
মুর্শিদাবাদ জেলার নবগ্রাম বিধানসভা আসনটি তপশিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত। বরাবরই এই আসন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেছে ফলাফলের কারণে। ঠিক যা প্রত্যাশা করা হয়েছে, তার উল্টো ফল দেখা গিয়েছে এই আসনে। মুসলিম সংখ্য়াগরিষ্ঠ ভোটারদের এই আসনটি বহরমপুর ব্লকের নিয়াল্লিশপাড়া গোয়ালজান, রাধারঘাট ১, রাধারঘাট ২ এবং সাহাজাদপুর গ্রাম পঞ্চায়েত ও নবগ্রাম ব্লক নিয়ে গঠিত। এর লোকসভা জঙ্গিপুর। নবগ্রাম বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকা। কারণ, এর পাশ দিয়ে বয়ে চলা পদ্মানদীর ঠিক ওপারে বাংলাদেশের রাজশাহী এবং চাঁপাই নবাবগঞ্জ। দূরত্ব মাত্র ৪০ কিলোমিটার। ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ১৫ বার ভোট হয়েছে। তার মধ্য়ে একবার উপনির্বাচন। কংগ্রেস ও সিপিআইএমের মধ্যে কে দখলে রাখবে তা নিয়ে...
মুর্শিদাবাদ জেলার নবগ্রাম বিধানসভা আসনটি তপশিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত। বরাবরই এই আসন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেছে ফলাফলের কারণে। ঠিক যা প্রত্যাশা করা হয়েছে, তার উল্টো ফল দেখা গিয়েছে এই আসনে। মুসলিম সংখ্য়াগরিষ্ঠ ভোটারদের এই আসনটি বহরমপুর ব্লকের নিয়াল্লিশপাড়া গোয়ালজান, রাধারঘাট ১, রাধারঘাট ২ এবং সাহাজাদপুর গ্রাম পঞ্চায়েত ও নবগ্রাম ব্লক নিয়ে গঠিত। এর লোকসভা জঙ্গিপুর। নবগ্রাম বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকা। কারণ, এর পাশ দিয়ে বয়ে চলা পদ্মানদীর ঠিক ওপারে বাংলাদেশের রাজশাহী এবং চাঁপাই নবাবগঞ্জ। দূরত্ব মাত্র ৪০ কিলোমিটার। ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ১৫ বার ভোট হয়েছে। তার মধ্য়ে একবার উপনির্বাচন। কংগ্রেস ও সিপিআইএমের মধ্যে কে দখলে রাখবে তা নিয়ে জোর টক্করের সাক্ষী থেকেছে নবগ্রাম। সিপিআইএমের ৬ বার ও কংগ্রেস প্রার্থীরা ৩ বার আসনটি জিতেছিলেন। সেখানে নির্দল প্রার্থী বীরেন্দ্র নারায়ণ রায় ১৯৬৯ এবং ১৯৭১ সালে দুবার জয়লাভ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। তবে কংগ্রেস কখনও এই আসনে পরপর জিততে পারেনি। বামেরা যদিও ১৯৭৭ থেকে ২০০০ সালের উপনির্বাচন পর্যন্ত ৫ বার জিতেছিল। অধীর চৌধুরী লোকসভায় জেতার পর এই আসন তাঁকে ছা়ড়তে হয়। সেই কারণেই উপনির্বাচন হয়েছিল। ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল হয়ে তৃণমূল এলেও সেই আসন দখল করতে পারেনি ঘাসফুল শিবির। ২০১১ ও ২০১৬ সালে আসনটি জেতেন সিপিআইএম প্রার্থী কানাইচন্দ্র মণ্ডল। তবে ২০২১ এর ভোটে তিনি তৃণমূলের টিকিটে দাঁড়িয়ে নিকটতম বিজেপি প্রার্থী মোহন হালদারকে ৩৫,৫৩৩ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। এই আসনে বরাবর এগিয়ে থাকা বামেদের ভোট কমে যায়। তারা নেমে আসা তৃতীয় স্থানে। নবগ্রাম বিধানসভা আসনে বিজেপির উত্থান ২০১৯ সাল থেকে। সেবার মাত্র ২৪,৮১৭ ভোটে তৃণমূলের তেকে পিছিয়ে ছিল গেরুয়া শিবির। ২০২৪-এ সেই ব্যবধান আরও কমে হয় ১৯,৬৩৮। বাম ও কংগ্রেস জোট গড়েও সেই আসন থেকে কোনও সুবিধা করতে পারেনি। ২০২১ সালে নবগ্রামে ভোটার সংখ্যা ছিল ২৫১,৩৭৮। ২০১৯ ও ২০১৬ সালে যথাক্রমে ২৩৯,৩১১ এবং ২২২,৭৮৫। তপশিলি জাতি ও উপজাতি ভোটারের হার ছিল ২৩.৬০ ও ৬ শতাংশ। সেখানে মুসলিম মোট অর্ধেকেরও সামান্য বেশি। তারপরও এই আসন থেকে কোনওদিন কোনও মুসলিম প্রার্থী জিততে পারেননি। ১৯৬৭ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আসনটি অসংরক্ষিত ছিল। তখনও না। ১৯৯৬ সালে সিপিআই(এম) তাদের পরিচিত মুখ মুজাফফর হোসেনকে দাঁড় করিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি অধীর চৌধুরীর কাছে ২০,৩২৯ ভোটে হেরে যান। ফলে এর থেকে পরিষ্কার, এই আসনটি বরাবর চমক দিয়েছে। নবগ্রাম মূলত গ্রামীণ এলাকা। এখানকার মাত্র ৮.৯৩ শতাংশ ভোটার শহরাঞ্চলের। ভোটারদের উপস্থিতি ধারাবাহিকভাবে এই কেন্দ্রে বেশি। ২০১১ সালে ৮৭.৬৪ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮১.১৬ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৮২.৬২ শতাংশ এবং ২০২১-এ ৮২.৯৪ শতাংশ। ভৌগোলিকভাবে নবগ্রাম লালবাগ মহকুমায় অবস্থিত। ভাগীরথী নদী দ্বারা বেষ্টিত হওয়ায় ভূখণ্ড সমতল, পলিমাটি সমৃদ্ধ। তবে পদ্মানদী গতিপথ পরিবর্তন করায় নদী তীরবর্তী মানুষদের সমস্য়ায় পড়তে হয়। বন্য়া এখানকার অন্যতম সমস্য়া। ধান, পাট, শাক সবজি এখানকার প্রধান কৃষিজ ফসল। তবে শিল্প থাকলেও তা খুবই সীমিত। নবগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা তেমন উন্নত নয়। জেলা সদর বহরমপুর এখান থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। লালবাগের প্রায় ৩০ কিলোমিটার। নিকটতম শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে লালগোলা, ডোমকল, রানিনগর। ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে নবগ্রামে ত্রিমুখী লড়াই হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। পূর্বের কয়েকটি ভোটে তৃণমূল এগিয়ে থাকলেও বিজেপি চাপ বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে বাম-কংগ্রেস জোটও থাবা বসাতে পারে তৃণমূলের ভোটব্য়াঙ্কে। এই কেন্দ্রে কাদের জেতার সম্ভাবনা সেটা এখন থেকেই বলা মুশকিল বলে মনে করা হচ্ছে।
Mohan halder
BJP
Kripalini ghosh
CPI(M)
Nota
NOTA
Barun mandal
SUCI
Dilip saha
AITC
Susanta marjit
BJP
Nota
NOTA
Radha madhab mandal
SP
Amit mehena
WPOI
Barun mandal
SUCI