পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি এখন সরগরম। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের শোচনীয় পরাজয়ের পর দলের অভ্যন্তরে অসন্তোষের খবর ক্রমাগত সামনে আসছে। INDIA জোটের বৈঠকের মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বড় ধাক্কা খেলেন। ইন্ডি জোটের বৈঠক চলাকালীনই গোপন বৈঠকে তৃণমূলের বিক্ষুদ্ধ সাংসদরা।
তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা এবং রাজ্যসভা সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় হঠাৎ করেই এদিন পদত্যাগ করেছেন। এদিকে INDIA জোটের বৈঠক চলাকালীন তৃণমূল কংগ্রেসের ১৪ জন বিদ্রোহী সাংসদ দিল্লিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করছেন। এই বৈঠকটি বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে সোমবার দিল্লিতে বৈঠকে বসে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। পাঁচ রাজ্যে নির্বাচনের পর তো বটেই, গত ১০ মাসে এটিই প্রথম বৈঠক বিরোধী জোটের। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র অভিযোগ তুলে বৈঠক বয়কট করে ডিএমকে। এদিনের বৈঠকে ছিল না আম আদমি পার্টিও।
সিপিএম হাজির থাকলেও আগেই এই বৈঠক নিয়ে কড়া চিঠি দিয়েছে। জোটে থাকলেও আসন নিয়ে কংগ্রেসের উপর ক্ষুব্ধ জেএমএমও। এসবের মধ্যেই দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে হল জোটের বৈঠক। যেখানে উপস্থিত ২৩টি দলের বিরোধী দলের নেতা এবং তাঁদের প্রতিনিধিরা।
বৈঠকে যোগ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এমনকী রাহুল গান্ধী, সোনিয়া গান্ধী, ওমর আবদুল্লা, তেজস্বী যাদব এবং অখিলেশ যাদবদের মতো নেতাদেরও এই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছে। শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরেও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন।
ইতিমধ্যে বৈঠকের একাধিক ছবি সামনে এসেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একেবারে সোনিয়া গান্ধীর পাশে বসে রয়েছেন।
সনিয়ার একপাশে বসে রয়েছেন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বৈঠকের মাঝেই তিনজনকে আলোচনা করতেও দেখা যাচ্ছে। যা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিকমহল।
বঙ্গ ভোটের আগে কংগ্রেসের সঙ্গে কার্যত সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। জোট নয়, বরং প্রত্যেকটি আসনেই তৃণমূল-বিজেপির বিরুদ্ধে প্রার্থী দেয় কংগ্রেস। প্রচারে একে অপরের বিরুদ্ধে সুর চড়ায়। এমনকী বাংলায় এসে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়ান রাহুল গান্ধী। পালটা জবাব দেয় তৃণমূলও। যদিও বঙ্গে তৃণমূলের পরাজয় ঘটতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করেন রাহুল গান্ধী। এমনকী কথা হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও। যা নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছিল।
গত ৯ তারিখ অর্থাৎ রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন অনুষ্ঠানে কালীঘাটের বাড়ি থেকে সমস্ত বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিকদলকে জোটে আসার আহ্বান জানান তৃণমূল সুপ্রিমো। এমনকী এই জোটে বাম এবং অতিবাম দলগুলিকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। এরমধ্যে এদিনের ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া বিজয়ের নেতৃত্বাধীন টিভিকে, যারা তামিলনাড়ুতে কংগ্রেস-সমর্থিত সরকার চালাচ্ছে, তাদের দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়া ব্লকের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
দিল্লির কন্সটিটিউশন ক্লাবে ইন্ডি ব্লকের বৈঠক চলছে। বৈঠক চলাকালে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সনিয়া গান্ধী পরস্পরকে আলিঙ্গন করেন। মমতা কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি সোনিয়া গান্ধীর পাশে বসেছিলেন।
সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর মাঝে বসেন। রাহুল গান্ধী কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের একপাশে এবং সোনিয়া গান্ধী অন্যপাশে বসেন।
মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, 'ঠিক যেমন আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সীমানা নির্ধারণ বিলে এনডিএ-কে পরাজিত করেছিলাম, তেমনি এখন আমাদের এসআইআর এবং বিদেশ নীতির বিষয়গুলো জোরালোভাবে উত্থাপন করতে হবে। মোদী সরকারের অপশাসনের চ্যালেঞ্জগুলোর আমাদের মোকাবিলা করতেই হবে।'