Advertisement

দুই হেভিওয়েট কেন্দ্রে নির্দল প্রার্থী রাজন্যা, প্রতিপক্ষ লাভলি, অগ্নিমিত্রাকে নিয়ে কী বলছেন?

জনসংগ্রাম মঞ্চের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়। সেখানেই সোনারপুর দক্ষিণ ও আসানসোল দক্ষিণ, এই দুই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র থেকে রাজন্যা হালদারের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। প্রার্থী ঘোষণার পরই তিনি সরব হয়েছেন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি-উভয়ের বিরুদ্ধেই।

ফাইল ছবিফাইল ছবি
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 20 Mar 2026,
  • अपडेटेड 12:46 PM IST
  • জনসংগ্রাম মঞ্চে'র পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়।
  • সেখানেই সোনারপুর দক্ষিণ ও আসানসোল দক্ষিণ, এই দুই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র থেকে রাজন্যা হালদারের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

এক সময় ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে তাঁর কণ্ঠস্বর গোটা রাজ্যের নজর কেড়েছিল। যুবনেত্রী হিসেবে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন রাজন্যা হালদার। সেই ভাইরাল বক্তৃতার পর থেকেই রাজনৈতিক পরিসরে তিনি পরিচিত মুখ। তবে এবার তিনি নতুন ভূমিকায়, নির্দল প্রার্থী হিসেবে ভোটের ময়দানে নেমেছেন।

'জনসংগ্রাম মঞ্চে'র পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়। সেখানেই সোনারপুর দক্ষিণ ও আসানসোল দক্ষিণ, এই দুই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র থেকে রাজন্যা হালদারের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। প্রার্থী ঘোষণার পরই তিনি সরব হয়েছেন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি-উভয়ের বিরুদ্ধেই।

আরজি কর-কাণ্ডের সময় প্রতিবাদে সরব হয়ে এবং ‘তিলোত্তমা’দের নিয়ে শর্ট ফিল্ম তৈরি করে দলের রোষের মুখে পড়েন রাজন্যা। সেই সময় তিনি তৃণমূল ছাত্র পরিষদের যাদবপুর সাংগঠনিক জেলার সহ-সভানেত্রী ছিলেন। তাঁর এই পদক্ষেপের জেরে তাঁকে সাসপেন্ড করা হয় এবং একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। তবে সাসপেনশনের পরও নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন তিনি। একই সঙ্গে সাসপেন্ড করা হয়েছিল সংগঠনের তৎকালীন রাজ্য সহ-সভাপতি প্রান্তিক চক্রবর্তীকে। এরপর থেকেই তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব ক্রমশ বাড়তে থাকে।

পরবর্তীতে কসবার আইন কলেজে গণধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে রাজ্যজুড়ে উত্তেজনা তৈরি হলে, রাজন্যা আরও বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, তৃণমূলেরই একাংশ দলের অন্দরে জুনিয়রদের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে দিচ্ছে। এই অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও চাঞ্চল্য তৈরি হয় এবং দলীয় নেতৃত্বের তরফে তাঁর বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণও শুরু হয়।

২০২৫ সালের শেষের দিকে তাঁর বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা শোনা গেলেও, তা উড়িয়ে দিয়ে তিনি নির্দল প্রার্থী হিসেবেই লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেন। প্রার্থী ঘোষণার পর তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি কোনও দল নয়, মানুষের জন্যই লড়তে চান।
রাজন্যা বলেন, 'সোনারপুর দক্ষিণ তাঁর নিজের এলাকা, কিন্তু গত পাঁচ বছরে সেখানে মানুষের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হয়েছে। মানুষকে নাজেহাল করে ছেড়েছে।' তাঁর অভিযোগ, এলাকার রাস্তা-ঘাট ভেঙে পড়েছে, পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নেই, এমনকি নিকটবর্তী মেট্রো স্টেশনে যাওয়ারও সঠিক ব্যবস্থা নেই। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে বলেই তাঁর দাবি।

Advertisement

আসানসোল দক্ষিণ নিয়েও একই সুর শোনা যায় তাঁর কথায়। তিনি বলেন, 'ওই এলাকায় বিধায়িকাকে খুব একটা দেখা যায় না এবং নানা অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি বিধায়িকার ঘনিষ্ঠ মহলের লোকজনই তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছেন বলেও দাবি করেন রাজন্যা।'

সব মিলিয়ে, দুই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে নির্দল প্রার্থী হিসেবে রাজন্যা হালদারের লড়াই ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ তৈরি করেছে। তাঁর এই পদক্ষেপ ভোটের অঙ্কে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement