
কলকাতার এক ঐতিহাসিক অঞ্চল মেটিয়াবুরুজ। এটি 'মিনি লখনউ' নামেও পরিচিত। নির্বাসিত নবাব ওয়াজিদ আলি শাহের সঙ্গে জুড়ে রয়েছে এই অঞ্চল। জীবনের শেষ ৩১ বছর এখানেই কাটিয়েছিলেন নবাব। এখানেই রয়েছে তাঁর সমাধিস্থল।
১৮৫৬ সালে তিনি লখনউ থেকে সঙ্গে করে রাঁধুনি, শিল্পী, কারিগরদের নিয়ে এসে হুগলি নদীর তীরে নতুন বসতি গড়ে তোলেন। এর ফলে মেটিয়াবুরুজে নবাবী ঐতিহ্য ও বাঙালি সংস্কৃতির এক অনন্য মেলবন্ধন গড়ে উঠেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পোশাকশিল্প, টেলরিং ও পাইকারি জামাকাপড়ের বাজারকে কেন্দ্র করে মেটিয়াবুরুজ একটি গুরুত্বপূর্ণ গারমেন্টস হাবেও পরিণত হয়েছে। মেটিয়াবুরুজ একটি মুসলিম-অধ্যুষিত কেন্দ্র। তবে এটি জেনারেল ক্যাটাগরির বিধানসভা কেন্দ্র। এটি দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ডায়...
কলকাতার এক ঐতিহাসিক অঞ্চল মেটিয়াবুরুজ। এটি 'মিনি লখনউ' নামেও পরিচিত। নির্বাসিত নবাব ওয়াজিদ আলি শাহের সঙ্গে জুড়ে রয়েছে এই অঞ্চল। জীবনের শেষ ৩১ বছর এখানেই কাটিয়েছিলেন নবাব। এখানেই রয়েছে তাঁর সমাধিস্থল।
১৮৫৬ সালে তিনি লখনউ থেকে সঙ্গে করে রাঁধুনি, শিল্পী, কারিগরদের নিয়ে এসে হুগলি নদীর তীরে নতুন বসতি গড়ে তোলেন। এর ফলে মেটিয়াবুরুজে নবাবী ঐতিহ্য ও বাঙালি সংস্কৃতির এক অনন্য মেলবন্ধন গড়ে উঠেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পোশাকশিল্প, টেলরিং ও পাইকারি জামাকাপড়ের বাজারকে কেন্দ্র করে মেটিয়াবুরুজ একটি গুরুত্বপূর্ণ গারমেন্টস হাবেও পরিণত হয়েছে। মেটিয়াবুরুজ একটি মুসলিম-অধ্যুষিত কেন্দ্র। তবে এটি জেনারেল ক্যাটাগরির বিধানসভা কেন্দ্র। এটি দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের একটি অংশ। এই বিধানসভা কেন্দ্রটি কলকাতা পুরসভার ১৩৬ থেকে ১৪১ নম্বর পর্যন্ত ছয়টি ওয়ার্ড এবং মহেশতলা পুরসভার ১ থেকে ১০ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। এটি একটি শহুরে কেন্দ্র।
কবে প্রতিষ্ঠিত হয় আসন?
২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় মেটিয়াবুরুজ কেন্দ্রটি। এখানে তিনটি বিধানসভা ভোট হয়েছে। এটি তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি। একইসঙ্গে চারটি লোকসভা নির্বাচনেও এই কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে থেকেছে। এই কেন্দ্রে তাদের কোনও প্রতিদ্বন্দ্বীও নেই।
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে এই কেন্দ্রের প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থা খুব একটা ভাল ছিল না। সে বছর তৃণমূলের মমতাজ বেগম সিপিআই(এম)-এর বদরুদ্দোজা মোল্লাকে মাত্র ৬,৫৯৪ ভোটে পরাজিত করেন। ২০১৬ সালে তৃণমূল প্রার্থী পরিবর্তন করে। এই আসনে আবদুল খালেক মোল্লাকে দাঁড় করায়। তিনি সিপিআই(এম)-এর মোমিনুল ইসলামকে ১৭,৯৭৬ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দেন। ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল ব্যবধানে আসনটি ধরে রাখে। আবদুল খালেক মোল্লা বিজেপির রামজিৎ প্রসাদকে ১,১৯,৬০৪ ভোটে পরাজিত করেন। লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রের ভোটের ট্রেন্ড ঠিক একই রকম। শুরুতে তৃণমূল কংগ্রেস কিছুটা নড়বড়ে অবস্থায় ছিল। কিন্তু তারপর খেলা ঘুরে যায়। বিজেপি সেভাবে রুখেই দাঁড়াতে পারেনি।
২০০৯ সালে তৃণমূল কংগ্রেস সিপিআই(এম)-এর থেকে ৮,৪০৪ ভোটে এগিয়ে ছিল। তবে ২০১৪ সালে সেই ব্যবধান কমে যায়। হয়ে যায় ২,৫১১। তবে বামেদের পতনের পর লড়াই একতরফা হয়ে পড়ে। ২০১৯ সালে তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির থেকে ৯৭,১৭৬ ভোটে এগিয়ে যায়। আর ২০২৪ সালে লিড বেড়ে দাঁড়ায় ১,১৫,৭৪০ ভোট। SIR-এর খসড়া ভোটার তালিকা অনুযায়ী মেটিয়াবুরুজ বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ২,৭৬,৯২৬। আর এখানে ভোটার সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালে ছিল ২,৬১,৮২১, ২০২১ সালে ২,৫৬,৩১৫, ২০১৯ সালে ২,৩৩,৬৩৬, ২০১৬ সালে ২,২৩,৬৯০ এবং ২০১১ সালে ১,৮২,২৫০। মোট ভোটারের মধ্যে মুসলিম ভোটারদের সংখ্যা ৬৯.২০ শতাংশ। আর তফসিলি জাতির ভোটার ৩.৩৯ শতাংশ। এটি একটি শহুরে কেন্দ্র। তবে এখানে চিরকালই ভোটের হার বেশি। যেমন ধরুন- ২০১১ সালে ৭২.৬৪ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৭৩.৩৯ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৭১.৭০ শতাংশ, ২০২১ সালে ৭৬.৭৬ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৭৫.৭৬ শতাংশ ছিল ভোটের হার।
মেটিয়াবুরুজ কলকাতার দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে, হুগলি নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত। এখানকার ভূপ্রকৃতি নিম্ন গঙ্গা বদ্বীপের পলিমাটি দিয়ে তৈরি। এখানকার অর্থনীতি মূলত পোশাক ও বস্ত্র শিল্পের উপর নির্ভরশীল। অসংখ্য টেলরিং ইউনিট ও পাইকারি জামাকাপড়ের বাজার রয়েছে। এখানে নবাবী ঐতিহ্যের ছাপ স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। ওয়াজিদ আলি শাহ ও তাঁর পরিবারের সমাধিস্থল, তাজিয়া, পারস্য শিল্পকর্ম ও রাজকীয় কবরস্থান দেখা যায়। এছাড়াও ছোট ছোট ইমামবাড়া ও মসজিদ রয়েছে এখানে। মেটিয়াবুরুজে বিদ্যুৎ ও জল জলের ব্যবস্থা পর্যাপ্ত। বাজার, হাসপাতাল ও স্কুল রয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত। এই এলাকাটি ব্রেস ব্রিজ বা সন্তোষপুরের কাছে অবস্থিত।
মাথায় রাখতে হবে যে এখানে মুসলিম ভোটার বিপুল সংখ্যায় রয়েছে। তাই এবারের ভোটেও অ্যাডভান্টেজ তৃণমূল। বিজেপির এখানে জেতা খুব কঠিন। আর বাম বা কংগ্রেসের অবস্থাও খারাপ। তাই এটা সহজেই ধরে নেওয়া যায় যে এখানে তৃণমূল কংগ্রেস অনেকটাই এগিয়ে থাকবে। তাঁদের হারানো খুব কঠিন।
Ramjit prasad
BJP
Nuruzaman molla
RSSCMJP
Nota
NOTA
Pranati paul
AMB
Krishnendu sengupta
IND
Samsad alam
BSP
Md. imtiyaz alam
IND
Sabnam bibi
AIMF
Firoza khatun
JSTDVPMTP
Anwar raza
IND
Monirul islam
CPM
Sanjay singh
BJP
Nota
NOTA
Ahammad ali molla
IND
Abdul rahim
IUML
Bedar bakht
RLD