
৪ মাস ধরে SIR প্রক্রিয়ার শেষে প্রকাশিত হয়েছে বাংলার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। এর মধ্যে বৈধ ভোটারের পাশাপাশি 'ডিলিটেড' তালিকায় রয়েছে প্রায় ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার। প্রায় ৬১ লক্ষ 'অ্যাডজুডিকেশন' অর্থাৎ বিচারাধীন। যা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে নতুন করে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক-উদ্বেগ। তবে বিশ্বকাপজয়ী রিচা ঘোষের মতো নাম 'অ্যাডজুডিকেশন' তালিকায় আসা বিস্ময় তৈরি করেছে। আবার এই অমীমাংসিত তালিকায় নাম রয়েছে রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী-বিধায়কেরও। তৃণমূলের কাদের ঠাঁই হয়েছে এই লিস্টে, জানালেন খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই।
রাজ্যের মন্ত্রী ডা: শশী পাঁজা, বিধায়ক গোলাম রব্বানি, আমডাঙার ৩ বারের বিধায়ক রফিকুল রহমান, কুমারগঞ্জের বিধায়ক তোরাফ হোসেন, চণ্ডীতলার প্রাক্তন বিধায়ক আকবর আলি খান্দাকারের স্ত্রী স্বাতী খান্দাকার, বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ, সন্দেশখালি ব্লক ১-এর BDO সায়ন্তন সেন এবং ময়নাগুড়ির BDO প্রসেনজিৎ কুণ্ডুর নাম রয়েছে 'অ্যাডজুডিকেশন' তালিকায়। এছাড়াও নাম রয়েছে, জঙ্গিপুরের বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী জাকির হোসেন, সাগরদিঘির বিধায়ক বাইরন বিশ্বাস এবং তাঁর দুই ভাই, জলঙ্গীর বিধায়ক আবদুর রাজ্জাক।
শুনানিতে পাসপোর্ট, সরকারি বন্দুকের লাইসেন্স এবং সচিত্র বিধায়কের পরিচয়পত্র জমা দিয়েছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী জাকির হোসেন। একইভাবে সাগরদিঘির বিধায়ক বাইরন বিশ্বাসও শুনানিতে হাজিরা দিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও ফাইনাল লিস্টে দুই বিধায়ককেই ‘বিচারাধীন’ বা ‘অমীমাংসিত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিধায়ক তোরাফ হোসেন মণ্ডল জানান, তিনি পেনশন হোল্ডার, চাকরি করেছেন ৩৬ বছর। ২ বারের এই বিধায়কের নাম ২০০২ তালিকাতেও রয়েছে। এরপরও বাবার নামের উচ্চারণের সামান্য ভুলে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল, দাবি তোরাফের। সমস্ত নথি জমার পরও কেন 'অ্যাডজুডিকেশন', প্রশ্ন তাঁর।
অন্যদিকে, জঙ্গিপুরের সাংসদ তথা তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক জেলা সভাপতি খলিলুর রহমানের পরিবারের সাতজনের নাম বিচারাধীন তালিকায় আছে।
উল্লেখ্য, রাজ্যের মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯। খসড়া তালিকায় বাদ পড়েছিলেন ৫৮ লক্ষ ভোটার। আর প্রকাশিত হওয়া চূড়ান্ত তালিকায় মোট ভোটার সংখ্যা ৭ কোটি ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৮৪ দাঁড়িয়েছে। পড়েছে অতিরিক্ত প্রায় ৫ লক্ষেরও বেশি নাম।অর্থাৎ সবমিলিয়ে বাতিল ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ জন ভোটারের নাম।