
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: তেহট্ট কেন্দ্র
পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলায় জেনারেল ক্যাটাগরি বিধানসভা কেন্দ্র তেহট্ট। ১৯৫১ সাল থেকে এই কেন্দ্রে ভোট হচ্ছে। কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ৭টি বিধানসভার মধ্যে এটি একটি। তেহট্ট ১ কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লকের ৯টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং করিমপুর ২ ব্লকের ৫টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে তৈরি এই কেন্দ্র। এটি সম্পূর্ণ গ্রামীণ একটি কেন্দ্র। এখানে একজনও শহুরে ভোটার নেই।
নদিয়া জেলার একটি মহকুমা তেহট্ট। এটি এলাকার প্রশাসনিক হাব। জলঙ্গি নদীর পাড়ে উর্বর ভূমি রয়েছে তেহট্টে। চাষাবাদ হয় এই কেন্দ্রের সর্বত্রই। তেহট্ট সমতলভূমিতে অবস্থিত এবং এর মাটি উর্বর। ধান, জুট এবং মরশুমি সবজি ফলনের জন্য তেহট্ট উপযুক্ত। স্থানীয় অর্থনীতি ...
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: তেহট্ট কেন্দ্র
পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলায় জেনারেল ক্যাটাগরি বিধানসভা কেন্দ্র তেহট্ট। ১৯৫১ সাল থেকে এই কেন্দ্রে ভোট হচ্ছে। কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ৭টি বিধানসভার মধ্যে এটি একটি। তেহট্ট ১ কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লকের ৯টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং করিমপুর ২ ব্লকের ৫টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে তৈরি এই কেন্দ্র। এটি সম্পূর্ণ গ্রামীণ একটি কেন্দ্র। এখানে একজনও শহুরে ভোটার নেই।
নদিয়া জেলার একটি মহকুমা তেহট্ট। এটি এলাকার প্রশাসনিক হাব। জলঙ্গি নদীর পাড়ে উর্বর ভূমি রয়েছে তেহট্টে। চাষাবাদ হয় এই কেন্দ্রের সর্বত্রই। তেহট্ট সমতলভূমিতে অবস্থিত এবং এর মাটি উর্বর। ধান, জুট এবং মরশুমি সবজি ফলনের জন্য তেহট্ট উপযুক্ত। স্থানীয় অর্থনীতি নির্ভর করে মূলত কৃষিকাজের উপর। এছাড়াও ক্ষুদ্র শিল্প রয়েছে এই এলাকায়। এই কেন্দ্রে কোনও বড় শিল্পাঞ্চল বা কারখানা নেই। তবে রয়েছে একাধিক সরকারি ভবন, স্কুল এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্র।
পরিকাঠামো খুব উন্নত না হলেও সক্রিয়। নিকটবর্তী শহরগুলির সঙ্গে সড়কপথে যুক্ত তেহট্ট। তবে গণপরিবহণ সামান্যই। ২০ কিমি দূরে অবস্থিত নিকটবর্তী রেল স্টেশন পলাশি। কৃষ্ণনগর এবং কলকাতার সরাসরি ট্রেন ছাড়ে এই স্টেশন থেকে। জেলা সদর কৃষ্ণনগর তেহট্ট থেকে ৪২ কিমি দূরে অবস্থিত। কলকাতা ১৫০ কিমি দূরে। করিমপুর তেহট্ট থেকে ১৮ কিমি দূরে। বেথুয়াডহরি ৩৫ কিমি দূরে, চাপড়া ৩০ কিমি, পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া ৬০ কিমি এবং মুর্শিদাবাদের ডোমকল ৫০ কিমি দূরে অবস্থিত। আন্তর্জাতিক সীমান্ত লাগোয়া বাংলাদেশের মেহেরপুর তেহট্ট থেকে ২৫ কিমি দূরে অবস্থিত।
১৯৭৭ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তেহট্ট বিধানসভা কেন্দ্রটি ছিল না। ১৯৫১ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত যে ৭টি ভোট হয়েছে, তাতে ৬টিতেই জিতেছে কংগ্রেস। CPIM জিতেছে ১৯৭১ সালে।
CPIM এরপর ফের জেতে ২০১১ সালে, পুনর্বিন্যাসের পর। বাম প্রার্থী রঞ্জিত কুমার মণ্ডল নির্দল প্রার্থী তাপস কুমার সাহাকে ১৯ হাজার ১৯৭ ভোটে হারিয়েছিলেন। ২০১৬ সালে এই আসনে জয় পায় তৃণমূল। বাম প্রার্থী রঞ্জিত কুমার মণ্ডলকে পরাজিত করেছিলেন তৃণমূল প্রার্থী গৌরীশঙ্কর দত্ত ১৭ হাজার ৩৯৬ ভোটে।
পরবর্তীতে দলবদল করে তাপস কুমার সাহা তৃণমূলে যোগদান করেন এবং ২০২১ সালে এই আসন থেকে জোড়াফুল প্রতীকে লড়েন। BJP-র আশুতোষ পালকে ৬ হাজার ৯১৫ ভোটে তিনি হারান। ২০২৫ সালের মে মাসে তাপস কুমার সাহার মৃত্যুর পর থেকে এই আসন খালি রয়েছে।
এখন এই আসনে জিততে না পারলেও BJP-র উত্থানে তেহট্টে চোখে পড়ার মতো। ২০১১ সালের ৪.০১% ভোট থেকে ২০১৬ সালে BJP-র ভোটের হার ৮.৪৫%। ২০২১ সালে সেই ভোটের হার পৌঁছে গিয়েছে ৪১.৭৯%। ২.১৭% তৃণমূলের থেকে পিছিয়ে রয়েছে তারা। আবার ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের সময়ে ২ হাজার ৬১ ভোটে তেহট্টে এগিয়ে ছিল BJP। ২০২১ সালে এই মার্জিন দাঁড়ায় ৮ হাজার ৩৫৬।
তেহট্টে ২০২১ সালে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ২ লক্ষ ৫২ হাজার ৪৫৪, ২০১৯ সালে তা ছিল ২ লক্ষ ৪৩ হাজার ৪২৭। মোট ভোটারের মধ্যে ৩২.৯৭% SC, মুসলিম ভোটারের সংখ্যা ২৮.৫০%। বরাবরই এই কেন্দ্রে ভোটের হার বেশি থাকে। ২০১৬ সালে ভোট পড়েছিল ৮৬.৩৬%, ২০১৯ সালে ভোট পড়েছিল ৮৩.৭১% এবং ২০২১ সালে ভোট পড়েছে ৮৯.১০%।
তেহট্টে BJP-র বাড়বাড়ন্ত শাসকদলের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। তৃণমূলের কাছে চ্যালেঞ্জ হতে পারে বাম-কংগ্রেসের জোটের প্রভাব বাড়লে। ২০১৯ সালে ৮.৯০% ভোট পেয়েছিল জোট। ২০২১ সালে সেই পরিসংখ্যান ছিল ১০.৬৬%, ২০২৪ সালে ১৩.২৫%। ফলে তৃণমূলের কাছে ভোট কাটার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে এই কেন্দ্রে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রের লড়াইটা হাড্ডাহাড্ডি হতে চলেছে, তা সহজেই অনুমেয়।
Ashutosh paul
BJP
Subodh chandra biswas
CPI(M)
Tarak nath biswas
BSP
Nota
NOTA
Rabindranath halder
IND
Surya biswas
PMPT
Chiranjit sardar
IND
Ranjit kumar mandal
CPM
Arjun kumar biswas
BJP
Arabinda biswas
BSP
Nota
NOTA
Sherful ansary
SUCI