
মালদায় মালতিপুরে সভা শেষ করে পরবর্তী গন্তব্যে রওনা হওয়ার জন্য হেলিকপ্টারে উঠতে যাচ্ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঠিক সেই সময়েই তাঁর হেলিকপ্টারের আশপাশে চক্কর কাটতে দেখা যায় একটি রহস্যময় ড্রোনকে। কপ্টারে ওঠার আগে থমকে যান মমতা। সিঁড়িতে দাঁড়িয়েই বলেন, 'হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়ে যেতে পারত।'
কপ্টারে ওঠার মুখে ড্রোন দেখেই নজর পড়ে মমতার। ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তৃণমূল সুপ্রিমো। কোথায় থেকে ড্রোনটি এল এবং কে ওড়াচ্ছে সেটি, তা খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেন তিনি। ড্রোনটির গতিবিধি রহস্যজনক মনে করেছেন নেত্রী নিরাপত্তারক্ষীরাও।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কপ্টারের মাথার উপরে একটি ড্রোনকে উড়তে দেখেন নেত্রী। সঙ্গে সঙ্গে ক্ষিপ্ত হয়ে উপস্থিত নিরাপত্তারক্ষীদের কাছে তিনি জানতে চান, এই ড্রোন কেন উড়ছে? মাইক হাতে নিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পুলিশের এটা নজরে রাখা দরকার। যারা করেছে, তাদের চিহ্নিত করা দরকার।’ এমন বার্তা পেয়ে হুলস্থূল শুরু হয়ে যায়।
এরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংযোজন, 'হেলিকপ্টারটা অ্যাক্সিডেন্ট হয়ে ধ্বংস হয়ে যেত।'
এখনও পর্যন্ত এই ঘটনা কে ঘটিয়েছে বা এই ড্রোন কীভাবে কপ্টারের সামনে এল, সেই বিষয়ে কিছুই জানা যায়নি। তবে পুলিশ খোঁজখবর শুরু করেছে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়া মাত্রই।
প্রসঙ্গত, চলতি বিধানসভা ভোটের আগে একাধিকবার সমস্যায় পড়েছে মমতার বিমান। গত ২৬ মার্চ দুবরাজপুরে প্রচার সভা করে অন্ডাল বিমানবন্দর থেকে কলকাতা ফিরছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু ফেরার সময় কলকাতা বিমানবন্দরে নামতে পারেনি মমতার বিমান। সেই দিন প্রায় ৭০ মিনিট ধরে কলকাতার আকাশে চক্কর কাটে সেটি। মারাত্মক বেগে ঝড় ও বৃষ্টির কারণে এমন পরিস্থিতি হয়। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে দমদম বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এই ঘটনার পর মমতা পাইলটের প্রশংসা করেন। তিনি জানান, পাইলটরা বিমানে সওয়ার সকলের প্রাণ বাঁচিয়েছেন। আবার ১ এপ্রিলও দুর্যোগের মুখে পড়ে মমতার কপ্টার। সেই দিন মুর্শিদাবাদের বড়ঞায় সভা করে নবগ্রামে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু সেই সময় হঠাৎই প্রবল ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়। সেই কারণে কপ্টার নবগ্রামে নামতে পারেনি। তাই কপ্টারের পাইলট ঝুঁকি না-নিয়ে মমতাকে বড়ঞাতেই ফিরিয়ে আনেন।