ভোটের দামামা বেজে উঠতেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে দেওয়াল দখলের লড়াই। আর মাত্র কয়েকদিন পর প্রথম দফার ভোট।
তার আগেই লাল, সবুজ, গেরুয়া রঙে রঙিন হয়ে উঠছে শহর থেকে গ্রাম। প্রচারের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে ফের সামনে এসেছে ছড়া-ছন্দে ভরা দেওয়াল লিখন।
কলকাতার যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন এলাকায় এখন নজর কাড়ছে এই সৃজনশীল প্রচার।
পাটুলি-বৈষ্ণবঘাটা, সাঁপুইপাড়া, মণ্ডলপাড়া, সব জায়গাতেই ছন্দ মিলিয়ে লেখা স্লোগানে ভরে উঠেছে দেওয়াল। শুধু যাদবপুর নয়, রাজ্যের প্রায় প্রতিটি জেলাতেই দেওয়ালজুড়ে ছড়ার ছড়াছড়ি।
কোথাও ব্যঙ্গ, কোথাও কটাক্ষ, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করতেই তৈরি হচ্ছে এইসব ছড়া। যেমন, ‘তোমার দলে অমিত-মোদি, নেতায়-নেতায় ভারী, আমার দলে একলা দুর্গা, পঁয়ষট্টির নারী।’
আবার অন্য এক দেওয়ালে লেখা, ‘পদ্মফুলে দিলে ছাপ, ঘরে ঢুকবে কেউটে সাপ।’ সরকারি প্রকল্প নিয়েও ছড়া তৈরি হয়েছে—‘আগে পেতাম ১০০০, এখন ১৫০০ পাই, তাই তৃণমূলকেই চাই... বাংলা নিজের মেয়েকে চায়।’
এই ধরনের রঙিন, ছন্দময় দেওয়াল লিখন শুধু রাজনৈতিক বার্তাই দেয় না, পথচলতি মানুষকেও থামিয়ে দেয়। রাজনীতিতে অনাগ্রহী অনেক মানুষও এই সৃজনশীলতা উপভোগ করেন।
শুধু প্রার্থীর নাম নয়, দেওয়ালে জায়গা পাচ্ছে স্লোগান, কার্টুন, এমনকি ছোট কবিতাও।
বাংলার ভোট সংস্কৃতিতে দেওয়াল লিখনের ইতিহাসও দীর্ঘদিনের। বিখ্যাত ব্যঙ্গকার দাদাঠাকুর-এর ছড়াতেও তার ছাপ পাওয়া যায়, যেখানে ভোটের রাজনীতিতে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের ব্যবহার স্পষ্ট।
সেই ঐতিহ্য আজও বহমান। একসময় স্টেনসিল আর আলকাতরার ছাপ দিয়ে শুরু হলেও, ষাটের দশক থেকে দেওয়াল লিখনে আসে রঙ, ক্যালিগ্রাফি আর শিল্পের ছোঁয়া।