
নির্বাচনের মুখে ফের বিতর্কের কেন্দ্রে নির্বাচন কমিশনকে টেনে আনল তৃণমূল কংগ্রেস। হোয়াট্সঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশট প্রকাশ করে শাসকদলের দাবি, কমিশনের অভ্যন্তরীণ নির্দেশে তাদের নেতামন্ত্রীদের পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রীকেও নিশানায় রাখা হয়েছে। এই অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তুমুল শোরগোল শুরু হয়েছে।
তৃণমূলের দাবি, ওই চ্যাটে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে দলের বাকি সব নেতা-মন্ত্রীদের গাড়িতে তল্লাশি চালাতে হবে। এমনকি, আলাদা করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রীর নাম উল্লেখ করে তাঁদের গাড়িও খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ প্রশ্ন তোলেন, 'যদি এভাবে তল্লাশি চালানো হয়, তাহলে দিল্লি থেকে আসা বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব, নরেন্দ্র মোদী বা অমিত শাহ-এর গাড়ি বা কনভয় কেন তল্লাশি করা হবে না?'
তৃণমূলের অভিযোগ, কমিশন হোয়াট্সঅ্যাপের মাধ্যমে পুলিশ ও পর্যবেক্ষকদের নানা নির্দেশ দিচ্ছে। যদিও কমিশন আগেও জানিয়েছে, কাজের সুবিধার জন্য এই মাধ্যম ব্যবহার করা হয়। কিন্তু তৃণমূলের দাবি, এই নির্দেশগুলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং নির্দিষ্টভাবে তাদের দলীয় কর্মসূচি ও নেতৃত্বকে টার্গেট করা হচ্ছে।
প্রকাশিত স্ক্রিনশট অনুযায়ী, কিছু এলাকায়, যেমন নদিয়া, বসিরহাট, বনগাঁ, ক্যানিং, তেহট্ট, রানাঘাট, কাকদ্বীপ, মগরাহাট, ডায়মন্ড হারবার ও ফলতা, বিভিন্ন শিবির ও কর্মসূচির আড়ালে টাকা বিলির অভিযোগ তুলে তল্লাশির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি ঝাড়খণ্ড, বিহার ও নেপাল থেকেও অর্থ ঢোকার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি।
সবচেয়ে বিতর্কিত অংশটি হলো, যেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রীকে ঘিরে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে বলে তৃণমূলের অভিযোগ। যদিও স্ক্রিনশটে নামের বানান ও পরিচয় স্পষ্ট নয়, তবুও শাসকদলের দাবি, এটি ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁদের নেতাদের লক্ষ্য করে করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে কমিশন ও তৃণমূলের সংঘাত আরও তীব্র আকার নিচ্ছে। এই অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ যে আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।