
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোট গ্রহণের মধ্যেই একাধিক হাইপ্রোফাইল সভা আজ। আজ রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আজ তাঁর দু’টি জনসভা। প্রথম সভা বেলা সাড়ে ১২টায় কৃষ্ণনগরে। সেখান থেকে তিনি চলে যাচ্ছেন মথুরাপুর। সেখানেই মোদীর দ্বিতীয় জনসভা রয়েছে। বিকেলে হাওড়ায় রোড শো। লাগাতার প্রচারে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। আজ তিনি টালিগঞ্জ কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অরূপ বিশ্বাসের সমর্থনে বিজয়গড়ে একটি জনসভা করছেন। এর পর চৌরঙ্গী বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া মোড়ে আরও একটি সভায় যোগ দিচ্ছেন তিনি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কলকাতাতেই রয়েছেন। তাঁরও আজ দুটি জনসভা রয়েছে। প্রথম সভা হুগলির বলাগড়ে। সেখান থেকে তিনি চলে যাচ্ছেন আরামবাগ। সেখানে জনসভা করছেন শাহ। তার পরে মধ্যমগ্রামে রোড শো। রাজ্যে প্রথম দফার ভোট আজ। এই পর্যায়ে ১৬টি জেলার মোট ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। মোট বুথের সংখ্যা ৪৪ হাজার ৩৭৬টি। ১৫২টি কেন্দ্রে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ১,৪৭৮। এই দফায় মোট ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেছে নির্বাচন কমিশন।
মমতা বলেন, "জ্বলছে উত্তরপ্রদেশ, বিহার... বাংলা নয়। বাংলা জ্বলছে না, ভোটের বাক্স খুলবে আর দেখবেন বিজেপি জ্বলছে আর লুচির মতো ফুলছে। এত ভোট কাটার পরও কেন এত ভোট পড়ছে জানেন? এটা মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াই। কারণ এরপরে NRC করবে। ডিলিমিটেশন করবে। বিল হয়ে গিয়েছিল।"
ফের অনুপ্রবেশকারীদের বাংলা ছাড়া করার বার্তা দিলেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, 'দেশকে আমরা মাওবাদী মুক্ত করেছি। এবার বাংলা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের তাড়াবো।'
'মমতা চান ভাইপোকে মুখ্যমন্ত্রী করতে। সেটা কি হওয়া উচিত? বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলায় থাকা, বাংলা মিডিয়ামে পড়া একজনকে মুখ্যমন্ত্রী বানানো হবে। মমতা দিদির খুশি হওয়ার কিছু নেই। তিনি তাঁর ভাইপো নন। এখানে আলুর দাম পাওয়া যায় না। বিজেপি এলে, আলুর সঠিক দাম পাবেন।' বললেন অমিত শাহ
ফের একবার বাংলায় বাবরি মসজিদ তৈরির বিরোধিতায় সরব হলেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, 'যতক্ষণ বাংলায় BJP-র একজন কর্মীও বেঁচে থাকবেন, বাংলায় কোনও বাবরি মসজিদ তৈরি হবে না। একটি ইটও গাঁথতে দেওয়া হবে না।'
নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থাপনায় মোদীর পর সন্তুষ্ট অমিত শাহও। তিনি প্রচার সভা থেকে বলেন, '২৯ তারিখের একজন ভোটারের গায়েও হাত দিলে সব গুন্ডাদের বঙ্গোপসাগরে ফেল দেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশন অনেক ভাল বন্দোবস্ত করেছে। কোনও চিন্তার কারণ নেই। ভয়ের কোনও কারণ নেই।'
'ক্ষমতায় এলে মাছ রফতানির ব্যবস্থা করা হবে। কাকদ্বীপের জেলেরা যেন শুধু এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকেন। তাঁদের মাছ যেন গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। তাই ক্ষমতায় এলেই ফিশ এক্সপোর্ট মার্কেট হবে এখানে।' প্রতিশ্রুতি দিলেন মোদী
মোদী বলেন, ‘মথুরাপুরের ভাঙা মেলা রাজ্য সরকারের সমর্থন পায়নি, যা পাওয়া উচিত ছিল। এটা রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতার সবচেয়ে বড় নিদর্শন। এই ভাঙা মেলাকে আমরা স্বচ্ছ ভারতের অংশ বানাব। মেলার প্রাঙ্গনে আমরা মার্কেট হাব তৈরি করব।’
মোদী বলেন, 'সব ব্যাপারে কাটমানি লাগে TMC-র। চাকরি কাকে দেওয়া হবে তা ওরা টাকা নিয়ে ঠিক করে। জমি কিনতে হলে মস্তান, দাদাদের পয়সা দিতে হয়। এদের জন্য গরিব ও মধ্যবিত্তদের সমস্যায় পড়তে হয়। ঘর বানাতে হলে, রেশন নিতে হলেও কাটমানি দিতে হয়। চাষিদেরও কাটমানি দিতে হয়। ৪ মে এই সিন্ডিকেটের এক্সপায়েরি ডেট। এড়পর সব হিসেব হবে। কাটমানির খেলা চলবে না। মাফিয়াদের মেলা চলবে না। এখানে কোল্ড স্টোরেজের সুবিধা নেই। স্মাগলিং চলছে এখানে। সে অস্ত্র হোক, ড্রাগস হোক বাঁ অন্যকিছু সবেতেই TMC-র মদত আছে।'
'প্রতিবছর প্রচুর বাড়ি নদীর জলে তলিয়ে যায়। আমরা যে সব প্রকল্প করেছি, তার সুবিধা আপনারা পান না। তাই এবার বদলে দিন। মথুরাপুরের মেলাকে স্বচ্ছ ভারত মিশনের আওতায় আনা হবে।' বললেন মোদী
'বাংলার দুর্গাপুজো হয়। তারপরেও মহিলাদের সংরক্ষণ আটকে দিয়েছে তৃণমূল। ১৫ বছর জুলুম ল্করেছে TMC। এর জবাব দিন এবারের ভোটে। এর আগে বামেদের শাসন ছিল ৩০ বছর। এরপর ১৫ বছর TMC-কে সুযোগ দিয়েছে মানুষ। আমরা ১১ বছরে সব জায়গায় বিদ্যুৎ দিয়েছি। ১২ কোটি শোচালয় করেছি। ১০ কোটি কৃষককে পিএম সম্মাননিধি যোজনায় আনতে পেরেছি। ৫ কোটি নতুন বাড়ি। এভাবে বলতে গেলে শেষ হবে না। তৃণমূল ১৫ বছরে ধোঁকা দিয়েছে। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান, ফুড পার্ক, বড় শিল্প সবটাই প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু আপনাদের ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, ভোট মিটলে কেউ আসেনি।' বললেন মোদী
'যেভাবে মানুষ আজ সকাল থেকে ভোট দিচ্ছেন তাতে তৃণমূল ধারবে। আমার দেখে মনে হচ্ছে, ৪ মে গোটা রাজ্যে পদ্ম ফুটবে। এটাই বাঙ্গাল্র সরকারকে উপড়ে ফেলার সঠিক সময়। আপনাদের এই ভিড় তৃণমূলের ঘুম ছুটিয়ে দেবে। আমি দেখতে পাচ্ছি, বাংলার মহিলারাই বদল আনবেন। কারণ তারাই এই সরকারের আমলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ। আমাদের বোন, মেয়েদের যেভাবে সমস্যায় ফেলা হয়েছে তা কোনওদিন তারা ভুলতে পারবেন না।' বললেন মোদী
নরেন্দ্র মোদী বলেন, 'শুধু মথুরাপুর নয়, ডায়মন্ড হারবার থেকেও অনেকে এসেছেন। আপনারা এসে প্রমাণ করেছেন, আপনারা কাকে ভোট দেবেন তা ঠিক করে ফেলেছেন। ৪ মে শুধু বিজেপি জিতবে না, পরিবর্তন হবে। সকাল আটটা থেকে এখানে মানুষ আসছেন।'
নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে মঞ্চে আছেন রাহুল সিনহা। শাল দিয়ে বরন করে নিলেন রাজ্যসভার সাংসদ। মঞ্চে রয়েছেন বিপ্লব দেব
মথুরাপুরের সভায় এসে পৌঁছলেন নরেন্দ্র মোদী। সমর্থকদের অভ্যর্থনা গ্রহণ করছেন প্রধানমন্ত্রী।
আর কিছুক্ষণ পরেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরে বক্তব্য রাখবেন নরেন্দ্র মোদী।
দুপুর ১ টা পর্যন্ত সবথেকে বেশি ভোট পড়েছে মুর্শিদাবাদের সামসেরগঞ্জে। ৭১ শতাংশেরও বেশি। জেলার দিক থেকে সবথেকে বেশি ভোট পশ্চিম মেদিনীপুরে ও কম মালদায়।
মোদী বললেন, 'আমাদের আলু চাষি, ধান চাষি, পাট চাষি, সবাইকে ভরসা দিচ্ছি, বিজেপি এলে আপনাদের সব সমস্যার সমাধান করা হবে। আমি আপনাদের বলছি, ডাবল ইঞ্জিন সরকার, ডাবল গতিতে বাংলার উন্নয়ন করবে। তাই সব বুথে বিজেপি-কে জেতান।'
কৃষ্ণনগরের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, 'আজ, পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোট চলছে, তামিলনাড়ুতেও ভোট হচ্ছে। আমি সব ভোটারদের অভিনন্দন জানাই। সবার কাছে আমার আবেদন, এবার ভোটে নতুন রেকর্ড হওয়া চাই। গণতন্ত্রের এই উৎসব আমাদের পালন করতে হবে। আমি ৫০ বছরে এবার প্রথম ভোট দেখছি, যাতে হিংসা সবথেক কম হয়েছে। কমিশনকে ধন্যবাদ। সরকারি কর্মীদেরও অভিনন্দন জানাই, তাঁরাও শান্তিপূর্ণ ভোটে নিজের দায়িত্ব পালন করছেন। এপর্যন্ত যা জানা যাচ্ছে, ভোটও পুরোনো রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছে। নদিয়া শক্তি, সংস্কৃতি ও ভক্তির ভূমি। এখন আমি এই ভূমিতে পরিবর্তনের ঝড় দেখতে পাচ্ছি। কৃষ্ণনগরে আজ ভয় থেকে ভরসার বিশ্বাস দেখতে পাচ্ছি। ভয় চলে যাচ্ছে, ভরসা আসছে। বছরের পর বছর যাদের আওয়াজ দাবিয়ে রাখা হয়েছিল, তাঁরা একসুরে বলছে, পাল্টানো দরকার।'
প্রধানমন্ত্রী মোদী বললেন, 'কৃষ্ণনগরের মৃত্ শিল্পীদের ব্যথা সবাই দেখছে। যাঁদের শিল্পকর্ম দুনিয়াজুড়ে বিখ্যাত, তাঁরাই আজ কাঁদছে। নির্মম সরকার ওঁদের জীবন বেজান বানিয়ে দিয়েছে। তাই আমরা পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা শুরু করেছি। কিন্তু এখানে সরকার বিশ্বকর্মা যোজনা বাংলায় লাগু হতে দিচ্ছে না।'
শিলিগুড়িতে ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ তুললেন এক ভোটার। জীবনে প্রথম বার ভোট দিতে এসে ভোটার শুনলেন তাঁর ভোট পড়ে গিয়েছে। চাঞ্চল্যকর অভিযোগ শিলিগুড়ির রামকৃষ্ণ পাঠশালায়।
মোদী বললেন, 'এবারে ভয় আউট, ভরসা ইন। বিজেপি-কে ভোট দিন। তৃণমূলের নির্মম সরকারের পরিচিতি হল, মিথ্যে বলো, চোখে ধুলো দাও। তৃণমূল প্রতিটি ব্লকে মডেল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল খোলার কথা বলেছিল, বদলে কয়েকশো স্কুল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তৃণমূলের লুঠের মডেল এখানে পুরসভার সবাই দেখেছে। শহরের অবস্থা বেহাল। চারদিকে সমস্যা। কিন্তু তৃণমূলের লোকজন লুঠতে ব্যস্ত। কৃষ্ণনগরের পরিচিতি নদীর জন্য। জলঙ্গি নদীর অবস্থা খারাপ। অঞ্জনা নদী তো ল্যান্ড মাফিয়ারা চুরি করেই নিয়েছে। নদীগুলি সুরক্ষিত নন। এই মহা জঙ্গলরাজ আর চলবে না। আইন সবার হিসেব করবে। যারা আপনাদের লুটেছে, তাদের ফেরত দিতেই হবে। নির্মম সরকারের অ্যাজেন্ডা, অনুপ্রবেশের সঙ্গে, অনুপ্রবেশকারীদের উন্নয়ন। এই দোকান বন্ধ করতে হবে। সীমান্ত তখনই সুরক্ষিত থাকে, যখন পুলিশ, সেনা, বিএসএফ ও নাগরিক মিলেমিশে কাজ করে। ৪মে-র পরে বাংলাতেও সুরক্ষার নয়া গ্যারান্টি শুরু হতে চলেছে। আমি শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর, গুরুচাঁদ ঠাকুর ও বড়োমাকে প্রণাম করে ভরসা দিচ্ছি, আমাদের কোনও মতুয়া, নমশূদ্র পরিবার, শরণার্থী পরিবারদের তৃণমূলকে ভয় পেতে হবে না। আপনাদের গায়ে কেউ হাতও দিতে পারবে না। ধর্মীয় কারণে যাঁরা ভারতে এসেছে, তাঁদের পাশে মোদী আছে। বাংলায় বিজেপি সরকার তৈরি হতেই, সিএএ আওতায় নাগরিকতা দেওয়ার কাজ আরও দ্রুত হবে। আপনারা সেই সব প্রকল্পের সুবিধা পাবেন, যা একজন ভারতীয় পায়। এটা মোদীর গ্যারান্টি। হাঁসখালিতে এক নাবালিকার সঙ্গে গ্যাংরেপ ও হত্যা হল তৃণমূলের ভয় মডেলের উদাহরণ। আপনারা সংসদে দেখলেন, বিজেপি সংসদ ও বিধানসভায় মহিলাদের জম্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ লাগু করতে চেয়েছিল, কিন্তু তৃণমূল চায়নি বাংলার মা-বোনেদের বেশি আসন পাক। তাই কংগ্রেসের সঙ্গে মিলে আইন রুখে দিল। বাংলার মহিলারা তৃণমূলকে এই শাস্তি দেবে। বাংলা পুলিশে মহিলা নিয়োগ বাড়বে বিজেপি এলে। এটা মোদীর গ্যারান্টি।'
মোদীর কথায়, 'দেশে যেখানে যেখানে বেশি ভোট পড়েছে, সেখানেই বিজেপি জিতেছে। ৪ মে বাংলাতেও বিজেপির বিজয় উত্সব হবে। মিষ্টি বিতরণ হবে, ঝালমুড়িও বিতরণ হবে। শুনেছি, ঝালমুড়িও কিছু মানুষকে ঝটকা দিয়েছে। ঝালমুড়ি আমি খেলাম, ঝাল লাগল তৃণমূলের। তৃণমূলের উপর এত রাগ, অনেক জেলায় তৃণমূলের খাতাও খুলবে না। আমি এবারে বাংলায় মা-বোনেদের মধ্যে যে আওয়াজ দেখেছি, তৃণমূলের যাওয়া নিশ্চিত। ১৫ বছর আগে বামেদের বিরুদ্ধে জনতা সাইরেন বাজিয়েছিল। এবারে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সব জায়গায় জনতা শঙ্খ বানাচ্ছে। '
প্রধানমন্ত্রী বললেন, 'এবার ভোটদানের নতুন রেকর্ড তৈরি হোক, আমি অনুরোধ করছি সবাইকে। আমি দেখছি, আমি যত দিন রাজনীতিতে এসেছি, এই প্রথম নির্বাচন, গত ৫০ বছরে, যেখানে হিংসা সবচেয়ে কম। একসময় গুন্ডারাজ চলত বাংলায়। আমি নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে বাংলার মাটিতে। অনেক বড় সিদ্ধি। আমি সরকারি কর্মীদেরও অভিবাদন জানাচ্ছি, শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য দায়িত্বের সঙ্গে কাজ করছেন। এখনও পর্যন্ত জানি, ভোটদানের হারও পুরনো রেকর্ড ভাঙতে চলেছে। নদিয়া ভক্তিবাদের মাটি। শক্তি, ক্রান্তি ও সংস্কৃতির ভূমি। আজ এই মাটিতে আমি পরিবর্তনের ঝড় দেখতে পাচ্ছি। কৃষ্ণনগরে আজ ভয় নয়, ভরসার বিজয়। এই উত্সাহ ভরসার। ভয় চলে যাচ্ছে, ভরসা এগিয়ে আসছে। বছরের পর বছর যাঁদের আওয়াজ দাবানো ছিল, তারা সবাই একসুরে কথা বলছে, স্ত্রী, পুরুষ নির্বিশেষে সবাই বলছেন, পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার। '
বেলা বারোটা পর্যন্ত ৪৫০ অভিযোগ জমা পড়ল নির্বাচন কমিশনে। কোথাও হিংসা, কোথাও প্রার্থীকে মারধর, এমনই নানা অভিযোগ জমা পড়েছে কমিশনের কাছে।
কৃষ্ণনগরে পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একটু পরেই শুরু হবে ভাষণ। মঞ্চে পৌঁছে গিয়েছেন মোদী। তাঁকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করা হচ্ছে।
সল্টলেকে বিজেপি পার্টি অফিসে তৈরি নির্বাচনী ওয়ার রুমে গেলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই ওয়ার রুমে প্রায় ১ ঘণ্টা কাটালেন শাহ।
নির্বাচন কমিশন জানাল, সকাল ১১টা পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে ভোটদানের হার ৪১.১১ শতাংশ। তামিলনাড়ুতে ভোটদানের হার ৩৭.৫৬ শতাংশ। পশ্চিমবঙ্গে সবচেয়ে বেশি ভোটদানের হার পশ্চিম মেদিনীপুরে। ভোট পড়ল ৪৪.৬৯ শতাংশ।
পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের প্রথম পর্বে শিলিগুড়ির জগদীশচন্দ্র বিদ্যাপীঠের ২৬/২৩৭ নম্বর বুথে ভোটগ্রহণ চলছিল। ভোটকেন্দ্রের বাইরে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির কর্মীদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। বিবাদটি দ্রুত বাড়তে থাকে। দুই পক্ষই হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। ওই এলাকার বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর ঘোষও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। কেন্দ্রে মোতায়েন কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) সদস্যরা দ্রুত সাড়া দিয়ে ভিড় ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতার কারণে একটি বড় ধরনের ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে পুনরায় শুরু হতে পারে। শিলিগুড়ির এই এলাকাটি সংবেদনশীল হওয়ায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
ভোট দিলেন শিলিগুড়ি কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর ঘোষ। বলেন, "শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। আমি আশা করি এটা এভাবেই চলতে থাকবে। প্রত্যেককে অবশ্যই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে। আমি শান্তিপূর্ণ ভোট চাই। এবার আমরা সরকার গঠন করব।"
শিলিগুড়ির ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের রামকৃষ্ণ পাঠশালা প্রাথমিক সরকারি স্কুলে ইভিএম বিভ্রাটকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হন ভোটাররা। সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় তাঁদের। অভিযোগ, প্রায় দু’ থেকে আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করার পরেও ভোটদান শুরু করা সম্ভব হয়নি। ঘণ্টা দুয়েক দেরিতে অবশেষে শুরু হয় ভোটগ্রহণ।
রফিউল প্রধান বললেন, “আমার নাম অ্যাডজুডিকেশন লিস্টে উঠেছিল। ভাগ্য ভালো, পরে নামটা ক্লিয়ার হয়। ওই তালিকায় নাম ওঠার পর থেকেই মনে নানা ভয় কাজ করছিল। আমি গ্যাংটকে কাজ করি, কিন্তু ভোটটা নিশ্চিত করতে ফিরে এসেছি। আমি ভারতীয় নাগরিক। আমাদের কাছে ১৯৪২ সাল থেকে নথি আছে। আমার আর বাবার বয়সের ব্যবধান ৫০ বছর হওয়াতেই নামটা ওই তালিকায় গিয়েছিল।” প্রসেনজিৎ বর্মন (৩০) বললেন, “আমি নেপালে নির্মাণকাজ করি। ভোট দেওয়ার জন্য কাজ ছেড়ে ফিরে এসেছি। কে জানে, নইলে আমাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিত! আমি ভারতীয়, আমার পরিবারও ভারতীয়।”
দিনহাটার তৃণমূল প্রার্থী উদয়ন গুহ অভিযোগ তুললেন পুলিশের বিরুদ্ধে। তাঁর বক্তব্য, 'পুলিশ আমাদের কর্মীদের ডেকে পাঠাচ্ছে থানায়। প্ল্যান করে বিজেপি-কে সাহায্য করার চেষ্টা করছেন দিনহাটা থানার আইসি। আজকে ভোট ফেলে লোকে থানায় যাবে?' দিনহাটার আইসির বিরুদ্ধে ফের নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করলেন উদয়ন গুহ।
মুর্শিদাবাদে বোমা ছোড়ার ঘটনাকে নিয়ে হুমায়ুন কবীর বলেন, 'একটা চেষ্টা হয়েছিল। আমি আমার লোকজনকে শান্ত থাকতে বলেছি। ভোট শান্তিপূর্ণভাবে হওয়া উচিত। কাউকে আঘাত করা বা ভয় দেখানোর কোনও ইচ্ছা আমার নেই। আমি সেখানে যাব।'
মালদার মোথাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বালুয়াচারা হাই স্কুলের ভোটকেন্দ্রে EVM বিকল হওয়াকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। সেক্টর অফিসার ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি করায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ ভোটাররা। সেই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন মোথাবাড়ির বিজেপি প্রার্থী নিবারণ ঘোষও। ক্ষুব্ধ ভোটাররা সেক্টর অফিসারকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। এমনকি কয়েকজনকে তাঁর হাত ধরে টানাটানি করতে এবং ধস্তাধস্তিতে জড়াতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলের সেই দৃশ্য ক্যামেরাতেও ধরা পড়েছে।
বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ভোট দিয়েছেন নন্দীগ্রামে। ভোট দেওয়ার পর বড় মন্তব্য করলেন। তিনি বলেন, “সনাতন জিতবে, সনাতনের রক্ষা হবে। এ বার বাংলায় পরিবর্তন হচ্ছে। এ বার পরিবর্তন না হলে বাংলায় সনাতন শেষ হয়ে যাবে।” তিনি নির্বাচন কমিশনের কাজের প্রশংসা করলেও ‘গুন্ডাগিরি’র অভিযোগ তুলে বলেন, সর্বত্র কিছু দুষ্কৃতী সক্রিয় রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরের জন্য আজ কলকাতায় একাধিক রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। আজ বিকেল থেকে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত এই নিয়ন্ত্রণ কার্যকর থাকবে। কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ জানিয়েছেন,আজ বিকেল ৪টে থেকে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টে পর্যন্ত লোকভবনের আশেপাশে কোনও ভারী পণ্যবাহী গাড়ি প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। গভর্নমেন্ট প্লেস পূর্ব এবং এসপ্ল্যানেড রো পূর্বের সংযোগস্থল থেকে ওল্ড কোর্ট হাউস স্ট্রিট এবং বিবাদী বাগ দক্ষিণের সংযোগস্থল পর্যন্ত রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। ওই একই সময়ে হাওড়া ব্রিজ, ব্রাবোর্ন রোডের ফ্লাইওভার, ব্রাবোর্ন রোড, বিবাদী বাগ পূর্ব, ওল্ড কোর্ট হাউস স্ট্রিট, গভর্নমেন্ট প্লেস পূর্ব, দ্বিতীয় হুগলি সেতু, কেপি র্যাম্প, কেপি রো়ড, রেড রোড, নেতাজি মূর্তি, আরআর অ্যাভিনিউ, লোকভবনের দক্ষিণ ফটক এবং লোকভবন সংলগ্ন রাস্তায় পণ্যবাহী গাড়ি প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আজ দুটি জনসভা ও রোডশো। আজ তিনি টালিগঞ্জ কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অরূপ বিশ্বাসের সমর্থনে বিজয়গড়ে একটি জনসভা করবেন। এর পর চৌরঙ্গী বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া মোড়ে আরও একটি সভায় যোগ দেবেন তিনি।
আজ রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আজ তাঁর দু’টি জনসভা। প্রথম সভা বেলা সাড়ে ১২টায় কৃষ্ণনগরে। সেখান থেকে তিনি চলে যাচ্ছেন মথুরাপুর। সেখানেই মোদীর দ্বিতীয় জনসভা রয়েছে।