Advertisement

মোদী-শাহর কৌশল, ভবানীপুরে নামিয়ে BJP-র ‘ডি-ফ্যাক্টো CM মুখ’ শুভেন্দু?

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি একসঙ্গে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর, দুই কেন্দ্র থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই পদক্ষেপকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে।

ফাইল ছবিফাইল ছবি
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 17 Mar 2026,
  • अपडेटेड 10:37 AM IST
  • আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
  • তিনি একসঙ্গে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর, দুই কেন্দ্র থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি একসঙ্গে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর, দুই কেন্দ্র থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই পদক্ষেপকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে।

২০২১ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছিলেন শুভেন্দু। সেই স্মৃতি এখনও তাজা। এবার তিনি শুধু নিজের শক্ত ঘাঁটি নন্দীগ্রামেই সীমাবদ্ধ থাকছেন না, বরং মুখ্যমন্ত্রীর ‘নিজস্ব গড়’ ভবানীপুরেও লড়াইয়ের ময়দান তৈরি করেছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি বিজেপির এক কৌশলী পদক্ষেপ, যার লক্ষ্য মমতাকে চাপে রাখা। 

দলের অন্দরমহলের সূত্র বলছে, শুরুতে পরিকল্পনা ছিল শুভেন্দুকে শুধু ভবানীপুর থেকেই প্রার্থী করার। কিন্তু তিনি নিজেই জোর দিয়ে জানান, নন্দীগ্রামের মানুষকে তিনি ছেড়ে যেতে চান না। শেষ পর্যন্ত দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকের পর, অমিত শাহর উদ্যোগে তাঁকে দুই কেন্দ্র থেকেই প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।

এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ভবানীপুর, যেখান থেকে ২০১১ সাল থেকে প্রায় নিরবচ্ছিন্নভাবে জিতে আসছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেই আসন এবার কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। বিশেষ করে ভোটার তালিকার সংশোধন প্রক্রিয়ায় বহু নাম বাদ পড়া ও ‘বিচারাধীন’ তালিকায় থাকা নিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, তৃণমূল শিবির এই পদক্ষেপকে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি বলেই কটাক্ষ করছে। দলের দাবি, দুটি আসন থেকে লড়া মানেই শুভেন্দুর অনিশ্চয়তা প্রকাশ পাচ্ছে। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের বক্তব্য, তিনি দুটি আসন থেকেই হারবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুটি আসন থেকে লড়াই শুভেন্দুর জন্য যেমন বড় সুযোগ, তেমনই বড় ঝুঁকিও। যদি তিনি ভবানীপুরে মমতাকে পরাজিত করতে পারেন, তাহলে রাজ্য রাজনীতিতে তাঁর অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। কিন্তু উল্টোটা হলে তা তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারে বড় ধাক্কা হতে পারে।

বিরোধী দলনেতার ভবানীপুরে প্রার্থী হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভবানীপুরে তাঁকে প্রার্থী করলে সাধারণ মানুষের কাছে একটা পরিষ্কার বার্তা যাবে, বিজেপি এবার সত্যিই সিরিয়াস। আর কেউ ‘সেটিং’ তত্ত্বের কথা বলবে না। 

Advertisement

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভবানীপুরে প্রার্থী হওয়ার পিছনে শুভেন্দুর কৌশলগত ভাবনাও স্পষ্ট। বিজেপি আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে সামনে না আনলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ে নেমে শুভেন্দুই কার্যত দলের মুখ হয়ে উঠছেন।

এছাড়াও ভোটের সময়সূচিও তাঁর পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। নন্দীগ্রামে প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল ভোটগ্রহণ হবে, আর ভবানীপুরে ভোট ২৯ এপ্রিল। ফলে নন্দীগ্রামের ভোট মিটে যাওয়ার পর ভবানীপুরে আলাদা করে সময় দিয়ে প্রচারে জোর দিতে পারবেন তিনি।

ভবানীপুরকে ঘিরে এই কৌশল শুভেন্দু অনেক আগেই কষতে শুরু করেছিলেন বলেই মনে করা হচ্ছে। সেই কারণেই তিনি ওই এলাকার ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার ওপরও নজর রেখেছিলেন। এমনকি দোলের দিনেও তাঁকে ভবানীপুরে গিয়ে জনসংযোগ করতে দেখা গেছে।

সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ফল যাই হোক না কেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রের লড়াইই হতে চলেছে সবচেয়ে হাইভোল্টেজ।
 

 

Read more!
Advertisement
Advertisement