বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ইতিমধ্যেই প্রায় ১ হাজার টাকা বেড়েছে। এবার ঘরোয়া রান্নার গ্যাসেও মোটা টাকা গুনতে হতে পারে মে মাসেই।
সূত্রের খবর, ইরান যুদ্ধের জেরে পেট্রোল, ডিজেল ও ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের দাম বাড়তে চলেছে শীঘ্রই। কেন্দ্রের এক শীর্ষস্থানীয় সূত্রের খবর, আগামী ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যেই ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের দাম বাড়তে চলেছে। বাড়বে পেট্রোল, ডিজেল সহ অন্যান্য জ্বালানির দামও।
সূত্রের খবর, পেট্রোল ও ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ৪ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। এছাড়া ঘরোয়া LPG সিলিন্ডারের দাম একলাফে ৪০ থেকে ৫০ টাকা বাড়তে পারে। যদি এই বর্ধিত দাম অনুমোদন পেয়ে যায়, প্রায় ৪ বছর পর পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়বে। ২০২২ সালের পরে।
বিশ্ববাজারে অশোধিত তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির জেরে ভারতে খুব শিগগিরই জ্বালানির দামে বাড়তি চাপ পড়তে পারে। সরকারি সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে, আগামী ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যেই পেট্রোল, ডিজেল এবং এলপিজির দামে বৃদ্ধির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
যদিও বিধানসভা ভোটের আগে সরকার স্পষ্ট জানিয়েছিল, ভোট মিটতেই তড়িঘড়ি কোনও দাম বাড়ানো হবে না, তবুও বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে নীতিনির্ধারকদের।
মূল সমস্যার কেন্দ্রবিন্দু হল পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ। এই যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের জোগান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে পরিবহণ ঝুঁকিও বেড়েছে। এর ফলেই ক্রুড অয়েলের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলছে ভারতের মতো আমদানি-নির্ভর দেশের উপর।
অন্যদিকে, সরকারও ভর্তুকি বা করছাড় দিয়ে এই চাপ সামাল দেওয়ার সীমিত সুযোগ পাচ্ছে, কারণ এতে আর্থিক ঘাটতির উপর অতিরিক্ত বোঝা পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার একদিকে যেমন তেল সংস্থাগুলির আর্থিক চাপ কমাতে চাইছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের উপর মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবও কম রাখতে চাইছে। সেই কারণেই অভ্যন্তরীণ স্তরে একাধিক বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে, কখন দাম বাড়ানো হবে, কতটা বাড়ানো হবে, সেই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নেওয়া হবে। জ্বালানির দাম বাড়লে তার প্রভাব শুধু পরিবহণ খরচেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও তার প্রভাব পড়ে। ফলে সাধারণ মানুষের মাসিক বাজেটেও বড়সড় চাপ তৈরি হতে পারে। তাই এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক,দু’দিক থেকেই অত্যন্ত সংবেদনশীল। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি কী দিকে এগোয় এবং তার প্রভাব কতটা গভীর হয়, তার উপরই নির্ভর করছে আগামী দিনের জ্বালানি নীতি। এখন নজর সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই।