
ফের বাংলায় প্রচারে ঝাঁপাতে চাইছেন রাহুল গান্ধী। কয়েক দিনের ব্যবধানেই ফের রাজ্যে আসার কথা কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেতার। আগামী ২৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার কলকাতায় তাঁর দু’টি গুরুত্বপূর্ণ জনসভা হওয়ার কথা থাকলেও, নির্বাচন কমিশনের কড়া বিধিনিষেধে সেই কর্মসূচি ঘিরে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
মেটিয়াবুরুজ ও পার্ক সার্কাস ময়দানে সভার অনুমতি এখনও মেলেনি বলে জানা গিয়েছে। ফলে কংগ্রেস শিবিরে উদ্বেগ স্পষ্ট। কারণ, বর্তমানে নির্বাচনী আচরণবিধি চালু থাকায় সভা-মিছিলের অনুমতির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন নির্বাচন কমিশনের হাতে।
এবারের বিধানসভা নির্বাচন দু’দফায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম দফার ভোট ২৩ এপ্রিল, আর দ্বিতীয় দফা ২৯ এপ্রিল। কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ আসনে ভোট দ্বিতীয় দফায় হওয়ায় শহরে শক্তি প্রদর্শনে মরিয়া সব রাজনৈতিক দলই। সেই লক্ষ্যেই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মেটিয়াবুরুজ ও পার্ক সার্কাসে সভার পরিকল্পনা করেছিলেন রাহুল গান্ধী।
তবে অনুমতি না মেলায় বিকল্প পরিকল্পনাও ভাবা হচ্ছে। মেটিয়াবুরুজের নির্দিষ্ট এলাকায় ছোট আকারের সভা বা ব্রেবোর্ন কলেজ সংলগ্ন এলাকায় সমাবেশ করার কথাও চিন্তা করা হচ্ছে। যদিও কলকাতায় অনিশ্চয়তা থাকলেও, ২৩ এপ্রিল শ্রীরামপুরে তাঁর সভার অনুমতি ইতিমধ্যেই মিলেছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পার্ক সার্কাস ময়দানে বাম-কংগ্রেস জোটের হয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সঙ্গে একই মঞ্চে প্রচার করেছিলেন রাহুল গান্ধী। এক দশক পর ফের সেই মাঠে সভা করার পরিকল্পনা থাকলেও, প্রশাসনিক জটিলতায় তা এখন অনিশ্চিত।
এর আগে সম্প্রতি রায়গঞ্জ, মালদহ ও মুর্শিদাবাদে সভা করে বিজেপি ও তৃণমূলকে একযোগে আক্রমণ করেছেন রাহুল। এবার প্রথম দফার ভোটের দিনই ফের বাংলায় তাঁর আগমন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে।
তবে কলকাতার সভা আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনুমতির জন্য কমিশনের দ্বারস্থ হচ্ছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। এখন দেখার, কড়াকড়ির মাঝেও কলকাতার মঞ্চে রাহুল গান্ধীর গর্জন শোনা যায় কি না।