সোনায় বা রুপোয় বিনিয়োগ তো সকলেরই জানা। সোনায় বিনিয়োগের প্রবণতা ভারতে বহু পুরনো। অতীতে মানুষ সোনার গয়না কিনে বিনিয়োগ করতেন। বিশ্বে বর্তমানে জনপ্রিয় হয়েছে ETF (Exchange Traded Fund)। ওদিকে রুপোও ব্যাপক লাভ দিচ্ছে।
দাম বৃদ্ধির হার সোনাকে হার মানাচ্ছে। এরই মধ্যে আরও একটি ধাতু কিন্তু গোকুলে বাড়ছে! তা হল, তামা। তামায় বিনিয়োগ? শুনতে একটি অবাক লাগলেও, এটাই সত্যি। ট্রেন্ড যে দিকে যাচ্ছে, ভবিষ্যতে খেলা ঘুরিয়ে দিতে পারে তামা।
তামার দাম বাড়ছে চড় চড় করে। এই মুহূর্তে রেকর্ড বৃদ্ধি তামার দামে। জোগান কম ও শিল্পে ব্যাপক চাহিদার জেরে, তামার দাম বেড়েই চলেছে। যার নির্যাস, গ্লোবাল ইনভেস্টরদের নজরে এখন তামা। বিদ্যুত্ শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতিতে তামার চাহিদা তুঙ্গে।
এখন প্রশ্ন হল, ভারতে কি তামার ETF চালু হবে? ভারতে এখনও তামার ETF নেই। তবে বিশ্ববাজারে যে ভাবে তামার চাহিদা ও দাম বাড়ছে, তাতে স্পষ্ট ইঙ্গিত, তামা লম্বা রেসের ঘোড়া।
মূলত, ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে সোনা ও রুপোর দাম রেকর্ড হারে বাড়তে শুরু করেছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে কিন্তু তামাও। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে তামার দাম বাড়ছে লাফিয়ে। AI, ডেটা সেন্টার ও ডিজিটাল পরিকাঠামো নির্মাণে তামার ব্যবহার ব্যাপক বেড়ে গিয়েছে। জোগানের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া যাচ্ছে না। যার ফলে এখনও পর্যন্ত পর্যন্ত একলাফে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছে তামার দাম।
ভারতের খুচরো বিনিয়োগকারীরা সরাসরি তামায় বিনিয়োগ খুব একটা করতে পারেন না। খুব সীমিত সুযোগ। কারণ, ভারতে তামার ETF বা মিউচুয়াল ফান্ড এখনও নেই। এমনকী তামার বিস্কুট বা কয়েনও পাওয়া যায় না। তবে তবে বড় চুক্তির পরিমাণ, উচ্চ মার্জিনের প্রয়োজন এবং তীব্র দামের ওঠানামার কারণে এই পথটি মূলত তাঁদের জন্য উপযুক্ত, যাঁদের কমোডিটি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ভাল ধারণা রয়েছে। বিকল্পভাবে, পরোক্ষভাবে বিনিয়োগের জন্য বিনিয়োগকারীরা হিন্দুস্তান কপার-এর মতো দেশীয় সংস্থার শেয়ার বিবেচনা করতে পারেন।
এত বাধা সত্ত্বেও তামায় বিনিয়োগে লক্ষ্যণীয় রিটার্ন মিলেছে। MCX -এ ২০২৫ সালে তামা ৬০ শতাংশের বেশি রিটার্ন দিয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যাছিল ৭৯৩.৮৫ টাকা প্রতি কেজি, ২০২৬ সালের পয়লা জানুয়ারিতে তা বেড়ে হয়েছে ১,২৯২.৫০ টাকা প্রতি কেজি। প্রায় ৬৩ শতাংশ রিটার্ন। ২০১৬ সালে ৩১৬ টাকা কেজি ছিল দাম। তা হলে বুঝুন, লংটার্ম বা দীর্ঘ মেয়াদে তামার দাম কতটা রিটার্ন দিয়েছে।
VT Markets-এর গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজি অপারেশনস লিড রস ম্যাক্সওয়েলের বক্তব্য, তাত্ত্বিকভাবে বিষয়টি আকর্ষণীয় হলেও বাস্তবায়ন যথেষ্ট জটিল। তাঁর কথায়, 'সরবরাহ ঘাটতি, অপ্রচলিত শক্তি ও ইলেকট্রিক গাড়ির চাহিদা বৃদ্ধির কারণে ভারতীয় বাজারে তামার ETF চালু করা যুক্তিসঙ্গত। তবে রেকর্ড দামের সময় এটি চালু করলে স্বল্পমেয়াদে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
কোনও ETF সফল হতে হলে সেটিকে দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবে তুলে ধরতে হবে, স্বল্পমেয়াদী মুনাফার পেছনে ছোট পণ্য হিসেবে নয়।'
তিনি প্ল্যাটিনামের সঙ্গে তুলনাও টানেন। মাঝে মাঝে এই ধাতুটি নিয়েও ETF প্রসঙ্গ ওঠে। তামার শিল্পভিত্তিক চাহিদা যেখানে বহুমুখী, সেখানে প্ল্যাটিনামের ব্যবহার তুলনামূলকভাবে সীমাবদ্ধ।