
পশ্চিমবঙ্গ এবার তৈরি হচ্ছে দ্বিতীয় দফার ভোটের জন্য। ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় রেকর্ড ৯০ শতাংশের বেশি ভোটদানের রেশ কাটতে না কাটতেই দ্বিতীয় দফার প্রচারকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে উঠেছে। শুক্রবার বাংলার হাইভোল্টেজ রাজনৈতিক আঙিনায় একদিকে যেমন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের একাধিক কর্মসূচি রয়েছে, তেমনই পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে ময়দানে নেমেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ পানিহাটি ও বারুইপুরের জোড়া জনসভা থেকে প্রথম দফার বিপুল ভোটদানকে পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরে শাসকদলকে বিঁধবেন বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ ও হুগলির শ্রীরামপুরে জনসভা সেরে ব্যারাকপুরে মেগা রোড শো করবেন, যা মূলত শিল্পাঞ্চলের হিন্দিভাষী ও মিশ্র ভোটব্যাঙ্ককে প্রভাবিত করার কৌশল। পাল্টা রণকৌশল সাজিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ হাওড়া ময়দানে সভার পর নিজের পাড়া ভবানীপুর এবং কলকাতা বন্দর এলাকায় মেগা মিছিল ও সভা করবেন, যেখানে তিনি কলকাতার মেয়র তথা হেভিওয়েট প্রার্থী ফিরহাদ হাকিমের হয়ে সরাসরি সওয়াল করবেন। পাশাপাশি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আজ একদিকে যেমন হাওড়া ও ক্যানিং পশ্চিমে জনসভা করবেন, তেমনই নিজের গড় ডায়মন্ড হারবারে বর্ণাঢ্য রোড শোয়ের মাধ্যমে নিজের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন করবেন। প্রথম দফায় ৯২ শতাংশের বেশি ভোট পড়ার পর ভোটারদের মধ্যে যে স্বতঃস্ফূর্ততা দেখা গিয়েছে, তাকেই হাতিয়ার করে বিজেপি যেমন মেরুকরণ ও পরিবর্তনের ডাক দিচ্ছে, তেমনই তৃণমূলও এনআরসি-সিএএ আতঙ্ক এবং উন্নয়নকে ঢাল করে পাল্টা প্রচার চালাচ্ছে। মুর্শিদাবাদ বা বীরভূমের মতো জেলাগুলোতে যেভাবে নাম বাদ পড়ার আতঙ্কে মানুষ বুথমুখী হয়েছেন, দ্বিতীয় দফার আগে সেই সেন্টিমেন্টকে কাজে লাগাতে মরিয়া সব পক্ষই। সব মিলিয়ে হেভিওয়েটদের এই প্রচার যুদ্ধ বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের লড়াইকে এক চূড়ান্ত নাটকীয় মোড়ে পৌঁছে দিয়েছে।
বিজেপি প্রার্থীকে আক্রমণ অভিষেকের। তিনি বলেন, 'আমরা এমন মানুষদের প্রার্থী করেছি যারা ভোটের পরেও এলাকার মানুষের পাশে থাকবেন। আমি মায়েদের সাক্ষীরেখে বলছি, আপনারা হতাশ হবেন না।'
আমাদের কাছে জগৎবল্লভপুরের বিজেপির প্রার্থী অনুপম ঘোষের নামে অভিযোগ আসে। তিনি তৃণমূলে ছিলেন। সে সময় অভিযোগ আসে। গ্রেফতাঁর হওয়ার ভয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।
শাহ বলেন, ‘৫ তারিখের পর আর আপনাদের কাটমানির নামে ভাইপো ট্যাক্স দিতে হবে না।’ সেইসঙ্গে তাঁর আরও সংযোজন, ‘তৃণমলের গুন্ডারা শুনুন, ২৯ তারিখ বাড়ির বাইরে বার হবেন না। তা না হলে ৫ তারিখের পর উল্টো ঝুলিয়ে সোজা করে দেওয়া হবে।’
বাংলায় বাবরি মসজিদ হতে দেব না। জনসভায় বললেন অমিত শাহ।
হিঙ্গলগঞ্জের সভা থেকে প্রথম দফার ভোটের ‘ফল’ জানালেন শাহ। তিনি বলেন, ‘তৃণমূল ও মমতাদির খেলা শেষ হতে চলেছে। কাল ভোট হয়েছে। সেই ১৫২ আসনের মধ্যে ১১০টি জিতবে বিজেপি।’
প্রধানমন্ত্রী মোদী: তৃণমূল জলজীবন মিশনেও দুর্নীতি করেছে। ৪ মে-র পর বিজেপির সরকার হবে। আর তারপরেই বাংলার সমস্ত সমস্যার অবসানের সূচনা হবে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী: যাদবপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় দলিতদের একটি বড় অংশ থাকেন। কিন্তু তৃণমূল তাঁদের জন্য কিছু করেনি।
প্রধানমন্ত্রী মোদী: আপনারা আমাকে আশীর্বাদ দিন, আমরা আপনাদের স্বাধীনতা দেব। তৃণমূলের ভয়, সিন্ডিকেট, দুর্নীতি, বেকারত্ব, অনুপ্রবেশ থেকে স্বাধীনতা।
প্রধানমন্ত্রী মোদী: যাদবপুরে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ হচ্ছে, দেওয়ালে দেশবিরোধী স্লোগান লেখা হচ্ছে। আমরা এখানে হুমকি নয়, পড়াশোনার পরিবেশ চাই। যে সরকার রাজ্যের সবচেয়ে বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেই সামলাতে পারে না, তারা পুরো রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা কীভাবে সামলাবে?
প্রধানমন্ত্রী মোদী: আমরা চাই বাংলার প্রত্যেক মহিলা আত্মনির্ভর হন। কিন্তু দেখলেন দেশের সাংসদে কেমন বিরোধীরা মহিলা সংরক্ষণের বিরোধিতা করলেন। টিএমসি চায় না যে রাজনীতিতে মহিলাদের অংশগ্রহণ বাড়ুক।
PM Modi Live Today: বাংলার সামনে অনেক বড় সুযোগ। তাই একটিও ভোটও যেন বাদ না যায়। আপনাদের অনুরোধ, বিজেপির সব প্রার্থীদের জেতান।
PM Modi Live Today: স্বাধীনতার পর থেকে দেশে এমন হয়নি। দুর্দান্ত ভোটদানের হার ছিল। চারদিকে আলোচনা হচ্ছে যে বিজেপির বাংলায় কত সমর্থন পেয়েছে।
বিজেপি প্রার্থীদের সঙ্গে দেখা করলেন প্রধানমন্ত্রী। 'কেমন আছেন সবাই', বাংলায় মা কালীর স্মরণ করে বক্তব্য শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
বারুইপুরের পেয়ারা দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জেলা সাংগঠনিক সভাপতির। বারুইপুরের পেয়ারার জনপ্রিয়তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরলেন বিজেপি কর্মীরা।
'এই শহর আজও ১৫০ বছর পুরনো নিকাশী ব্যবস্থার উপর বাঁচে। VIP ও যশোর রোডের জ্যাম দমদমের দম আটকে দিচ্ছে। হাইকোর্ট বারবার অবৈধ নির্মাণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। কালিন্দির পরিস্থিতি বদলেছে নাকি? মধুপুরের মতো এলাকার মানুষ জলকষ্টে ভুগছেন। জনতার আশার বিনাশ ঘটিয়েছে তৃণমূলের লোকেরা। পুরনো পাইপের মধ্যে ঘেঁটে রাখতে চাইছেন ওঁরা। প্রত্যেক বছরের বৃষ্টিতে জোগাড় করা টেন্ডার নিয়ে ব্যস্ত থাকেন ওঁরা। কয়েক বছর আগে জমা জলে এক ভাই মারা গিয়েছিলেন। নির্মম সরকার তখন নিজেদের গাফিলতি ঢাকতে ব্যস্ত ছিল। আজ পর্যন্ত শৌচালয় ঠিকঠাক বানাতে পারেনি এরা। জুগাড়ু দমদম চাই না আমরা, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দমদম চাই। আর তা করতে পারে আধুনিক মনস্ক BJP। কলকাতা মেট্রোর কাজ তৃণমূলের জন্যই আটকে রয়েছে। একটি প্রজেক্টের NOC ১ বছর ধরে আটকে রয়েছে। ওরা যতদিন সরকারে থাকবে এখানে যানজট কোনওদিন কাটবে না' পানিহাটির মঞ্চ থেকে তিনি বলেন, ''পিএম সিএম একসঙ্গে, উন্নয়ন হবে দিনে-রাতে''
'TMC-র সিন্ডিকেট কলকাতার ক্ষুদ্র ব্যবসা নষ্ট করে দিয়েছে। দমদমের মতো শহরের পরিস্থিতি আরও খারাপ। কারখানাগুলিতে তালা পড়ে গিয়েছে। আগে দেশের অন্য রাজ্য থেকে কাজের জন্য যুবরা কলকাতায় আসত। এ রাজ্যের স্পোর্টস হাবও নষ্ট করে দিয়েছে এই সরকার। কলকাতার মাঠে লজ্জাজনক ঘটনা ঘটে। তৃণমূলের নেতা, বিধায়ক, মন্ত্রী যা ঘটিয়েছে, তা আর বলার নয়।'
কংগ্রেস সরকারের সময়ে ১ জিবি ডেটা ৩০০ টাকায় পাওয়া যেত। এখন সেটা ১০ টাকায় পাওয়া যায়। তাই আজ প্রত্যেক মধ্যবিত্তের মাসে ৪-৫ হাজার টাকা বেঁচে যায়। এমনটাই মন্তব্য নরেন্দ্র মোদীর। গত ১১ বছরে দেশে মেডিক্যালের আসন দ্বিগুণ বাড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি। এতে মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েরা আর বাইরে পড়তে যায় না। তাঁদের পয়সা বেঁচে যায়। বাংলাতেও এখন মিডল ক্লাস পরিবারের উচিত BJP-র ডাবল ইঞ্জিন সরকার। মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর।
'BJP মহিলাদের সম্মান, সুরক্ষা এবং সমৃদ্ধি দেবে। প্রত্যেক মহিলা বিনা পয়সায় রেশন পাবেন। কোনও সিন্ডিকেট আপনার অধিকার ছিনিয়ে নিতে পারবেন না। ঘর তৈরির স্বপ্ন পূরণ হবে। পিএম আবাস যোজনায় দেড় লক্ষ টাকায় বাড়ি তৈরির সহায়তা মিলবে। যে ঘর তৈরি হবে, তা মহিলাদের নামেই তৈরি হবে। আয়ুষ্মার ভারত প্রকল্পে মহিলাদের ৫ লক্ষ টাকার চিকিৎসা বিনামূল্যে মিলবে। BJP সরকার তৈরি হলেই প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প লাগুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মাতৃশক্তি ভরসা কার্ডের আওতায় প্রত্যেক বছর ৩৬ হাজার টাকা মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। গর্ভবতী মহিলাদের ২১ হাজার টাকার সহায়তা দেওয়া হবে। লাখপতি দিদির আওতায় আনা হবে অনেককে। মুদ্রা যোজনায় ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ব্যবসার জন্য ঋণ মিলবে। কৃষিকাজে জড়িত মহিলারা ৯ হাজার টাকা করে পাবেন।'
BJP সেই মা-কে প্রার্থী করেছে, যাঁর মেয়েকে তৃণমূলের মহাজঙ্গলরাজ ছিনিয়ে নিয়েছে। আমরা সন্দেশখালির নিপীড়িতদেরও প্রার্থী করেছি। তৃণমূলের নির্মম সরকার মেয়েদের বলে, ধর্ষণ থেকে বেঁচে থাকতে হলে ঘর থেকে বাইরে বেরোবেন না। এটা তৃণমূল চায় না, মহিলারা খোলা আকাশে স্বপ্ন দেখুক। তাই প্রত্যেক মহিলাকে আশ্বাস দিচ্ছি, BJP তাঁদের স্বপ্ন নষ্ট হতে দেবে না। বোনেদের সুরক্ষা আমাদের কাছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। ৪ মে সরকার গঠনের পর মেয়েদের উপর হওয়া সব অন্যায়-অত্যাচারের ফাইল খুলবে। এটাই মোদীর গ্যারান্টি।'
'কাল আমি বেলুড় মঠে গিয়ে আশীর্বাদ নিয়ে এসেছি। হাওড়য় রোড শো করেছি, অনেক মানুষের সমর্থন পেয়েছি। আজ নৌকাবিহার করেও গঙ্গার দর্শন করেছি। একবিংশ শতকের নতুন গাঁথা লিখতে চলেছে এই বাংলা। এই রাজ্যের মা-বোনেরা বলছে, আর সহ্য করব না, এবার পাল্টাবই। তৃণমূল মহিলা বিরোধী পার্টি। BJP মহিলাদের উন্নয়নের জন্য কাজ করে।'
'বাংলার জনতার কাছে প্রার্থনা, ভোটের আকার আমাদের আশীর্বাদ দিন। আমরা একসঙ্গে একযোগে বাংলাকে কষ্ট থেকে মুক্তি দেব। তৃণমূলের ভয় থেকেও মুক্তি দেব। দুর্নীতি, সিন্ডিকেট, মহিলাদের উপর অত্যাচার ও অনুপ্রবেশ থেকেও মুক্তি দেব। বাংলার গৌরব ফেরত আনার জন্য এই মুক্তি অত্যন্ত জরুরি।'
পানিহাটিতে শুক্রবার প্রচার সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, 'বাংলায় দীর্ঘসময় ধরে পরিবর্তনের যে হাওয়া দেখা যাচ্ছিল, কাল প্রথম দফার ভোটে তাতে সিলমোহর পড়ে গিয়েছে। কাল BJP-র পক্ষে যে সমর্থন দেখা গিয়েছে, তাতে BJP-র বিজয়ের শঙ্খধ্বনি বেজে গিয়েছে। যে বাংলায় TMC গণতন্ত্রের মন্দির ভেঙে দিয়েছিল, সেই বাংলায় প্রথম দফাতেই জনতা গণতন্ত্রের পুনর্প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছে। এবার দ্বিতীয় দফায় আপনাদের এই গণতন্ত্রের মন্দিরে বিজয় পতাকা তুলতে হবে। তবে এর জন্য তৃণমূল বাজে ভাবে ভ্যাবাচেকা খেয়ে গিয়েছে। গুণ্ডাদের হাত শক্ত করার চেষ্টা করছে ওরা। ময়দানে নামাচ্ছে গুন্ডাদের। আমাদের যাঁরা আশীর্বাদ করছেন, ভুলবেন না এটা বীরের মাটি। তৃণমূলের প্রদীপ নেভার আগে একটু ঝলসে উঠছে। ৪ মে ফলাফল আসার পর তৃণমূলের গুন্ডাদের বাংলায় লোকানোর আর জায়গা থাকবে না। কেউ ওদের বাঁচাতে পারবে না।'
শাহ বলেন, "এখানে অ্যান্টি ইনকমবেন্সি ভয়াবহ আছে। গতবারও ছিল। কিন্তু গতবার প্রচুর ভয় ছিল। অনেকে ভোট দিতে পারেনি। ভয়ে বেরোতে পারেনি। এবার শুরু থেকে শুদ্ধিকরণ হয়েছে। অনুপ্রবেশকারীর নাম কেটেছে। নির্বাচন কমিশনও ভয়মুক্ত ভোটিংয়ের জায়গা তৈরি করে রেখেছে। মুক্তমনে ভোট হয়েছে। পরিণাম আমাদের পক্ষে রয়েছে।"
অমিত শাহ বললেন, 'এখানে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা চরমে। গতবারও ছিল। কিন্তু বহু মানুষ ভোট দিতে পারেনি গতবার। কিন্তু এ বারে শুরু থেকেই প্রচুর ভুয়ো ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে, অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ গিয়েছে। নির্বাচন কমিশন ভয় মুক্ত ভোটিংয়ের লক্ষ্যেই কাজ করেছে। তাই আমাদের পক্ষেই পরিণাম আসবে।'
ঝালমুড়ি, নৌকাবিহার প্রসঙ্গে মমতার বিরোধিতায় জবাব অমিত শাহের। বলেন, "মমতার মানসিকতা এমন হয়েছে যে মোদীজি যদি বলেন, তৃণমূলকে ভোট দিন, মমতা বলবেন না,না দেবেন না, কারণ মোদীজি বলেছেন।"
শাহ বলেন, ‘আমরা আপনাদের কাছে পরিবর্তন চেয়েছি। পরিবর্তন মানে বিধায়ক বা দল বদলে দেওয়া হয়। পরিবর্তনের অর্থ দুর্নীতি দূর করা, সিন্ডিকেট রাজ সমাপ্ত করা, প্রশাসনের উপর থেকে রাজনৈতিক চাপ তুলে দেওয়া। পুরনো নির্বাচন ভুলে যান। শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করছে কমিশন।’ শাহ বলেন, ‘৫ তারিখ থেকে অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গ শাসন করবে বিজেপি।’
শাহ জবাব দেন, "আমাদের জন্য পুরো বাংলাই কঠিন ছিল। ৩টি সিট ছিল। এখন তো আমরা ৭৭টি আসনের পিঠে বসে আছি। এখান থেকে জয় খুবই সহজ। সরকার রাজনৈতিক দল বানায় না, জনতা বানায়।"
দক্ষিণবঙ্গে ভোট নিয়ে অমিত শাহ বললেন, 'আমাদের কাছে পুরো বাংলাই কঠিন ছিল। ৩টে মাত্র সিট ছিল। এরক অনেক রাজ্য ছিল। এখন ৭৭টি আসনে বসে আছি, এখান থেকে সরকার বানানো খুব সহজ।'
শাহ বলেন, "দেশের বৃহৎ অংশ নরেন্দ্র মোদীর বিকশিত ভারতের সঙ্গে জুড়ে গেছে। আমি মানি এই ভরসা ভোটে বদলে বিজেপির জয় করাবে। দ্বিতীয় দফার ভোটারদের বলছি, মুক্ত হয়ে, নিজের ইচ্ছায় ভোট দিন। পুরনো দিনের ভোট ভুলে যান। আগামীতে সোনার ভবিষ্যতের জন্য ভোট দান করুন। নির্বাচন কমিশন এবার খুব কড়াভাবে এবার নজরদারি রাখছে।"
অমিত শাহ বলেন, ‘যে মহিলা মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সন্ধ্যা ৭টার পর মেয়েরা কেন বাইরে বেরোচ্ছেন? তাঁর শাসন করার অধিকার নেই। বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাত ১টাতেও নির্ভয়ে মেয়েরা স্কুটিতে বেরোতে পারবেন। কোনও গুণ্ডা আসবে না। মহিলাদের সংরক্ষণের বিরোধিতা করার জবাবও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়ে যাবেন।’
বাংলা মিডিয়ামে পড়া ব্যক্তি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হবে বিজেপির তরফে। ভাইপো মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবে না। বিজেপির কর্মকর্তাই মুখ্যমন্ত্রী হবে বাংলায়। বললেন অমিত শাহ।
অমিত শাহ বললেন, আমি দিদিকে বলতে চাই, বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী, বাংলায় জন্ম নেওয়া, বাংলাভাষী বিজেপি-র কার্যকর্তা হতে চলেছে। বাংলায় সরকারে এসেই আমরা আগে বাংলার মহিলাদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করব।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বললেন, 'প্রথম দফায় ১৫২টি আসনের মধ্যে ১১০ আসনের বেশি পাবে বিজেপি। কাল রাতে আমরা অ্যাসেসমেন্ট করেছি। আমার কাছে যা ফিডব্যাক, প্রথম দফাতেই বাংলার মানুষ বিজেপি-কে সরকারে এনে ফেলেছেন। দিদি যাচ্ছেন। বিজেপি আসছে। অনেক দিন পরে অঙ্গ, বঙ্গ ও কলিঙ্গে বিজেপি-র শাসন হবে ৫ এপ্রিলের পরে।'
প্রথম দফার ভোটে বিজেপি ১৫২ আসনের মধ্যে কমপক্ষে ১১০টি আসন পাবে। বললেন অমিত শাহ। দ্বিতীয় দফায় আসন আরও বাড়বে। ৫মের পর বাংলায় বিজেপির শআসন হবে।
কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠকে অমিত শাহ বলেন, '১৫২টির মধ্যে ১১০টির বেশি সিটে বিজেপি জিততে চলেছে। প্রথম ও দ্বিতীয় দফা মিলিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চলেছে বিজেপি। গতকালের ভোট শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে। কোনও খুনের ঘটনা ঘটেনি। দ্বিতীয় দফাতেও এভাবেই ভোট হোক।'
কয়েকটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া মোটের উপর শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে প্রথম দফার নির্বাচন। ভোট শেষে বৃহস্পতিবার মধ্য রাত থেকে ভোট বন্দি ইভিএম-সহ ভিভিপ্যাড গণনা কেন্দ্রে পৌঁছনোর কাজ শুরু হয়েছে।
SIR নিয়ে আবার নতুন আবেদন দাখিল সুপ্রিম কোর্টে। যেই ব্যক্তি আবেদন করেছেন, তাঁর SIR আপিল বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। তাঁর আইনজীবী ট্রাইব্যুনালকে দ্রুত মামলাটি শুনানির জন্য নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
প্রথম দফার ভোটের পর হিঙ্গলগঞ্জ থানার অফিসার ইন চার্জ সন্দীর সরকারকে সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন। তাঁর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। সাসপেন্ড করার পাশাপাশি সন্দীপের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরুর নির্দেশও দিয়েছে কমিশন।
সমাজবাদী পার্টির সাংসদ আওয়াধেশ প্রসাদের দাবি, পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে বিজেপি হারছেই। তাঁর কথায়, 'পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুত ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উত্সাহ দেখা গেল। বিজেপি সাফ হতে চলেছে,নিশ্চিত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেকর্ড ভোটের মার্জিন নিয়ে ক্ষমতায় ফিরছেন। গুজরাত থেকে লোক এনে পশ্চিমবঙ্গে ভোট করিয়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারাতে পারবে না বিজেপি। মমতার জয় জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন দিশা দেখাবে।' বস্তুত অযোধ্যায় রাম মন্দির তৈরির পরেও সপা-র আওয়াধেশ প্রসাদের কাছে হেরে গিয়েছে বিজেপি ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে।
পশ্চিমবঙ্গের ভোট নিয়ে এক্স পোস্ট করলেন অমিত শাহ। তিনি লেখেন, 'পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোটে ঐতিহাসিক অংশগ্রহণ করে গণতন্ত্রের এই মহাপর্বে সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দেওয়ার জন্য রাজ্যের ভোটারদের আমি অভিনন্দন জানাই। বঙ্গের ইতিহাসে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ ভোটগ্রহণের জন্য মাননীয় নির্বাচন কমিশন, সমস্ত কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী (CAPFs)-এর সাহসী জওয়ান এবং আমাদের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকেও আমি অভিনন্দন জানাই। এটি বাংলায় সুশাসনের এক নতুন যুগের সূচনা বার্তা বহন করছে।'
পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার নির্বাচনে ভোট দিলেন ৩ কোটির বেশি মানুষ। কমিশন জানাল, এরপর পোস্টাল ও সার্ভিস ভোটার যোগ হবে। ৪ মে গণনা শুরু হওয়ার আগে ফাইনাল সংখ্যা জানা যাবে।
হিঙ্গলগঞ্জে সভা রয়েছে অমিত শাহের। তার আগে সাসপেন্ড করা হল হিঙ্গলগঞ্জ থানার OC-কে। হিঙ্গলগঞ্জ থানার এই OC সন্দীপ সরকারকে সরিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাদের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার মুখ্যসচিবকে এ নিয়ে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি সন্দীপ সরকারের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, কয়েকদিন আগে হিঙ্গলগঞ্জের গ্রামে টাকা বিলির অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনায় একজনকে আটক করেছিল পুলিশ। তারপরই হিঙ্গলগঞ্জের OC-কে সরানোর নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন।
আজ জোড়া জনসভা রয়েছে অমিত শাহের। প্রথম সভা বসিরহাটের হিঙ্গলগঞ্জে। সেখান থেকে তিনি চলে যাবেন শ্রীরামপুরে। সেখানে জনসভা করবেন শাহ। তার পরে ব্যারাকপুরে রোড শো করবেন।
আজও আর কিছুক্ষণ পর পানিহাটির অমরাবতী মাঠে জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অভয়ার মায়ের হয়ে তিনি সেখানে প্রচার করবেন। এছাড়াও, আজ আর একটি জনসভা রয়েছে বারুইপুরে।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হাওড়া এবং ক্যানিং পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রে জনসভা করবেন। সঙ্গে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে একটি রোড শোর কর্মসূচি রয়েছে তাঁর।
আজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রচার সভা করবেন হাওড়া ময়দানে। এর পর তিনি ভবানীপুর এবং কলকাতা বন্দর এলাকায় মিছিল ও জনসভা করবেন। কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের জন্য কলকাতা বন্দর কেন্দ্রে প্রচার করবেন।
কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম প্রার্থী হয়েছেন কলকাতা বন্দর কেন্দ্রে। সেই কেন্দ্রেই প্রচার করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হাওড়া এবং ক্যানিং পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রে জনসভা করবেন। সঙ্গে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে একটি রোড শোর কর্মসূচি রয়েছে তাঁর।