
ভোটের পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার নির্বাচন ২৩ এপ্রিল। তার আগে শেষ মুহূর্তের প্রচারে আজ রাজ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অন্যদিকে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রথম দফার শেষ মুহূর্তের প্রচার সারছেন আজ। সব মিলিয়ে রাজ্যজুড়ে ভোটের উত্তাপ একেবারে তুঙ্গে। অমিত শাহের আজ ৪টি সভা পশ্চিমবঙ্গে। শিলিগুড়িতে সুকনা হাইস্কুলের মাঠে, তারপর পশ্চিম বর্ধমানে বেলতোড়িয়া, পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনী ও পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরে সভা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা হলদিয়া, ব্যারাকপুর, জগদ্দল ও কলকাতায় জোড়াসাঁকোতে। তাপসী মণ্ডল, রাজ চক্রবর্তী, সোমনাথ শ্যাম, বিজয় উপাধ্যায়ের সমর্থনে সভা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বাংলায় প্রথম দফার ভোট হবে ২৩ এপ্রিল। ওই দিন ১৬টি জেলায় ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ করা হবে। ১৬টি জেলায় ভোটগ্রহণ হবে। একনজরে দেখে নেওয়া যাক, কোন কোন জেলায় ২৩ তারিখে ভোটগ্রহণ করা হবে। জেলাগুলি হল, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, দার্জিলিং, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম। দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ করা হবে ১৪২টি আসনে। ৭টি জেলা কভার করবে দ্বিতীয় দফার ভোট। সেই জেলাগুলি হল, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, কলকাতা, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান।
বাংলা ভাষায় কথা বললে বাংলাদেশি। পাঞ্জাবি ভাষায় কথা বললেই খালিস্তানি। বিজেপি এই কথাটাই বলে। এমনটাই জানালেন মমতা।
যাঁদের কাঁচা বাড়ি রয়েছে, তাঁদের পাকা বাড়ি করে দেব। দক্ষিণেশ্বর টু নোয়াপাড়া আমার প্রকল্প। ২০০৯ সালে এটা করে দিয়েছি, জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বাংলার মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন? সেই নিয়ে ফের ইঙ্গিত দিলেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, 'ভাইপোকে মুখ্যমন্ত্রী করতে চাইছেন মমতা। তেমনটা হবে না। এই বাংলার জন্ম নেওয়া বাঙালি, বাংলায় পড়াশোনা করা ব্যক্তিই মুখ্যমন্ত্রী হবেন। তবে তা ভাইপো নন, BJP-র কার্যকর্তা।'
শালবনির জনসভা থেকে মমতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে অমিত শাহ বলেন, 'অযোধ্যার রাম মন্দির নির্মাণের বিরোধিতা করেছিলেন এই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৫০০ বছরের অপেক্ষার পর রামলালার মন্দির স্থাপিত হয়। এ মমতা, শুনে নিন, এখানে আপনার চ্যালা কোনও কবীর-ফবির বাবরি মসজিদ নির্মাণ করতে পারবে না। বাংলার মাটিতে ওসব হবে না।'
UCC নিয়ে শালবনির প্রচারসভা থেকেও মন্তব্য করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, 'আপনারা জানেন তো কারা ৪টে করে বিয়ে করে? আপনারা চান বাংলার মানুষ ৪টে করে বিয়ে হোক? যদি না চান BJP সরকার আনুন। আমরা UCC লাগু করে ৪টে করে বিয়ে বন্ধ করব।'
মহিলা নিরাপত্তা নিয়ে ফের সরব অমিত শাহ। পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি থেকে তিনি বলেন, 'সন্দেশখালি হোক, আরজি কর হোক, দূর্গাপুর মেডিক্যাল কলেজ হোক বা সাউথ কলকাতা ল'কলেজ, প্রত্যেক ঘটনার দোশীদের বেছে বেছে জেলে ভরব ৪ তারিখের পর। ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার গড়ে দিন, বাংলার মা-বোনেরা মধ্যরাতে বেরোলেও তাঁদের দিকে কেউ চোখ তুলে তাকাতে পারবে না।'
হলদিয়ার সভা থেকে তোপ তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনি বলেন, ‘এই জেলায় গদ্দার লিস্ট করে দিয়েছে, কাকে কাকে অ্যারেস্ট করতে হবে। ভোটের পরে তুমি নিজেকে সামলাও। অনেক কেলেঙ্কারি আছে। হলদিয়া থেকে কত ট্রাক যায়? সেই ট্রাকের কাটমানি কে খায়? যত কোম্পানি আছে, তাদের থেকে মাসে মাসে টাকা কে তোলে? সব একজনই তোলে।’
'ভোটের আগে চেক করবে বলে ঘোষণা করেছে কমিশন। পোলিং বুথের সামনে সেন্ট্রাল ফোর্সের দুইজন থাকবে। তারা চেক করবে। জেনে রাখবেন পুরুষেরা মহিলাদের চেক করতে পারে না। আবার বলছে কাউন্টিউংয়ে খেলা হবে। সবকটাকে কোর্টে টানব। ছাড়া হবে না।', বললেন মমতা।
বাংলায় আসছে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার। আমি যদি মানুষের মুখের ভাষা দেখি, তাহলে তৃণমূল জিতবে। মোদীবাবুর পতন শুরু হয়ে গিয়েছে।
আপনারাদের এ বারে নিজেদের অস্তিত্ব বাঁচানোর জন্য লড়াই, যদি পূর্ব মেদিনীপুর জেলা কোনও গদ্দারের হাতে বিক্রি করতে না চান , তা হলে সব আসনে, সব চক্রান্ত ব্যর্থ করে জোড়াফুলকে ভোট দিতে হবে। নাম না করে হলদিয়ার সভা থেকে শুভেন্দুকে খোঁচা মমতার।
বিজেপি-কে বিঁধে মমতা বলেন, 'তৃণমূলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিচ্ছো। তোমাদের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে আমি চার্জশিট দিচ্ছি। কত টাকা হলদিয়া থেকে যায়, এটার একটা তদন্ত হোক। তৃণমূলের লোকেরা শুধু গ্রেফতার হবে? আগের বারও নন্দীগ্রামে এ ভাবে লুট করেছ! রাতের বেলায় জেতার পরেও লোডশেডিং করে ইভিএম মেশিন লুট করেছ। কাউন্টিং লুট করেছ। যাদের বসিয়েছিলে, তাদের আমি চিনি। কেউ যদি আপনাদের সঙ্গে দুষ্টুমি করে, তাদের নাম-ঠিকানা, ফোন নম্বর আর ছবি তুলে রাখবেন।'
মমতা বলেন, গদ্দারের সরকার। গদ্দারদের রাজনৈতিক ভাবে উৎখাত করে দেব। আগামী দিনে পশ্চিম মেদিনীপুরের দায়িত্ব নেবে অভিষেক।
নন্দীগ্রামের মানুষ তোমাদের আগেরবারও ভোট দেননি। দাবি করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মিলিটারিও নিয়ে এসছে। যুদ্ধের সরঞ্জাম নিয়ে এসেছে। পুলিশকে কখনও দেখেনি বিজেপির হয়ে কাজ করছে। নন্দীগ্রামে আমার কর্মীকে খুন করেছে। এদের আমি আগে থেকেই চিনি।
হলদিয়া বিধানসভার প্রার্থী তাপসী মণ্ডলের সমর্থনে সুতাহাটার সভা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘোষণা করলেন দিঘায় বড় হাসপাতাল হবে।
কাঁথিতে এবং নন্দীগ্রামে তৈরি হয়েছে সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল। দিঘাতে একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে, এমনটাই দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিজেপিকে চার্জশিট আমি দেব। কাজ হয়নি বলছে, তাই বলছি। ২ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থান হবে। হলদিয়াতে খেলনা তৈরির কারখানা হবে।
হলদিয়ায় দলীয় প্রার্থীদের হয়ে জনসভা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৩৩৪ একর জমিতে হলদিয়া শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হয়েছে।
অমিত শাহ বললেন, 'মমতাদিদি যুবকদের চিন্তা করেন না। শুধু মাত্র ভাইপোর চিন্তা করেন। আপনারা কি চান ভাইপো মুখ্যমন্ত্রী হোক? নির্বাচনের পরেই মমতাদিদি নিজের জায়গায় ভাইপোকে বসিয়ে দেবেন। ভাইপো কখনও মুখ্যমন্ত্রী হবেন না। স্বপ্নপূরণ হবে না। বিজেপি এলে বাঙালি ও বাংলার ভূমিপুত্রই মুখ্যমন্ত্রী হবেন।'
অমিত শাহ বললেন, কারা ৪টে বিয়ে করছে, সবাই জানেন তো। আমরা এলে সব বন্ধ করে দেব। ইউসিসি লাগু হলেই ৪টে করে বিয়ে বন্ধ হয়ে যাবে। ১ জুন থেকে মহিলাদের আর বাসের টিকিট কাটতে হবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাকরি বিক্রি করেছে। আমরা ১ লাখ যুবককে প্রতি বছর চাকরি দেব। বন্ধ হয়ে যাওয়া জুট মিল চালু করব।
কুলটির বরাকরে সভা অমিত শাহ বললেন, 'কুলটির ভূমি থেকেই একসময় গোটা ভারত ও দুনিয়ায় যেত। কিন্তু মমতার কুশাসনে সব শেষ। এই ভোট গোটা বাংলাকে অনুপ্রবেশকারী মুক্ত করার নির্বাচন। দিদি বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাও। ৫ তারিখ বাংলায় আমরা সরকারে এলেই অনুপ্রবেশকারীদের বেছে বেছে তাড়াব। মমতার গুণ্ডাদের বলছি, ২৩ তারিখ ভোটে অশান্তির চেষ্টা করে ৪ তারিখের পরে উল্টে টাঙিয়ে সোজা করব।'