
তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি কুমারগঞ্জ। ২০২৬-এ তারা এগিয়ে থেকেই এখানে শুরু করবে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার বিজেপি এই কেন্দ্রে ঠিক কতটা দাগ কাটতে পারে। আসলে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার একটি ব্লক-স্তরের শহর হল কুমারগঞ্জ। এটি বালুরঘাট লোকসভা আসনের অন্তর্গত একটি জেনারেল ক্যাটাগরির বিধানসভা কেন্দ্র। এই কেন্দ্রটি গঙ্গারামপুর ব্লকের অশোকগ্রাম, বাসুরিয়া, চালুন এবং উদয় গ্রাম পঞ্চায়েত সহ সমগ্র কুমারগঞ্জ কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক নিয়ে গঠিত। কবে তৈরি হয়? ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কুমারগঞ্জ বিধানসভা। এটি এখনও পর্যন্ত ১৪টি বিধানসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। এই কেন্দ্র মোটামুটি রাজ্যে যারা সরকার গঠন করে, সেই দলই জেতে। এটাই ট্রেন্ড। এখানে কংগ্রেস এবং তার শাখা, বাং...
তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি কুমারগঞ্জ। ২০২৬-এ তারা এগিয়ে থেকেই এখানে শুরু করবে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার বিজেপি এই কেন্দ্রে ঠিক কতটা দাগ কাটতে পারে। আসলে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার একটি ব্লক-স্তরের শহর হল কুমারগঞ্জ। এটি বালুরঘাট লোকসভা আসনের অন্তর্গত একটি জেনারেল ক্যাটাগরির বিধানসভা কেন্দ্র। এই কেন্দ্রটি গঙ্গারামপুর ব্লকের অশোকগ্রাম, বাসুরিয়া, চালুন এবং উদয় গ্রাম পঞ্চায়েত সহ সমগ্র কুমারগঞ্জ কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক নিয়ে গঠিত। কবে তৈরি হয়? ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কুমারগঞ্জ বিধানসভা। এটি এখনও পর্যন্ত ১৪টি বিধানসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। এই কেন্দ্র মোটামুটি রাজ্যে যারা সরকার গঠন করে, সেই দলই জেতে। এটাই ট্রেন্ড। এখানে কংগ্রেস এবং তার শাখা, বাংলা কংগ্রেস, প্রথম চারটি নির্বাচনে জয়লাভ করে। তারপর ছিল বামেদের পালা। ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত সিপিআই(এম) এখানে টানা সাতবার আসনটি জেতে তারা। আবার ২০১১ সালে পালা বদল দেখে এই কেন্দ্র। এখানে জেতে তৃণমূল। সেই দল পরপর তিনটি নির্বাচনে আসনটি ধরে রেখেছে। তবে এখানে তৃণমূলের প্রাথমিক জয় ছিল কম মার্জিনের। ২০১১ সালে তৃণমূলের মাহমুদা বেগম সিপিআই(এম) এর তৎকালীন বিধায়ক মাফুজা খাতুনকে ৪২১৮ ভোটে পরাজিত করেছিলেন। ২০১৬ সালে তোরাফ হোসেন মন্ডল আবারও মাফুজা খাতুনকে হারিয়েছিলেন। তবে সে বার ভোট পার্থক্য কমে দাঁড়ায় মাত্র ৩,৪৯৬ ভোট। তবে ২০২১ সালে টিএমসি দারুণ ফল করে এখানে। এবার হোসেন মন্ডল বিজেপির মানস সরকারের বিরুদ্ধে ২৯,৩৭৬ ভোটে জিতেছিলেন। এই ভোটে বাম-কংগ্রেস জোটের প্রতিনিধিত্ব করা কংগ্রেসের চৌধুরী নার্গিস বানুকে তৃতীয় স্থানে শেষ করেন। লোকসভা নির্বাচনেও একই ধারা বয়ে গিয়েছে কুমারগঞ্জে। ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনের সময় তৃণমূল এই বিধানসভায় আরএসপি-এর থেকে ১৫,৫৪৭ ভোটে এগিয়ে ছিল। ২০১৯ সালে লিড বেড়ে যায়। এই ভোটে ১৮,৭৫৯ ভোটে পৌঁছে যায় লিড। তবে এই ভোটে প্রধান বিরোধী দল হিসাবে সামনে আসে বিজেপি। আবার ২০২৪ সালে তৃণমূল ২৩,০৩৯ ভোটে এগিয়ে ছিল এই আসনে। তবে এই আসনে উল্লেখযোগ্য হারে ভোট কমেছে বামেদের। তাদের ২০১৬ সালে ৩৯.৬১ শতাংশ ছিল ভোট শেয়ার। সেটাই ২০১৯ সালে ৫.৯ শতাংশে নেমে এসেছিল। তবে ২০২১ সালে ১০.২৩ শতাংশ বেড়েছিল ভোট। যদিও ২০২৪ সালে যখন কংগ্রেস প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল, তখন ৪.২০ শতাংশে নেমে এসেছে ভোট শতাংশ। ভোটার কত? কুমারগঞ্জে ২০২৪ সালে ২১০৮০৩ ভোটার ছিল। ২০২১ সালে ছিল ২০৩,৮৯৬ এবং ২০১৯ সালে ১৯৪,১৪৬ ভোটার ছিল। মুসলিম ভোটারের সংখ্যা এখানে ৩৯.৪০ শতাংশ। তারাই এখানকার বৃহত্তম ভোটার। তারপরে তফসিলি জাতি ২২.৭০ শতাংশ এবং তফসিলি ভোটার ১৬.৩২ শতাংশ। ২০২১ সালে এখানে ৮৩.৮৭ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৮৩.৫৫ শতাংশ এবং ২০১৬ সালে ৮৫.৮৬ শতাংশ ছিল ভোটদানের হার। সেই তুলনায় ২০২৪ সালে ভোটদানের হার প্রথমবারের মতো ৮০ শতাংশের নীচে নেমে গিয়েছিল। সেই ভোটে ভোট দেয় ৭৯.২২ শতাংশ ভোার। কুমারগঞ্জ বরেন্দ্রভূমিতে অবস্থিত। এখানকার ভূমি সমতল। পলিমাটি দিয়ে তৈরি এই অঞ্চল। এখানকার অর্থনীতি কৃষি নির্ভর। আত্রেয়ী নদীটি এই অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে প্রবেশ করেছে এই নদীটি। তারপর কুমারগঞ্জ ও বালুরঘাটের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। বর্ষাকালে নদীটি প্রায়ই উপচে পড়ে। যার ফলে বন্যা হয়। ধান, সরষে এবং পাট হল প্রধান ফসল। এখানে ছোট আকারের ব্যবসা হয়। কুমারগঞ্জ পরিকাঠামো খুব একটা ভাল নয়। শহরটি গঙ্গারামপুর এবং বালুরঘাটের সঙ্গে সড়কপথে যুক্ত। যদিও এখানে রেল যোগাযোগ সীমিত। জেলা সদর বালুরঘাট প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে। জেলা সদরই শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবহনের প্রধান কেন্দ্র হিসাবে কাজ করে। তবে রাজধানী কলকাতা থেকে প্রায় ৩৯৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই কেন্দ্রের কাছাকাছি শহরগুলির মধ্যে রয়েছে গঙ্গারামপুর (১৮ কিমি), হিলি (২৫ কিমি), এবং তপন (৪০ কিমি)। মাথায় রাখতে হবে, কুমারগঞ্জ উত্তর দিনাজপুর জেলার সঙ্গে সীমানা ভাগ করে। সেই জেলার প্রধান শহর, রায়গঞ্জ প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এখান থেকে বিহার সীমান্তও খুব বেশি দূরে নয়। কিষাণগঞ্জ শহর প্রায় ৯৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কী হতে পারে? তৃণমূল কংগ্রেস ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কুমারগঞ্জ কেন্দ্রে জয়লাভ করার জন্য এগিয়ে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার বিজেপি এই আসনে দাঁত ফোঁটাতে পারে কি না। তাদের অমুসলিম ভোটার, বিশেষ করে তফসিলি জাতি এবং উপজাতি ভোটারদের মধ্যে প্রবেশ করতে হবে। তাতেই খেলা ঘুরবে। পাশাপাশি বিজেপি চাইবে বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোট যেন এখানে কিছুটা বাড়তে শুরু করে। এখন দেখার পরিস্থিতি ঠিক কোন দিকে যায়।
Manas sarkar
BJP
Chaudhuri nargis banu
INC
Ranajit deb
SUCI
Nota
NOTA
Rubel sarkar
KPPU
Mafuja khatun
CPM
Manas sarkar
BJP
Nota
NOTA
Bipul tudu
BSP
Golok barman
BMUP
Narayan chandra roy
IND
Ranjit dev
SUCI