই ও সিপিএম যথাক্রমে তিন ও আটবার জয়লাভ করে। ১৯৫৭ ও ১৯৬৭ সালে জিতেছিলেন কংগ্রেস প্রার্থী। ২০০১ সাল থেকে বেশিরভাগ সময়ই এই আসনটি দখল করে আসছে ঘাসফুল শিবির। দাসপুরে প্রথমবার মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে জেতান অজিত ভুনিয়া। সেটা ২০০১ সাল। তবে ২০০৬ সালে সেই আসনেই সিপিআইএম প্রার্থী সুনীল অধিকারীর কাছে হেরে যান অজিত। ২০১১ সালে প্রায় ৫০ হাজারের কাছাকাছি ভোটে জিতে আসনটি পুনরুদ্ধার করেন। এদিকে ২০১২ সালে তাঁর অকাল মৃত্যুর পর তাঁর বিধবা স্ত্রী মমতা ভুনিয়া উপনির্বাচনে ১৮,৯২৮ ভোটের ব্যবধানে আসনটি ধরে রাখেন। তারপর থেকে সেই আসনে জিতে আসছেন তিনিই। ২০১৬ সালে ২৮,৭৩৯ এবং ২০২১ সালে ২৬,৮৪২ ভোটের ব্যবধানে নিকটতম প্রার্থীকে পরাজিত করেন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে ২০২১ সালে, বিজেপি এই আসনে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে। তবে লোকসভা ভোটের নিরিখে বিচার করলে এই বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের সঙ্গে নিজেদের ভোটের ব্যবধান কমিয়ে এনেছে গেরুয়া শিবির। ২০১৯ সালে সেখানকার পদ্ম প্রার্থী ৯,৯৪০ এবং ২০২৪ সালে ১৬,৫১১ ভোটে পিছিয়ে ছিলেন। ২০২১ সালে দাসপুরে ২,৯৮,০৯৬ জন ভোটার ছিলেন। ২০১৯ সালে ২,৮৯,০২৪ এবং ২০১৬ সালে ২,৭৪,৩৪৩ জন। তার মধ্যে তফসিলি জাতির ভোটার ১৫.১৮ ও মুসলিম ৭.৬০ শতাংশ। নির্বাচনী এলাকাটি সম্পূর্ণ গ্রামীণ। বরাবরই এই আসনে ভোটের হার কম। ২০২১ সালে ৭৪.৮১ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৭৩.৩৬ শতাংশ এবং ২০১৬ সালে ৭৮.৪২ শতাংশ ভোট পড়েছিল। ভৌগোলিকভাবে দাসপুর দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলার উর্বর পলিমাটি সমভূমিতে অবস্থিত। ভূখণ্ডটি সমতল এবং কৃষির জন্য উপযুক্ত। এর পাশ দিয়ে রূপনারায়ণ নদী প্রবাহিত। ধানের সঙ্গে তৈলবীজের চাষ হয়। দাসপুরের অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। রয়েছে ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং গ্রামীণ কুটির শিল্প। এই অঞ্চলে তাঁত বুনন এবং মৃৎশিল্পের ঐতিহ্যও রয়েছে। তবে তা ক্রমহ্রাসমান। দাসপুরের যোগাযোগ ব্যবস্থা বেশ উন্নত। ঘাটাল, চন্দ্রকোণা ও খড়গপুরের মতো শহরের সঙ্গে অঞ্চলটি যুক্ত। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সদর শহর মেদিনীপুর এখান থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কলকাতা ১২০ কিলোমিটার দূরে। দাসপুর থেকে পূর্ব মেদিনীপুর ও বাঁকুড়া জেলা বেশ কাছে। ব্রিটিশ আমলে এই দাসপুর হুগলি জেলার অংশ ছিল। তবে ১৮৭২ সালে তা মেদিনীপুরের সঙ্গে জুড়ে যায়। ১৭ শতকের গোড়ার দিকে ইংরেজরা এই অঞ্চলে একটি ব্যারাক স্থাপন করে। প্রশাসনিক ও সামরিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে এই অঞ্চলের ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে। বামেদের সরিয়ে ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই অর্থাৎ ২০১১ সালের আগেও এই কেন্দ্রে জিতেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ক্ষমতায় আসার পর একচেটিয়া রাজত্ব রয়েছে রাজ্যের শাসকদলের। ফলে এই কেন্দ্রে ২০২৬ এর নির্বাচনে এগিয়ে থেকে শুরু করবে তারা। তবে বিজেপির উত্থান মাথাব্যথার কারণ হতে পারে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের। সিপিআইএম ও কংগ্রেস এখানে প্রাসঙ্গিকতা ফিরে পেতে লড়াই করবে হয়তো। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৃণমূল ও বিজেপির বলেই মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।
Prasanta bera
BJP
Dhruba sekhar mandal
CPI(M)
Jagadish mondal adhikary
SUCI
Nota
NOTA
Swapan santra
CPM
Dipak kumar pramanik
BJP
Nota
NOTA
Madhusudan manna
SUCI