
রতুয়া মালদা জেলার চাঁচল মহকুমার অন্তর্গত। সাধারণ শ্রেণির(General Catagory) বিধানসভা কেন্দ্র। রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের অধীন সাতটি বিধানসভা আসনের অন্যতম হল রতুয়া। ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক; দু’দিক থেকেই উত্তরবঙ্গের এই কেন্দ্র বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ।
সম্পূর্ণ রতুয়া–১ ব্লকটিই রতুয়া বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে। অন্যদিকে রতুয়া–২ ব্লকের চারটি গ্রাম পঞ্চায়েতও এই কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত। পুরো এলাকাই গ্রামীণ। শহুরে ভোটার নেই বললেই চলে। ফলে এখানকার ভোট রাজনীতিতে গ্রামবাংলার সামাজিক ও অর্থনৈতিক ইস্যুই মূল চালিকাশক্তি। ১৯৫১ সালে গঠিত হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত হওয়া সবক’টি বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে রতুয়া। মোট ১৭টি বিধানসভা নির্বাচন দেখেছে এই কেন্দ্র। দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে কংগ্র...
রতুয়া মালদা জেলার চাঁচল মহকুমার অন্তর্গত। সাধারণ শ্রেণির(General Catagory) বিধানসভা কেন্দ্র। রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের অধীন সাতটি বিধানসভা আসনের অন্যতম হল রতুয়া। ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক; দু’দিক থেকেই উত্তরবঙ্গের এই কেন্দ্র বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ।
সম্পূর্ণ রতুয়া–১ ব্লকটিই রতুয়া বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে। অন্যদিকে রতুয়া–২ ব্লকের চারটি গ্রাম পঞ্চায়েতও এই কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত। পুরো এলাকাই গ্রামীণ। শহুরে ভোটার নেই বললেই চলে। ফলে এখানকার ভোট রাজনীতিতে গ্রামবাংলার সামাজিক ও অর্থনৈতিক ইস্যুই মূল চালিকাশক্তি। ১৯৫১ সালে গঠিত হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত হওয়া সবক’টি বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে রতুয়া। মোট ১৭টি বিধানসভা নির্বাচন দেখেছে এই কেন্দ্র। দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে কংগ্রেসই এখানে সবচেয়ে প্রভাবশালী দল। এখনও পর্যন্ত ১০ বার জিতেছে কংগ্রেস। সিপিএম জিতেছে পাঁচ বার। এক বার নির্দল প্রার্থী জিতেছেন। তৃণমূল কংগ্রেস এখনও পর্যন্ত মাত্র একবার এই আসন দখল করেছে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন রতুয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে বেশ উল্লেখযোগ্য বছর বলা যেতে পারে। ওই বছরই প্রথম বার তৃণমূল কংগ্রেস এই কেন্দ্রে জেতে। আরও উল্লেখযোগ্য বিষয়টি হল, কংগ্রেসের তিন বারের বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায় সেই বছরই দল বদল করে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে লড়ে তিনি চতুর্থ বার জয়ী হন। বিজেপি প্রার্থী অভিষেক সিংহানিয়াকে হারান ৭৫,৬৫০ ভোটে। এই জয়েই রতুয়ায় তৃণমূলের খাতা খোলে।
এর আগে কংগ্রেসের টিকিটে লড়েই জিতেছিলেন সমর মুখোপাধ্যায়। ২০১৬ সালে তিনি সিপিএমের শৈলেন সরকারকে হারান ৪৩,২৭৫ ভোটে। ২০১১ সালে একই প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারান ৬,৮৬১ ভোটে। দীর্ঘ দিন ধরেই রতুয়ায় কংগ্রেসের মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি।
২০২১ সালের ফল বিজেপির কাছেও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এই প্রথম বার রতুয়ায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে বিজেপি। ভোটের পার্সেন্টেজও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ে। এই নির্বাচনের পর বিজেপি নিজেদের সংগঠন আরও মজবুত করার সুযোগ পায় বলে মত রাজনৈতিক মহলের।
লোকসভা নির্বাচনেও রতুয়ার রাজনৈতিক রঙ বদলেছে সময়ের সঙ্গে। ২০০৯ এবং ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে রতুয়া বিধানসভা অংশে স্বচ্ছন্দ লিড ছিল কংগ্রেসের। তবে ২০১৯ সালে প্রথম বার তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে যায়। কংগ্রেসকে তারা হারায় ১৮,০৯৫ ভোটে। সেই নির্বাচনে বিজেপি খুব কাছাকাছি তৃতীয় স্থানে ছিল। কংগ্রেসের থেকে মাত্র ১.৪০ শতাংশ ভোটে পিছিয়ে ছিল গেরুয়া শিবির।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে আবার পাল্টে যায় অঙ্ক। রতুয়া বিধানসভা অংশে কংগ্রেস ফের লিড নেয়। তৃণমূলের থেকে ব্যবধান ছিল ৩৩,৮৫৯ ভোট। বিজেপি আবারও তৃতীয় স্থানে থাকে। তবে ব্যবধান ছিল অত্যন্ত সামান্য। তৃণমূলের থেকে বিজেপি পিছিয়ে ছিল মাত্র ০.০৬ শতাংশ ভোটে। সংখ্যায় তা ১১৩ ভোট।
ভোটার সংখ্যাও এই কেন্দ্রে দ্রুত বেড়েছে। ২০২৪ সালে রতুয়া বিধানসভা কেন্দ্রে নথিভুক্ত ভোটার ছিলেন ২ লক্ষ ৯৫ হাজার ২৯ জন। ২০২১ সালে ছিলেন ২ লক্ষ ৮২ হাজার ৪৫১ জন। ২০১৯ সালে এই সংখ্যা ছিল ২ লক্ষ ৬৩ হাজার ২৩৩। ২০১৯ থেকে ২০২৪; এই পাঁচ বছরে ভোটার বেড়েছে ৩১,৭৯৬ জন। এই বৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে মুসলিম ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে।
এই ভোটার বৃদ্ধিকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই বৃদ্ধির মধ্যে বাংলাদেশ থেকে আসা কিছু অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর নামও থাকতে পারে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পারে নির্বাচন কমিশন। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর, অর্থাৎ ২০১১ সালের পরে ভোটার বৃদ্ধির হার চোখে পড়ার মতো। ২০১১ সালে যেখানে মোট ভোটার ছিল ১ লক্ষ ৯২ হাজার ৮৩২, ২০১৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ লক্ষ ৩৯ হাজার ৫৫৫।
বর্তমানে রতুয়ার মোট ভোটারের মধ্যে মুসলিম ভোটার ৬৩.৮০ শতাংশ। তফসিলি জাতির ভোটার ৯.৯৯ শতাংশ। তফসিলি উপজাতির ভোটার ৬.২৯ শতাংশ। এলাকা পুরোপুরি গ্রামীণ হওয়ায় ভোটের সমীকরণে ধর্ম ও জাতিগত বিন্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
ভোটদানের হার বরাবরই তুলনামূলক ভাবে বেশি। ২০১১ সালে ভোট পড়েছিল ৮০.৩৯ শতাংশ। ২০১৬ সালে তা হয় ৭৭.৮২ শতাংশ। ২০১৯ সালে ৭৭.৪৮ শতাংশ। ২০২১ সালে সামান্য বেড়ে হয় ৭৭.৭৫ শতাংশ। ২০২৪ সালে ভোটদানের হার কমে দাঁড়ায় ৭২.৯৪ শতাংশ।
ভৌগোলিকভাবে রতুয়া উত্তরবঙ্গের উর্বর কৃষি অঞ্চলের অংশ। সমতল পলিমাটির জমি। কাছেই মহানন্দা নদী। বিস্তীর্ণ চাষের জমি ও পুকুর রয়েছে। ধান, পাট, ডাল, সব্জি চাষ হয়। আমবাগান রয়েছে। স্থানীয় মৎস্যচাষও গুরুত্বপূর্ণ। কৃষিই এখানকার অর্থনীতির মূল ভরসা। গ্রামীণ হাট, প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, স্কুল এবং ব্লক প্রশাসনিক দফতর রয়েছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থাও মোটামুটি ভালো। চাঁচল মহকুমা সদর থেকে রতুয়ার দূরত্ব প্রায় ২৮ কিলোমিটার। মালদা শহর, অর্থাৎ জেলা সদর, প্রায় ৪৭ কিলোমিটার দূরে। একলাখি–বালুরঘাট শাখা লাইনের রতুয়া রেল স্টেশন এলাকা সংযোগের প্রধান ভরসা। মালদা, রায়গঞ্জ এবং বালুরঘাটের সঙ্গে রেল যোগাযোগ রয়েছে। সড়কপথে রায়গঞ্জ ৫৩ কিলোমিটার। বালুরঘাট ৭৫ কিলোমিটার। বিহারের কাটিহার ৭৮ কিলোমিটার। পূর্ণিয়া ৮৬ কিলোমিটার দূরে। কলকাতা প্রায় ৩৭৭ কিলোমিটার দক্ষিণে। বাংলাদেশ সীমান্তের ওপারে চাপাই নবাবগঞ্জ প্রায় ৯৫ কিলোমিটার দূরে। মালদা হয়ে যাতায়াত করতে হয়।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রতুয়ায় লড়াই ত্রিমুখী। তৃণমূল, কংগ্রেস এবং বিজেপি; তিন দলের অঙ্কই জটিল। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই কেন্দ্রে বিজেপি স্বাভাবিক ভাবেই কিছুটা পিছিয়ে। তবে মুসলিম ভোটে ভাঙন এবং হিন্দু ভোট একত্রিত হলে অঙ্ক বদলাতে পারে বলে আশা গেরুয়া শিবিরের। তা না হলে মূল লড়াই হবে তৃণমূল ও কংগ্রেসের মধ্যে। দুই দলের মধ্যেই ব্যবধান কম। শেষ পর্যন্ত কারা রতুয়ায় বাজিমাত করবে, তার উত্তর দেবে ২০২৬ সালের ভোটই।
Abishek singhania
BJP
Khatun najema
INC
Payel khatun
IND
Arafat ali
WPOI
Nota
NOTA
Chaitanya rabidas
BSP
Ashok chowdhury
IND
Sabina easmin
IND
Sk israil
IND
Shehnaz quadery
AITC
Sanjay kumar saha
BJP
Arafat ali
WPOI
Nota
NOTA
Emdadul haque
IND
Md kabatulla
BSP
Sekh alamin
BMUP