
সন্দেশখালি নামটির সঙ্গে শুধু বাংলা নয়, সমগ্র দেশ পরিচিত। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে জাতীয় রাজনীতিতে চর্চায় উঠে আসে সন্দেশখালি। অভিযোগ ওঠে, তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহান ও তার দলবল মহিলাদের উপর নির্যাতন করেছে দিনের পর দিন। সন্দেশখালিতে অস্ত্রও উদ্ধার হয় বলে জানা যায়। নামানো হয় এনএসজি। বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রে সন্দেশখালির রেখা পাত্রকে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। মহিলাদের উপর যৌন নির্যাতন নিয়ে প্রতিবাদে যদিও রেখা হেরে যান। তাই ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি আসনটি বিশেষ নজরে থাকছেই। ২০১১ সালেও সন্দেশখালিতে জিতেছিল বামেরা ১৯৫১ সালে সন্দেশখালি আসন তৈরি হয়। তারপর থেকে ১৭টি বিধানসভা নির্বাচনেরই সাক্ষী এই কেন্দ্র। ডিলিমিটেশনের পরে ২০০৮ সালে এই কেন্দ্...
সন্দেশখালি নামটির সঙ্গে শুধু বাংলা নয়, সমগ্র দেশ পরিচিত। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে জাতীয় রাজনীতিতে চর্চায় উঠে আসে সন্দেশখালি। অভিযোগ ওঠে, তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহান ও তার দলবল মহিলাদের উপর নির্যাতন করেছে দিনের পর দিন। সন্দেশখালিতে অস্ত্রও উদ্ধার হয় বলে জানা যায়। নামানো হয় এনএসজি। বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রে সন্দেশখালির রেখা পাত্রকে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। মহিলাদের উপর যৌন নির্যাতন নিয়ে প্রতিবাদে যদিও রেখা হেরে যান। তাই ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি আসনটি বিশেষ নজরে থাকছেই। ২০১১ সালেও সন্দেশখালিতে জিতেছিল বামেরা ১৯৫১ সালে সন্দেশখালি আসন তৈরি হয়। তারপর থেকে ১৭টি বিধানসভা নির্বাচনেরই সাক্ষী এই কেন্দ্র। ডিলিমিটেশনের পরে ২০০৮ সালে এই কেন্দ্রকে তফশিলি উপজাতির জন্য সংরক্ষণ করা হয়। পশ্চিমবঙ্গে যে ১৬টি ST আসন রয়েছে, তার মধ্যে একটি সন্দেশখালি। সন্দেশখালি I কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক ও সন্দেশখালি II ব্লকের ৭টি গ্রাম পঞ্চায়েত মিলিয়ে তৈরি সন্দেশখালি বিধানসভা কেন্দ্র। দীর্ঘ কয়েক দশক সন্দেশখালি ছিল বামেদের দখলে। ১০ বার জিতেছে বামেরা। ৪ বার এই কেন্দ্রে কংগ্রেস জিতেছিল। ২০১১ সালেও সন্দেশখালিতে জিতেছিল বামেরা। সিপিএম-এর টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন নিরাপদ সর্দার। ২০১৬ সালে সন্দেশখালিতে বামদুর্গ ভেঙে দেয় তৃণমূল। সিপিএম-এর নিরাপদ সর্দারকে ৩৮ হাজার ১৯০ ভোটে হারান তৃণমূল প্রার্থী সুকুমার মাহাত। ২০২১ সালেও এই কেন্দ্রে আধিপত্য তৃণমূলেই ছিল। বিজেপি-র বিকাশ সর্দারকে ৩৯ হাজার ৬৮৫ ভোটে হারিয়ে দেয়। বিজেপি-র উত্থান চোখে পড়ার মতো বস্তুত, সন্দেশখালিতে বিজেপি-র উত্থান চোখে পড়ার মতো। ২০১১ ও ২০১৬ সালে যেখানে বিজেপি-র ভোট শতাংশ ছিল যথাক্রমে ১১.২৭ ও ১২.৭২ শতাংশ। ২০২১ সালে দেখা গেল বিজেপি-র ভোট শতাংশ বেড়ে একলাফে হয়ে গেল ৩৫.৩৬ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে। আবার ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটে দেখা যাচ্ছে ভোট শতাংশের নিরিখে তৃণমূলের থেকে খুব একটা পিছিয়ে নেই বিজেপি। তৃণমূল পেয়েছে ৪৭.৪৭ শতাংশ, বিজেপি-র ৪৩.৩২ শতাংশ। ২০২৪ সালের হিসেব বলছে, সন্দেশখালিতে ২ লক্ষ ৪৫ হাজার ৮১৭ জন ভোটার। ২০২১ সালে এই সংখ্যা ছিল ২,৩৮,৬৩৩, এবং ২০১৯ সালে ২,২৯,৩১২। যদিও এই বিধানসভা কেন্দ্রটি তফশিলি উপজাতি সংরক্ষিত, সবচেয়ে বড় ভোটার গোষ্ঠী হল তফশিলি জাতি, যাদের হার ৩৬.০৪ শতাংশ। এর পরেই রয়েছে তফশিলি উপজাতি ২৫.১০ শতাংশ এবং মুসলিম ভোটার ২৪.৬০ শতাংশ। পুরো কেন্দ্রটাই গ্রামীণ, এখানে একজনও শহুরে ভোটার নেই। সন্দেশখালির যোগাযোগ ব্যবস্থা সন্দেশখালি সুন্দরবন বদ্বীপ অঞ্চলের মধ্যে পড়ে। এখানকার ভূমি সমতল, নীচু এবং নদী, খাল আর নালার জালিকা দিয়ে ঘেরা। রাইমঙ্গল, বিদ্যাধরি-সহ বেশ কয়েকটি নদী এবং জোয়ারভাটার জলপথ এই এলাকার প্রধান বৈশিষ্ট্য। বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও লবণাক্ত জলের হাত থেকে জমি বাঁচানোর জন্য বহু বাঁধ ও ক্যানাল থাকলেও বর্ষায় ভাঙন ও প্লাবনের আশঙ্কা থেকেই যায়। এখানকার অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষি ও মৎস্যচাষ। ধান, সবজি এবং মিঠে ও নোনা জলের মাছ, এই তিনই প্রধান উৎপাদন। অনেকেরই ছোট ছোট মাছের ভেড়ি বা পুকুর রয়েছে। কর্মসংস্থানের অভাবের কারণে অনেক মানুষ কাজের জন্য শহরমুখী হন। চিকিৎসা ও শিক্ষা ব্যবস্থা খুবই সীমিত। রাস্তা সরু এবং জল জমে। যাতায়াতের ক্ষেত্রে ফেরি ও ছোট লঞ্চ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়, যা সন্দেশখালিকে হিঙ্গলগঞ্জ, বসিরহাট ও অন্যান্য জায়গার সঙ্গে যুক্ত করে। সন্দেশখালি কলকাতা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে। জেলা সদর বারাসত প্রায় ৬৫ কিলোমিটার। নিকটবর্তী বড় শহরগুলির মধ্যে বসিরহাট ৩৫ কিলোমিটার, হিঙ্গলগঞ্জ ৪০ কিলোমিটার, এবং বনগাঁ প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরে। বাংলাদেশের সীমানাও খুব কাছেই। সোজাসুজি দূরত্বে সাতক্ষীরা প্রায় ৬০ কিলোমিটার, যদিও কোনও আনুষ্ঠানিক স্থলসীমান্ত পথ নেই, জলপথেই সংযোগ। শাহজাহান শেখ বা নারী নির্যাতনের সেই ইস্যু ২০২৬ সালের ভোটে সন্দেশখালিতে বিজেপি-কে তুলে ধরে লড়বে কিনা, তা সময়ই বলবে। তবে তফশিলি জাতি ও উপজাতির ভোটে বিজেপি-র আধিপত্য বাড়ছে। কিন্তু ২০২৪ সালে এই একই ইস্যু তুলেও রাজনৈতিক হয়নি বিজেপির। বসিরহাট লোকসভা হারতে হয়েছে।
Dr. bhaskar sardar
BJP
Barun mahato
RSSCMJP
Nota
NOTA
Harish chandra sardar
IND
Subal chandra sardar
IND
Khokan sardar
IND
Nirapada sardar
CPM
Sukumar sardar
BJP
Nota
NOTA
Manib sardar
AMB
Ramkrishna munda (sardar)
BSP
Krishna pada munda
SUCI
Harish chandra sardar
IND