শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করে মোটা টাকা পকেটে পুরতে যারা ভালোবাসেন, তাদের জন্য চলতি সপ্তাহে উপার্জনের এক বড়সড় সুযোগ আসতে চলেছে। প্রাইমারি মার্কেটে বিনিয়োগকারীদের জন্য এই সপ্তাহে একের পর এক ধামাকা দিতে তৈরি দেশের বেশ কয়েকটি নামী সংস্থা। বাজার বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মূল বাজারে এবং এসএমই সেগমেন্ট মিলিয়ে মোট চারটি বড় কোম্পানি তাদের প্রাথমিক পাবলিক অফারিং বা আইপিও নিয়ে হাজির হচ্ছে। এই কোম্পানিগুলির শেয়ার পাওয়ার জন্য লগ্নিকারীদের মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রবল উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে।
লগ্নিকারীদের এই উন্মাদনার সবচেয়ে বড় কারণ হলো এই আইপিওগুলির গ্রে মার্কেট প্রিমিয়াম বা জিএমপি। দালালি স্ট্রিটের খবর অনুযায়ী নতুন করে বাজারে আসতে চলা একটি সংস্থার প্রতিটি শেয়ারের পেছনে প্রায় ১৬৮ টাকা পর্যন্ত প্রফিট বা জিএমপি দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ বাজারে অফিশিয়ালি লিস্টিং হওয়ার আগেই এই স্টকগুলি ধূমকেতুর গতিতে ছুটছে। চলতি সপ্তাহে যে চারটি কোম্পানি বাজারে পা রাখছে তাদের ব্যবসা এবং আর্থিক ভিত বেশ মজবুত বলেই মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
চলতি সপ্তাহের এই আইপিও মহোৎসবে কোন কোন কোম্পানি অংশ নিচ্ছে তা জানার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন ছোট বড় সব ধরণের ট্রেডাররা। রিপোর্টের দাবি অনুযায়ী এই চারটি আইপিওর মাধ্যমে বাজার থেকে কোটি কোটি টাকা তোলার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। কোম্পানিগুলি তাদের এই সংগৃহীত পুঁজি ব্যবসার সম্প্রসারণ ও পুরনো ঋণ মেটানোর কাজে ব্যবহার করবে। বিনিয়োগের জন্য প্রতিটি আইপিওতে বিডিং করার নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং প্রাইস ব্যান্ড ইতিমধ্যেই ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে বর্তমান সময়ে ভারতীয় শেয়ার বাজারের যা পরিস্থিতি তাতে আইপিওতে টাকা খাটানো বেশ লাভজনক একটি বিকল্প হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে। যে চারটি কোম্পানির আইপিও এই সপ্তাহে সাবস্ক্রিপশনের জন্য খুলছে সেগুলির গ্রে মার্কেট ট্রেন্ড কিন্তু বেশ ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে। ফলে খুচরো বিনিয়োগকারীরা যদি সঠিক রণনীতি তৈরি করে আবেদন করতে পারেন তবে লিস্টিংয়ের দিনেই পকেট ভরতি রিটার্ন পাওয়ার এক বিপুল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তবে বাজারে টাকা ঢালার আগে প্রতিটি আইপিওর লট সাইজ এবং ন্যূনতম কত টাকা বিনিয়োগ করতে হবে তা ভালো করে জেনে নেওয়া প্রয়োজন। প্রতিটি শেয়ারের ফেস ভ্যালু এবং ইস্যু প্রাইসের ওপর ভিত্তি করেই এই লট সাইজগুলি নির্ধারণ করা হয়েছে। আইপিওতে অংশ নেওয়ার জন্য সাধারণত একজন খুচরো লগ্নিকারীকে একটি নির্দিষ্ট লটের জন্য আবেদন করতে হয় যার জন্য ন্যূনতম এক একটি নির্দিষ্ট অংকের মূলধনের প্রয়োজন পড়ে।
আইপিওগুলির টাইমলাইন অনুযায়ী চলতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে এগুলির সাবস্ক্রিপশন উইন্ডো খোলা হবে এবং তিন দিন ধরে সাধারণ মানুষ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বিড করতে পারবেন। বিডিংয়ের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরেই শুরু হবে শেয়ার অ্যালটমেন্টের কাজ। যাদের ভাগ্য ভালো তারা নিজেদের ডিম্যাট অ্যাকাউন্টে এই শেয়ারগুলি পেয়ে যাবেন এবং বাকিদের টাকা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে রিফান্ড হয়ে যাবে।
সব শেষে লিস্টিংয়ের দিনে বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ এবং ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের পর্দায় এই চার কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচা শুরু হবে। অভিজ্ঞ বাজার বিশ্লেষকদের পরামর্শ হলো অন্ধের মতো টাকা না ঢেলে কোম্পানির রেড হেরিং প্রসপেক্টাস ভালো করে পড়ে নেওয়া উচিত। শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ সবসময়ই বাজারগত ঝুঁকির ওপর নির্ভরশীল তাই বুদ্ধি খাটিয়ে এবং নিজের আর্থিক উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেই এই চার ধামাকা আইপিওতে পা বাড়ানো বুদ্ধিমানের কাজ হবে।