
বুধবার রাত থেকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মালদার কালিয়াচক। বুধবার বিকেল থেকে বিচার বিভাগীয় অফিসারদের আটকে রাখা হয়। পাশাপাশি বন্ধ করে রাখা হয় ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক। আর তাতেই ছড়িয়ে যায় উত্তেজনা। এই খবর জানার পরই সেখানে যায় বিরাট পুলিশ বাহিনী। তাদের চেষ্টাতেই বিচারবিভাগীয় অফিসারদের রাত ১২টা নাগাদ মুক্ত করা হয়। এমনকী বৃহস্পতিবার সকাল বেলায় উঠে যায় অবরোধও। কিন্তু তারপরও এলাকায় উত্তেজনা রয়েছে বলেই খবর। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট মালদায় বিচারিক আধিকারিকদের ৯ ঘণ্টা ধরে ঘেরাওয়ের ঘটনায় রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে। আদালত রাজ্যটিকে দেশের সবচেয়ে বেশি মেরুকরণ হওয়া রাজ্য বলে উল্লেখ করে এবং ঘটনাটিকে পূর্বপরিকল্পিত, হিসেবি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচেষ্টা বলে নিন্দা জানায়। যার লক্ষ্য ছিল নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যুক্ত আধিকারিকদের মনোবল ভেঙে দেওয়া।
যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তিনি এই ঘটনা রাতে জানতে পেরেছেন। তবে তাঁর হাত থেকে সব ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। নির্বাচন কমিশনই এখন রাজ্য চালাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে, এদিন ভবানীপুর কেন্দ্রে নিজের মনোনয়ন জমা করবেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর মনোনয়নে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
Mamata Banerjee Live Speech: কংগ্রেস মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে। খালি ভোট এলে প্রার্থী দিয়ে প্রচার করতে চলে আসে। ওরা ঠিক করে থাকলে বিজেপি ওখানে ক্ষমতাতেই আসতে পারত না।
মমতা: কারও কারও অ্য়াকাউন্টের খোঁজ করছে বিজেপির লোকেরা। ফোন করে ব্য়াঙ্ক, পোস্ট অফিসের অ্যাকাউন্ট নম্বর চাইছে। বলছে টাকা পাঠাব। ভুলেও কাউকে দেবেন না। অ্যাকাউন্ট হাপিস করে দেবে। বুদ্ধি খরচ করুন। লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু। পশ্চিমবঙ্গ সরকার থেকে করছে বললেও দেবেন না। ওটা বিজেপি করছে।
মমতা: পেট্রোলের দাম প্রতিবার ভোটের পর বাড়িয়ে দেয়। গ্যাসের দাম ১২০ টাকা বাড়িয়েছে। ভোটের পর আদৌ পাওয়া যায় কিনা দেখুন।
বৈষ্ণবনগরে মমতা: কী দরকার ছিল এই রায় বেরনোর পর জাজদের আটকে রাখার? যারা করেছে, তাদের ধরা হোক। কারণ আমাদের দলের কারও এই কাজ নয়।
তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ নিশানা করলেন AIMIM সুপ্রিমো আসাদউদ্দিন ওয়েইসিকে। বললেন, 'কে ওয়েইসি? হায়দরাবাদের বাইরে ওঁকে কেউ চেনে না। উনি কি অসমে ভোটে লড়ছেন? কেন পশ্চিমবঙ্গে ভোটেই লড়ছেন?'
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, 'অমিত শাহ নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে বাংলায় জরুরি অবস্থা জারি করে দিয়েছেন। একটাও ভবানীপুরের লোক দেখতে পাচ্ছেন? সব বিহার থেকে লোক এনেছে ভবানীপুরে। আজ অমিত শাহ আসবে বলে কয়েকশো কোটি টাকা খরচ করেছে। ভারতের সবচেয়ে বড় গুন্ডা অমিত শাহ। অমিত শাহ চোর।'
মুর্শিদাবাদে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে মুসলিম সমাজের উদ্দেশে শান্ত থাকার বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। তিনি এদিন সুতির ছাবিঘাটি কে.ডি স্কুলের ময়দান থেকে বলেন, "BJP চক্রান্ত করছে। ওরা গণ্ডগোল পাকানোর চেষ্টা করছে। কাল শুক্রবার, জুম্মাবার। আপনাদের উসকে দেওয়ার চেষ্টা করা হতে পারে। কিন্তু আপনাদের অনুরোধ শান্ত থাকবেন। কোনও প্ররোচনায় পা দেবেন না। আপনাদের দিয়ে অশান্তি করিয়ে তারপর CBI, NIA দিয়ে গ্রেফতার করতে চাইছে। তাই বলছি, শান্ত থাকুন। আমি থাকতে কেউ আপনাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে যেতে পারবে না। যাদের নাম বাদ গিয়েছে তাঁরা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করুন।"
ভোট কৌশলী সংস্থা I-PAC এর একাধিক অফিসে অভিযান চালাচ্ছে ইডি। পশ্চিমবঙ্গের কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্তে আজ আইপ্যাকের হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু ও দিল্লিতে অফিসে অভিযান চালাচ্ছে ইডি।
ভবানীপুরে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সঙ্গে ছিলেন অমিত শাহ ও শমীক ভট্টাচার্য।
আলিপুরের সার্ভে বিল্ডিংয়ে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী মনোনয়ন পত্র জমা দিলেন। সঙ্গে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাড়ায় তৃণমূল এবং BJP কর্মীরা মুখোমুখি। দুই পক্ষের তরফেই উঠছে স্লোগান। BJP-র কর্মীদের বক্তব্য, 'এটা ওদের পাড়া, ওরা করবেই। তবে এ সব করে ভেবে নিচ্ছে ভবানীপুর জিতে যাবে। তা হবে না। মানুষ ৪ তারিখ জবাব দেবে।' অন্যদিকে, চোর চোর স্লোগান তোলে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের পাড়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, অমিত শাহকে রোড শো-এর গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে গাড়িতে উঠে বেরিয়ে যেতে হয়।
অমিত শাহের রোড-শো'কে কেন্দ্র করে তৃণমূল-বিজেপির হাতাহাতি। উত্তপ্ত পরিস্থিতি। সামলাতে হিমশিম পুলিশের। চলছে স্লোগান, পাল্টা স্লোগান। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির কাছেই পৌঁছল শাহ-শুভেন্দুর শোভাযাত্রা।
বাংলার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ জানিয়ে লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দিলেন বিজেপি সাংসদ হেমা মালিনী। তাঁর বক্তব্য, সাংস্কৃতিক ফ্যাসিজম চলছে পশ্চিমবঙ্গে। তাঁর কথা, 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মস্থান পশ্চিমবঙ্গ। ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানী ছিল। কিন্তু আজ সেই ঐতিহ্য যেন ক্রমশ ম্লান হয়ে যাচ্ছে, এবং শিল্পীরা তাদের শিল্প ও সংস্কৃতি রক্ষা করার জন্য সংগ্রাম করছেন। গত ৮–৯ বছরে আমার জন্য কলকাতায় অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে যাওয়া ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠেছে। এর প্রধান কারণ হল, আমাদের যথাযথ নিরাপত্তা না দেওয়া। এর ফলে আয়োজকরাও ভয় পেয়ে যান এবং অনেক সময় আমাদের অনুষ্ঠান আয়োজন করতে দ্বিধা বোধ করেন। ১৫ মার্চ, যখন আমার একটি অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল, তখন আমাদের সেই অনুষ্ঠানের জন্য থিয়েটারও না দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। আমার মতে, এর প্রধান কারণ হল আমার বিজেপির সঙ্গে যুক্ত থাকা। এই কারণে এক ধরনের ভয় ও পক্ষপাতিত্ব কাজ করছে। একজন শিল্পী হিসেবে আমি বলতে পারি, শুধু আমিই নই, অনেক শিল্পীকেই এই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। শিল্প ও সংস্কৃতি আমাদের দেশের প্রাণ, আর এই ধরনের পরিস্থিতি অত্যন্ত দুঃখজনক।'
নির্বাচন কমিশনকে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের দায়িত্ব পালনের সময়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে।
যেসব আধিকারিক তাঁদের পরিবার নিয়ে হুমকির আশঙ্কা করছেন, তাঁদের বাসভবনেও নিরাপত্তা দিতে হবে। রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে একযোগে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে বিচারের কাজ নির্বিঘ্নে চলতে পারে। আপত্তি জানাতে একসঙ্গে দুই-তিন জনের বেশি লোক প্রবেশ করতে পারবে না এবং শুনানির সময়ে ৫ জনের বেশি জমায়েত করা যাবে না। এই নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়নে উপস্থিত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি রোড শো-এ যোগদান করেছেন ভবানীপুর। রয়েছেন BJP প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল, সন্তোষ পাঠক, শতরূপা, স্বপন দাশগুপ্তও। একদিকে যখন হাজরা মোড়ে রোড শো চলছে তখন তৃণমূল কর্মীরা 'গো ব্যাক' স্লোগানিং শুরু করে শাহের উদ্দেশে।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তা, মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (DGP) এবং জেলা শাসকদের তীব্র ভর্ৎসনা করেন। আগাম তথ্য থাকা সত্ত্বেও কেন আধিকারিকদের নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানায়, বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের মনে ভীতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিক, তা মেনে নেওয়া হবে না।
মালদার ঘটনায় তৃণমূনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, 'আমি প্রথমে একটা আবেদন করব, এখন অ্যাডমিন আমার হাতে নেই। আইন শৃঙ্খলা এখন নির্বাচন কমিশন হাতে নিয়েছে। ওরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কথায় চলে। আমার কথায় চলে না। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, ডিজি, সিপি, ডিএম, এসপি, বিডিও, এডিএম, এসজিও, আইসিরা চেঞ্জ হয়ে গিয়েছে। আমার হাত থেকে সব ক্ষমতা কেড়ে ইলেকশন কমিশন সুপার রাষ্ট্রপতি শাসন চালাচ্ছে। একদিকে হোম মিনিস্টার, আরেকদিকে রাজ্যপাল ডেকে। কাল যে ঘটনা মালদায় ঘটেছে, জানি না কারা করেছে, কিন্তু আমার কাছে কেউ কোনও খবর দেয়নি। কারণ এখানকার চিফ সেক্রেটারি এখনও আমার সঙ্গে কল অন করেননি। আমাকে কোনও তথ্য এরা দেয় না। আমি একজন সাধারণ সাংবাদিকের কাছে জানতে পারলাম, রাত ১২টার সময় যে জাজদের ঘেরাও করে রেখেছে। আমি মনে করি, মানুষের ক্ষোভ থাকতেই পারে। মুর্শিদাবাদ, মালদা উত্তর দিনাজপুর জুড়ে বিজেপির প্ল্যান অনুযাযী সংখ্যালঘুদের নাম বাদ গেছে। আমার ভবানীপুরে কেন্দ্রে দেড় খানা ওয়ার্ডে সংখ্যালঘুদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এখানেও ঢেলে বাদ দিয়েছে। এটা সবাই জানি। ১ কোটি ২০ লাখ নাম বাদ গিয়ছে। তার জন্যই আমরা সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলাম। সুপ্রিম কোর্ট তো সত্যি কথাই বলেছে, এটা হতে পারে না। যাদের অ্যাডজুডিকেশনে আছে, তাদেরটা আবার নতুন করে বিচার করতে হবে। যাদের বাতিল হয়েছে, তাদের জন্য ট্রাইবুনাল করে দিয়েছে, সেখানে আপিল করবেন। সেখানে আপনাদের যেতে বলেছে। আইনজীবী আমরা দেব। কিন্তু মনে রাখবেন, লড়াইটা আমাদের শান্তিপূর্ণ ভাবে করতে হবে। হায়দরাবাদ থেকে কেউ উড়ে এল, বিজেপি কয়েকটা গদ্দারকে দিয়ে আপনাদের উত্তেজিত করল, আর আপনাদের দিয়ে রাস্তা অবরধো করল, জাজদের ঘেরাও করল, রেজাল্ট কী হল, আজ সুপ্রিম কোর্ট ঠিক বলেছে। বিজেপির এটা গেম প্ল্যান জেনে রাখবেন। এখানকার নির্বাচন বাতিল করে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার। আপনারা কি সেটা চান? যদি আমাকে বিশ্বাস করেন, দয়া করে প্ররোচনা, উত্তেজনায় পা দেবেন না।'
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপিন পাঞ্চোলির বেঞ্চ জানায়, এই ঘটনা রাজ্য সরকার ও তার প্রশাসনিক কর্তাদের দায়িত্বে গাফিলতির প্রমাণ। পশ্চিমবঙ্গের অ্যাডভোকেট জেনারেলকে উদ্দেশ করে প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, 'দুর্ভাগ্যজনকভাবে আপনার রাজ্যে সবাই রাজনৈতিকভাবে কথা বলেন। দুষ্কৃতীরা কারা, আমরা কি জানি না? আমি রাত ২টো পর্যন্ত সবকিছু পর্যবেক্ষণ করেছি। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।'