
আসানসোল দক্ষিণ। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে রাজ্যের হেভিওয়েট কেন্দ্রের মধ্যে একটি- বিজেপির অগ্নিমিত্রা পল বনাম তৃণমূলের সায়নী ঘোষ। শেষ হাসি হাসেন বিজেপি প্রার্থীই। দুবারের জেতা আসন খুঁইয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। এবার এই আসনটি ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ বিজেপির কাছে। আর তৃণমূল চাইবে, ২০১১ এবং ২০১৬ সালের জয়ের পুনরাবৃত্তি।
আসানসোল দক্ষিণ তৈরির পর থেকে এখনও পর্যন্ত তিনটি বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। প্রথম দুটিতে দাপট দেখিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। ২০১১ এবং ২০১৬- দুবারই জয়ী হন তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১১ সালে তিনি সিপিএমের অলোক কুমার মুখোপাধ্যায়কে ২৮,৫৪১ ভোটে হারান। ২০১৬ সালে তিনি ফের জয়ী হন সিপিএমের হেমন্ত প্রভাকরকে ১৪,২৮৩ ভোটে হারিয়ে। জয়ের ব্যবধান সেবার কিছুটা কমেছিল। ২০২১ সালে তৃণমূল...
আসানসোল দক্ষিণ। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে রাজ্যের হেভিওয়েট কেন্দ্রের মধ্যে একটি- বিজেপির অগ্নিমিত্রা পল বনাম তৃণমূলের সায়নী ঘোষ। শেষ হাসি হাসেন বিজেপি প্রার্থীই। দুবারের জেতা আসন খুঁইয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। এবার এই আসনটি ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ বিজেপির কাছে। আর তৃণমূল চাইবে, ২০১১ এবং ২০১৬ সালের জয়ের পুনরাবৃত্তি।
আসানসোল দক্ষিণ তৈরির পর থেকে এখনও পর্যন্ত তিনটি বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। প্রথম দুটিতে দাপট দেখিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। ২০১১ এবং ২০১৬- দুবারই জয়ী হন তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১১ সালে তিনি সিপিএমের অলোক কুমার মুখোপাধ্যায়কে ২৮,৫৪১ ভোটে হারান। ২০১৬ সালে তিনি ফের জয়ী হন সিপিএমের হেমন্ত প্রভাকরকে ১৪,২৮৩ ভোটে হারিয়ে। জয়ের ব্যবধান সেবার কিছুটা কমেছিল। ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস রণকৌশল বদলে তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়কে রানিগঞ্জ আসনে পাঠায়। এই কেন্দ্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বারবার প্রার্থী পরিবর্তন করেছে। এমনকি সিপিএম বা বিজেপিও পরপর দুটি নির্বাচনে একই মুখ রাখেনি। তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়কে রানিগঞ্জে জেতেন। কিন্তু তৃণমূলকে হারাতে হয় আসানসোল দক্ষিণ আসনটি হারাতে হয়।
আসানসোল দক্ষিণে প্রার্থী করে টলিউড অভিনেত্রী সায়নী ঘোষকে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায়। বিজেপির ফ্যাশন ডিজাইনার প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল ৪,৪৮৭ ভোটে সায়নীকে হারিয়ে এই আসনে পদ্ম ফোটান।
২০২১-এ বিজেপির এই জয় কোনও আকস্মিক ঘটনা ছিল না। ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটেও এই বিধানসভা এলাকা থেকে বিজেপি ২১,০৬২ ভোটের লিড পেয়েছিল। ২০১৯-এ সেই লিড বেড়ে দাঁড়ায় ৫৩,৮২০ ভোটে। যদিও ২০২৪ লোকসভা ভোটে সেই ব্যবধান কমে ১২,১৫৭ হয়। এই পরিসংখ্যান মূলত হিন্দিভাষী ভোটারদের মধ্যে বিজেপির ক্রমবর্ধমান প্রভাবকেই তুলে ধরে। বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকে আসা পরিযায়ী বা হিন্দিভাষী ভোটাররা এখানে প্রায় ৩৫-৪০ শতাংশ।
পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল লোকসভা আসনের সাতটি বিধানসভার মধ্যে অন্যতম আসানসোল দক্ষিণ। ২০০৮ সালে সীমানা পুনর্বিন্যাস কমিশনের সুপারিশ মেনে তৎকালীন আসানসোল আসনটিকে দ্বিখণ্ডিত করা হয়- আসানসোল উত্তর ও আসানসোল দক্ষিণ। আসানসোল পুরনিগমের ২২টি ওয়ার্ড এবং রানিগঞ্জ ব্লকের পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত। মাত্র ৫.৫৫ শতাংশ গ্রামীণ ভোটার থাকায় আসানসোল দক্ষিণকে মূলত একটি শহুরে আসন হিসেবেই ধরা হবে।
২০২১ সালে এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২,৭৪,২৪৫। ২০১৯ সালে ২,৫৮,২২৩ এবং ২০১৬-তে ২,৪৭,৩৬৬। এই আসনে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১২.৩০ শতাংশ। অন্যদিকে তপশিলি জাতি ২০.৫৬ শতাংশ এবং তপশিলি উপজাতি ভোটার ৬.৫০ শতাংশ। ভোটদানের হারও এখানে বেশ ভালো। ২০১৬ সালে ৭৫.০৮ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৭৫.৪৮ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৭৪.০১ শতাংশ।
আসানসোল শহরটি কলকাতার পর রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগর এলাকা। ঝাড়খণ্ড সীমান্তের কাছে অবস্থিত এই অঞ্চল খনিজ সমৃদ্ধ। দামোদর নদী এই শহরের পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে। ভারতের অন্যতম প্রাচীন কয়লা খনি অঞ্চল রানিগঞ্জ কোলফিল্ডের অন্তর্গত এই কেন্দ্রের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হল খনি, ইস্পাত ও রেল শিল্প। তবে গত কয়েক দশকে চাকরির বাজারে ভাঁটা। আসানসোল থেকে কলকাতার দূরত্ব প্রায় ২১০ কিমি। জেলা সদর বর্ধমান ১০০ কিমি দূরে। ঝাড়খণ্ড সীমান্ত মাত্র ২০ কিমি দূরে হওয়ায় ধানবাদে যাতায়াত সুবিধেজনক। ২০২৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে আসানসোল দক্ষিণে ফের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখা যেতে পারে। হিন্দিভাষী ভোটারদের সমর্থন বিজেপির হাতিয়ার। অন্যদিকে, তৃণমূলও এগিয়ে লোকসভা ভোটের নিরিখে। সবমিলিয়ে আসানসোল দক্ষিণে লড়াই কঠিন।
Sayani ghosh
AITC
Prasanta ghosh
CPI(M)
Nota
NOTA
Singhasan paswan
BSP
Shiuli ruidas
BMUP
Hemant prabhakar
CPM
Col. diptansu chaudhury
BJP
Nota
NOTA
Chhoton ruidas
BMUP
Sukanta hembram
JDP