
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোট গ্রহণের মধ্যেই একাধিক হাইপ্রোফাইল সভা আজ। আজ রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আজ তাঁর দু’টি জনসভা। প্রথম সভা বেলা সাড়ে ১২টায় কৃষ্ণনগরে। সেখান থেকে তিনি চলে যাচ্ছেন মথুরাপুর। সেখানেই মোদীর দ্বিতীয় জনসভা রয়েছে। বিকেলে হাওড়ায় রোড শো। লাগাতার প্রচারে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। আজ তিনি টালিগঞ্জ কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অরূপ বিশ্বাসের সমর্থনে বিজয়গড়ে একটি জনসভা করছেন। এর পর চৌরঙ্গী বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া মোড়ে আরও একটি সভায় যোগ দিচ্ছেন তিনি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কলকাতাতেই রয়েছেন। তাঁরও আজ দুটি জনসভা রয়েছে। প্রথম সভা হুগলির বলাগড়ে। সেখান থেকে তিনি চলে যাচ্ছেন আরামবাগ। সেখানে জনসভা করছেন শাহ। তার পরে মধ্যমগ্রামে রোড শো। রাজ্যে প্রথম দফার ভোট আজ। এই পর্যায়ে ১৬টি জেলার মোট ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। মোট বুথের সংখ্যা ৪৪ হাজার ৩৭৬টি। ১৫২টি কেন্দ্রে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ১,৪৭৮। এই দফায় মোট ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেছে নির্বাচন কমিশন।
মমতা বলেন, "জ্বলছে উত্তরপ্রদেশ, বিহার... বাংলা নয়। বাংলা জ্বলছে না, ভোটের বাক্স খুলবে আর দেখবেন বিজেপি জ্বলছে আর লুচির মতো ফুলছে। এত ভোট কাটার পরও কেন এত ভোট পড়ছে জানেন? এটা মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াই। কারণ এরপরে NRC করবে। ডিলিমিটেশন করবে। বিল হয়ে গিয়েছিল।"
ফের অনুপ্রবেশকারীদের বাংলা ছাড়া করার বার্তা দিলেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, 'দেশকে আমরা মাওবাদী মুক্ত করেছি। এবার বাংলা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের তাড়াবো।'
'মমতা চান ভাইপোকে মুখ্যমন্ত্রী করতে। সেটা কি হওয়া উচিত? বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলায় থাকা, বাংলা মিডিয়ামে পড়া একজনকে মুখ্যমন্ত্রী বানানো হবে। মমতা দিদির খুশি হওয়ার কিছু নেই। তিনি তাঁর ভাইপো নন। এখানে আলুর দাম পাওয়া যায় না। বিজেপি এলে, আলুর সঠিক দাম পাবেন।' বললেন অমিত শাহ
ফের একবার বাংলায় বাবরি মসজিদ তৈরির বিরোধিতায় সরব হলেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, 'যতক্ষণ বাংলায় BJP-র একজন কর্মীও বেঁচে থাকবেন, বাংলায় কোনও বাবরি মসজিদ তৈরি হবে না। একটি ইটও গাঁথতে দেওয়া হবে না।'
নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থাপনায় মোদীর পর সন্তুষ্ট অমিত শাহও। তিনি প্রচার সভা থেকে বলেন, '২৯ তারিখের একজন ভোটারের গায়েও হাত দিলে সব গুন্ডাদের বঙ্গোপসাগরে ফেল দেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশন অনেক ভাল বন্দোবস্ত করেছে। কোনও চিন্তার কারণ নেই। ভয়ের কোনও কারণ নেই।'
'ক্ষমতায় এলে মাছ রফতানির ব্যবস্থা করা হবে। কাকদ্বীপের জেলেরা যেন শুধু এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকেন। তাঁদের মাছ যেন গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। তাই ক্ষমতায় এলেই ফিশ এক্সপোর্ট মার্কেট হবে এখানে।' প্রতিশ্রুতি দিলেন মোদী
মোদী বলেন, ‘মথুরাপুরের ভাঙা মেলা রাজ্য সরকারের সমর্থন পায়নি, যা পাওয়া উচিত ছিল। এটা রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতার সবচেয়ে বড় নিদর্শন। এই ভাঙা মেলাকে আমরা স্বচ্ছ ভারতের অংশ বানাব। মেলার প্রাঙ্গনে আমরা মার্কেট হাব তৈরি করব।’
মোদী বলেন, 'সব ব্যাপারে কাটমানি লাগে TMC-র। চাকরি কাকে দেওয়া হবে তা ওরা টাকা নিয়ে ঠিক করে। জমি কিনতে হলে মস্তান, দাদাদের পয়সা দিতে হয়। এদের জন্য গরিব ও মধ্যবিত্তদের সমস্যায় পড়তে হয়। ঘর বানাতে হলে, রেশন নিতে হলেও কাটমানি দিতে হয়। চাষিদেরও কাটমানি দিতে হয়। ৪ মে এই সিন্ডিকেটের এক্সপায়েরি ডেট। এড়পর সব হিসেব হবে। কাটমানির খেলা চলবে না। মাফিয়াদের মেলা চলবে না। এখানে কোল্ড স্টোরেজের সুবিধা নেই। স্মাগলিং চলছে এখানে। সে অস্ত্র হোক, ড্রাগস হোক বাঁ অন্যকিছু সবেতেই TMC-র মদত আছে।'
'প্রতিবছর প্রচুর বাড়ি নদীর জলে তলিয়ে যায়। আমরা যে সব প্রকল্প করেছি, তার সুবিধা আপনারা পান না। তাই এবার বদলে দিন। মথুরাপুরের মেলাকে স্বচ্ছ ভারত মিশনের আওতায় আনা হবে।' বললেন মোদী
'বাংলার দুর্গাপুজো হয়। তারপরেও মহিলাদের সংরক্ষণ আটকে দিয়েছে তৃণমূল। ১৫ বছর জুলুম ল্করেছে TMC। এর জবাব দিন এবারের ভোটে। এর আগে বামেদের শাসন ছিল ৩০ বছর। এরপর ১৫ বছর TMC-কে সুযোগ দিয়েছে মানুষ। আমরা ১১ বছরে সব জায়গায় বিদ্যুৎ দিয়েছি। ১২ কোটি শোচালয় করেছি। ১০ কোটি কৃষককে পিএম সম্মাননিধি যোজনায় আনতে পেরেছি। ৫ কোটি নতুন বাড়ি। এভাবে বলতে গেলে শেষ হবে না। তৃণমূল ১৫ বছরে ধোঁকা দিয়েছে। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান, ফুড পার্ক, বড় শিল্প সবটাই প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু আপনাদের ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, ভোট মিটলে কেউ আসেনি।' বললেন মোদী
'যেভাবে মানুষ আজ সকাল থেকে ভোট দিচ্ছেন তাতে তৃণমূল ধারবে। আমার দেখে মনে হচ্ছে, ৪ মে গোটা রাজ্যে পদ্ম ফুটবে। এটাই বাঙ্গাল্র সরকারকে উপড়ে ফেলার সঠিক সময়। আপনাদের এই ভিড় তৃণমূলের ঘুম ছুটিয়ে দেবে। আমি দেখতে পাচ্ছি, বাংলার মহিলারাই বদল আনবেন। কারণ তারাই এই সরকারের আমলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ। আমাদের বোন, মেয়েদের যেভাবে সমস্যায় ফেলা হয়েছে তা কোনওদিন তারা ভুলতে পারবেন না।' বললেন মোদী
নরেন্দ্র মোদী বলেন, 'শুধু মথুরাপুর নয়, ডায়মন্ড হারবার থেকেও অনেকে এসেছেন। আপনারা এসে প্রমাণ করেছেন, আপনারা কাকে ভোট দেবেন তা ঠিক করে ফেলেছেন। ৪ মে শুধু বিজেপি জিতবে না, পরিবর্তন হবে। সকাল আটটা থেকে এখানে মানুষ আসছেন।'
নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে মঞ্চে আছেন রাহুল সিনহা। শাল দিয়ে বরন করে নিলেন রাজ্যসভার সাংসদ। মঞ্চে রয়েছেন বিপ্লব দেব
মথুরাপুরের সভায় এসে পৌঁছলেন নরেন্দ্র মোদী। সমর্থকদের অভ্যর্থনা গ্রহণ করছেন প্রধানমন্ত্রী।
আর কিছুক্ষণ পরেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরে বক্তব্য রাখবেন নরেন্দ্র মোদী।
দুপুর ১ টা পর্যন্ত সবথেকে বেশি ভোট পড়েছে মুর্শিদাবাদের সামসেরগঞ্জে। ৭১ শতাংশেরও বেশি। জেলার দিক থেকে সবথেকে বেশি ভোট পশ্চিম মেদিনীপুরে ও কম মালদায়।
মোদী বললেন, 'আমাদের আলু চাষি, ধান চাষি, পাট চাষি, সবাইকে ভরসা দিচ্ছি, বিজেপি এলে আপনাদের সব সমস্যার সমাধান করা হবে। আমি আপনাদের বলছি, ডাবল ইঞ্জিন সরকার, ডাবল গতিতে বাংলার উন্নয়ন করবে। তাই সব বুথে বিজেপি-কে জেতান।'
কৃষ্ণনগরের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, 'আজ, পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোট চলছে, তামিলনাড়ুতেও ভোট হচ্ছে। আমি সব ভোটারদের অভিনন্দন জানাই। সবার কাছে আমার আবেদন, এবার ভোটে নতুন রেকর্ড হওয়া চাই। গণতন্ত্রের এই উৎসব আমাদের পালন করতে হবে। আমি ৫০ বছরে এবার প্রথম ভোট দেখছি, যাতে হিংসা সবথেক কম হয়েছে। কমিশনকে ধন্যবাদ। সরকারি কর্মীদেরও অভিনন্দন জানাই, তাঁরাও শান্তিপূর্ণ ভোটে নিজের দায়িত্ব পালন করছেন। এপর্যন্ত যা জানা যাচ্ছে, ভোটও পুরোনো রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছে। নদিয়া শক্তি, সংস্কৃতি ও ভক্তির ভূমি। এখন আমি এই ভূমিতে পরিবর্তনের ঝড় দেখতে পাচ্ছি। কৃষ্ণনগরে আজ ভয় থেকে ভরসার বিশ্বাস দেখতে পাচ্ছি। ভয় চলে যাচ্ছে, ভরসা আসছে। বছরের পর বছর যাদের আওয়াজ দাবিয়ে রাখা হয়েছিল, তাঁরা একসুরে বলছে, পাল্টানো দরকার।'
প্রধানমন্ত্রী মোদী বললেন, 'কৃষ্ণনগরের মৃত্ শিল্পীদের ব্যথা সবাই দেখছে। যাঁদের শিল্পকর্ম দুনিয়াজুড়ে বিখ্যাত, তাঁরাই আজ কাঁদছে। নির্মম সরকার ওঁদের জীবন বেজান বানিয়ে দিয়েছে। তাই আমরা পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা শুরু করেছি। কিন্তু এখানে সরকার বিশ্বকর্মা যোজনা বাংলায় লাগু হতে দিচ্ছে না।'
শিলিগুড়িতে ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ তুললেন এক ভোটার। জীবনে প্রথম বার ভোট দিতে এসে ভোটার শুনলেন তাঁর ভোট পড়ে গিয়েছে। চাঞ্চল্যকর অভিযোগ শিলিগুড়ির রামকৃষ্ণ পাঠশালায়।