
কিছুদিন আগে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ফের কংগ্রেসে ফিরেছেন মৌসম বেনজির নূর। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে মৌসমের এই কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকমহলের একাংশ। আর এবার মালদার রতুয়া বিধানসভা কেন্দ্রে লড়াই করার জন্য মৌসমকে 'ওয়েলকাম' জানালেন সেখানকার তৃণমূল বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়। সমরবাবু বলেন, বিধানসভা ভোটে রতুয়ায় মৌসমকে ওয়েলকাম। মৌসম আমার ভাগ্নী হয়, প্রয়োজনে ভোটে প্রচারের জন্য পাঁচটি গাড়ি দেব। তবে সমরের এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে চুপ করে থাকেননি মৌসমও। তিনি বলেন, আমার নিজস্ব গাড়ি আছে। সমর মুখোপাধ্যায়ের মতো মামা দরকার নেই, রুতুয়ায় আমার অনেক মামা আছেন।
বিধানসভার নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনও ঠিক হয়নি। তবে ইতিমধ্যেই উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে মালদার রাজনৈতিক মহলে। বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করছেন, এই মূহুর্তে জেলার হাইভোল্টেজ বিধানসভা কেন্দ্রগুলির মধ্যে অন্যতম রতুয়া। কংগ্রেসের সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, সদ্য তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দেওয়া মৌসম বেনজির নূর ওই কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। আর তার পরেই কার্যত মৌসমকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বসলেন সমর মুখার্জি। মৌসমকে কটাক্ষ করে সমরবাবু বলেন, মৌসম আমার ভাগ্নী হয়। প্রয়োজন হলে ভোটে প্রচারের জন্য পাঁচটি গাড়ি দেব মৌসমকে।
পাল্টা জবাব দিতে ছাড়েননি মৌসম বেনজির নূরও। সমর মুখার্জির উদ্দেশে মৌসমের কার্যত কটাক্ষ, আগে তিনি তৃণমূলের টিকিট নিশ্চিত করুন। তারপর এইসব নিয়ে কথা হবে। আমার নিজের গাড়ি আছে। তাই গাড়ির প্রয়োজন নেই। আর রতুয়াতে আমার অনেক মামা রয়েছেন। সমরবাবুকে দরকার নেই।
এদিকে এই বিষয়ে মালদা জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সি বলেন, যাঁরা দলবদল করে তৃণমূলের সমালোচনা করে বেড়াচ্ছেন, তাঁরা কেবল রতুয়া নয়, সর্বত্র স্বাগত।
অন্যদিকে বিজেপির দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অজয় গাঙ্গুলির অভিযোগ, বিজেপিকে রোখার জন্য কংগ্রেস, তৃণমূল,সিপিএম সকলেই জোটবদ্ধ। তারই প্রতিফলন মালদার রতুয়া কেন্দ্রে হচ্ছে। তাই তৃণমূল-কংগ্রেসকে ডাকবে, কংগ্রেস-সিপিএমকে ডাকবে, যাতে ২০২৬ সালে বিজেপি ক্ষমতায় না আসে। তবে তা ঘটবে না। মানুষ বিজেপিকেই ভোট দেবেন।