
অসুস্থ হয়ে মারা গিয়েছেনে স্বামী। বধূর বিরুদ্ধে স্বামীকে খুন করার অভিযোগ উঠল। আর তাকে মারধর করে চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠল প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনা মোবাইলে বন্দি করে রাখাও হয়েছে বলে খবর।
খুনের অভিযোগ মায়ের
শাশুড়ির অভিযোগ, ছেলের মৃত্যুর জন্য বউমা দায়ী। ছেলেকে কিছু খাইয়ে দেওয়ার ফলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে মারা যান। তবে প্রতিবেশীরা দাবি করেছেন, স্ত্রী চলে যাওয়ার শোক সামলাতে পারেননি। আর তাই তিনি মারা গিয়েছেন।
মারধরের ঘটনায় আটক করা হয়েছে দুই ব্যক্তিকে। বৃহস্পতিবার উত্তর ২৪ পরগণার হাবড়ার ঘটনা। এই ঘটনা ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। চুল কেটে নেওয়ার ঘটনার নিন্দা করেছেন সকলে।
হাবড়ার বসিরহাটিতে
ঘটনাটি হাবড়া থানা এলাকার বসিরহাটি এলাকার। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকার বৃন্দাবন মন্ডলের সঙ্গে ২০১৩ সালে এলাকারই সোমা মন্ডলের বিয়ে হয়। তাঁদের সাত বছরের একটি সন্তান রয়েছে। দু'মাস আগে সোমা মন্ডল স্বামীর সঙ্গে অশান্তি করে বাপের বাড়ি চলে যাযন বলে অভিযোগ। তারপর থেকে দুজনেই আলাদা থাকতেন।
অন্য সম্পর্ক?
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, সোমা মন্ডল প্রতিবেশী আশিস মণ্ডলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে যায়। তারপর থেকেই তাদের সাংসারিক জীবনে অশান্তি বেড়ে যায়। সেই শোকেই মারা গিয়েছেন তাঁর স্বামী।
অসুস্থ হয়ে পড়েন বৃন্দাবন
বুধবার বৃন্দাবন মন্ডল কাজ থেকে ফিরে এসে তার মাকে জানান, তাঁর বুকে ও পেটে ব্যথা করছে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মা হাবড়া হাসপাতালে নিয়ে যান। হাবড়া হাসপাতাল থেকে তাঁকে রেফার করা হয় বারাসত হাসপাতালে। বারাসত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় মৃত্যু হয় বৃন্দাবনের। এদিন দেহ ময়নাতদন্ত হয় বারাসত হাসপাতালে।
এলাকায় প্রবল উত্তেজনা
বৃন্দাবন মন্ডলের মৃত্যুর খবর জানাজানি হতেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেখানকার উত্তেজিত মানুষ সোমা মন্ডলকে ধরে মারধর করে এবং মাথার চুল কেটে দেয় বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের অভিযোগ, সোমা মন্ডল কিছু খাইয়ে বৃন্দাবনকে খুন করেছে।
এই অভিযোগে এলাকার লোকজন সোমার ওপর চড়াও হয় এবং মারধর করে মাথার চুল কেটে দেওয়া হয় । ঘটনাস্থলে গিয়ে হাবড়া থানার পুলিশ আক্রান্ত মহিলাকে উদ্ধার করে ও দু'জনকে আটক করে নিয়ে ।
বৃন্দাবনের মায়ের দাবি
বৃন্দাবনের মা আলো মন্ডলের অভিযোগ, বউমা খুব ঝামেলা করত। দীর্ঘদিন এমন চলছিল। তারপর চলে যায় বাপের বাড়িতে। যদি তিনি পাল্টান। তিনি দাবি করেন, বউমার বাবা বলেছেন, সংসার করার ইচ্ছা না থাকলে আমাদের বলবি।
তিনি আরও দাবি করেন, এরপর বুধবার ছেলে বলে, আমাকে মনে হয় কিছু খাইয়েছে। গা জ্বালা করছে। ও চাইছে আমি চলে যাই। এই বউ মনে হয় ঘর করবে না। আর এদিন বউমা পালাচ্ছিলেন। তখন বাড়ির লোকজন ধরে নেয়। তবে কেউ মারেনি। তখন তাঁর কাছ থেকে জানতে চাওয়া হয় পালচ্ছে কেন। ছেলে কখন ও মারধর করেননি। তবে বউ মারধর করত।
প্রতিবেশীদের দাবি
টিঙ্কু বসু নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, বৃন্দাবনের বউ চলে গিয়েছিল অন্য এক জনের সঙ্গে। বউয়ের শোকে মারা গিয়েছে। হার্ট অ্যাটাক করেছে। বউকে মারধর করেছে পাড়া প্রতিবেশী। পাড়ার লোক রেগে গিয়েছিল। আর তাই তার ওপর চড়াও হয়।