মৌসম ভবন জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু ২৬ মে কেরলমে প্রবেশ করতে পারে, যা স্বাভাবিক থেকে প্রায় ৬ দিন আগে। ১ জুন সাধারণত কেরলমে প্রবেশ করে বর্ষা। তবে এই পূর্বাভাস অনুযায়ী ৩-৪ দিন এগিয়ে বা পিছিয়ে যেতে পারে বর্ষা প্রবেশের দিনক্ষণ। অর্থাৎ বর্ষা ২২ মে থেকে ৩০ মে-এর মধ্যে কেরলমে পৌঁছাতে পারে।
হাওয়া অফিস যখন এই ঘোষণা করছে, তখন দেশের বহু রাজ্য তীব্র তাপপ্রবাহের শিকার। ফলে বর্ষার এন্ট্রির পূর্বাভাস স্বস্তি এনেছে। সম্প্রতি রাজস্থানের বারমেরে তাপমাত্রা ৪৭.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে গিয়েছিল। এছাড়া মহারাষ্ট্র, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ এবং দক্ষিণ ভারতের কিছু অংশে তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি রয়েছে।
দেশের কোটি কোটি মানুষের কাছে বর্ষার আগমন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তীব্র গরমের মধ্যে এই বৃষ্টির অপেক্ষায় থাকেন অনেকে।
কেরলমে কেন বর্ষার আগমনের ঘোষণা হয়? কারণ, ভারতের মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু প্রথমে কেরলমেই পৌঁছায়। ফলে বর্ষার সূচনাকে কেন্দ্র করে এই রাজ্য বিশেষ গুরুত্ব পায়।
কেরলমে বর্ষার আগমনকে ধরা হয় ভারতের প্রাক-গ্রীষ্মের তীব্র আবহাওয়ার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি। এরপর ধীরে ধীরে বৃষ্টি উত্তর ভারতের দিকে অগ্রসর হয় এবং সাধারণত জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
২০০৫ সাল থেকে IMD প্রতি বছর কেরলমে বর্ষা আগমনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করে আসছে। এর জন্য একটি বিশেষ পরিসংখ্যানভিত্তিক মডেল ব্যবহার করা হয়।
এই মডেলে বাতাসের গতিপ্রকৃতি, তাপমাত্রা এবং সমুদ্র অঞ্চলের বিভিন্ন সংকেত বিশ্লেষণ করা হয়।
গত ২১ বছরে মাত্র একবার (২০১৫ সালে) এই মডেলের পূর্বাভাস সঠিক প্রমাণিত হয়নি। অর্থাৎ, IMD-র এই পূর্বাভাস সাধারণত যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য বলে মনে করা হয়।
যদি এ বছরের পূর্বাভাস সত্যি হয়, তাহলে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মতো আবারও স্বাভাবিক সময়ের আগেই বর্ষার আগমন ঘটবে।
বর্ষার দ্রুত আগমন কৃষি, জল সরবরাহ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের জন্য বড় স্বস্তির খবর হতে পারে।